৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, মঙ্গলবার ২০ নভেম্বর ২০১৮ , ৬:২৪ অপরাহ্ণ

rabbhaban

“রাজনীতি বুঝি না ভাই, আমরা বুঝি দেশের উন্নয়ন”


রনজিৎ মোদক || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৭:২৫ পিএম, ৮ নভেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার


“রাজনীতি বুঝি না ভাই, আমরা বুঝি দেশের উন্নয়ন”

জনগনের কল্যাণে রাজার যে নিয়ম নীতি তার নাম রাজনীতি। এক কথায় বলে “রাজার নীতি, রাজনীতি”। রাজতন্ত্র বিদায় নেয়ার পর প্রজাতন্ত্র এলো। প্রজাতন্ত্রের সিড়ি বেয়ে এলো গনতন্ত্র। গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে রাজনীতিবিদরা অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করে থাকেন। বর্তমানে রাজনীতিবিদদের চেয়ে রাজনীতিজীবিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে যে সমস্ত রাজনীতিবিদ, শিল্পী, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবি, আইনজীবিরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন তাদের মধ্যে মহাত্মা গান্ধীজি, জহরলাল নেহেরু, মোঃ আলী জিন্নাহ, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু, সোহরাওয়ার্দী, এ কে ফজলুল হক, মাওলানা আব্দুল হামিদ খাঁন ভাষানী, কাজী নজরুল ইসলাম, প্রীতিলতা, সূর্যসেন, ক্ষুদিরাম, অভিরাম, চারণ কবি মুকুন্দ দাস, দেশ বন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামসহ এরা প্রত্যেকেই দেশের স্বাধীনতা ও জনগনের অধিকার আদায়ে কাজ করে গেছেন। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারত ও পাকিস্তান দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। তাদের নীতি আদর্শকে সামনে রেখেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এর নেতৃত্বে ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৬-এর ৬ দফা, ৬৯-এর গণ অভ্যুথান, ৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বৈরাচারী পাকিস্তানি শাসকের বিরুদ্ধে মুক্তি সংগ্রামে ৩০ লাখ বাঙ্গালীর রক্ত ও ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম এর বিনিময়ে আজকের এই স্বাধীন বাংলাদেশ।

দেশ স্বাধীন হওয়ার ২ বছর যেতে না যেতেই এক শ্রেনীর রাজনীতিবিদরা ক্ষমতার নেশায় বিভাজন হতে লাগলেন। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে বহু রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটতে শুরু করলো। সেসব রাজনৈতিক দলের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীরাও সুযোগ বুঝে নেতা-নেত্রীর আসন দখল করে নেয়। তারা আজরাইলের ন্যায় রাজনীতির শিরায় শিরায় বিচরণ করতে লাগলেন।

তারা প্রতিবন্ধী বাসন্তীকে জাল পরিয়ে জাতির সামনে তুলে ধরতে কুণ্ঠিত হয় নাই। যা আজও বিতর্কিত বিষয় বলে উল্লেখ রয়েছে। দেশের খাদ্যাভাব আইন শৃঙ্খলার অবনতির অযুহাতে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতার লোভে এক শ্রেনীর বিপদগামী সৈন্যরা জাতির পিতাকে সহ পরিবারে হত্যা করে। ভাগ্যক্রমে রক্ষা পান শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা। জেলখানায় হত্যা করা হলো জাতীয় ৪ নেতাকে। শুরু হলো মোস্তাক যুগ। রাজনীতিবিদরা গা ঢাকা দিলেন। এর পর শুরু হলো জিয়ার যুগ। ক্রমে ক্রমে রাজনীতিবিদদের আগমন ঘটতে শুরু হলো রাজনীতিতে। জিয়ার যুগের পর বেগম খালেদা জিয়া আসলেন রাজনীতিতে বিএনপি দলের পক্ষে। তাকে আড়াল করে একশ্রেনীর রাজনীতিবিদরা টেন্ডার বাজি থেকে শুরু করে খাস জমি দখল, বন উজাড়, দলীয় প্রভাবের মাধ্যমে চাদাঁবাজী, অর্থ পাচার ও বিভিন্ন কর্মকান্ডের সাথে তারা নিজেকে স্বাচ্ছন্দে জড়িয়ে নেয়। পরবর্তীতে ওয়ান ইলেভেনে সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার দূর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরেন। জনগণ তত্তাবধায়ক সরকারের উপর আশ্বস্ত হলেও পরবর্তীতে তাদের কর্মকান্ডের প্রেক্ষিতে তাদের উপরে জনগণের আস্থার ভাটা পড়ে। এভাবেই আসে রাজনীতিতে বিভিন্ন নেতাকর্মী যাদের আখ্যায়িত করা রাজনীতিজীবি হিসেবে। তাদের মূল উদ্দেশ্য কৌশলে লুটপাট, টেন্ডার বাজি, চাঁদাবাজি, দূর্নীতি, বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত এসব রাজনীতিজীবিরা। যে কারণে প্রকৃত রাজনীতিবিদদের উপরেও জনগনের আস্থার ব্যতয় ঘটছে। বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতি নোংরা রাজনীতি হিসেবে পরিচিত।

এক চা বিক্রেতার কাছে রাজনীতিবিদদের সম্মন্ধে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওরা কি রাজনীতি করে? ওরাতো মানুষ মারা গুম করা পেট্রোল দিয়ে মানুষরে জ্বালাইয়া দেওয়াই ওগো কাম। রাজনীতি করছে আমাগো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মাওলানা ভাষানী, ফজলুল হক, সোহরাওয়ার্দী আরো অনেকে। আমরা ভাই “রাজনীতি বুঝি-টুঝি না, আমরা বুঝি দেশের উন্নয়ন”।

বর্তমানে বাংলাদেশের ধারাবাহিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে দেশপ্রেমিক প্রকৃত রাজনীতিবিদদের এগিয়ে আসা উচিত বলে সচেতন মহল মনে করেন। লেখক : সভাপতি ফতুল্লা রিপোর্টার্স ক্লাব।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

মন্তব্য প্রতিবেদন -এর সর্বশেষ