প্রসঙ্গ থানায় ঢুকে পুলিশকে গুলি ও এসপি হারুনের হুশিয়ারী বার্তা

খাদেমুল ইসলাম || অতিথি লেখক ০৯:০০ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৯ শনিবার

প্রসঙ্গ থানায় ঢুকে পুলিশকে গুলি ও এসপি হারুনের হুশিয়ারী বার্তা

বাংলাদেশের বর্তমানে যে কতজন আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা আছে তাদের শর্টলিস্টে হারুন অর রশিদের নাম থাকবে এতে কোন সন্দেহ নাই। হারুন অর রশিদ মূলত এসপি হারুন নামেই পরিচিত। ঢাকা মেট্রোপলিট্রন সামাল দেওয়া এ আলোচিত কর্মকর্তা মাঝে ছিলেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার। মাঝে আবারো ডিএমপি মাড়িয়ে আসেন রাজধানী লগোয়া নারায়ণগঞ্জে।

গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নারায়ণগঞ্জের মত জায়গাতে তিনি পুলিশের কর্তা ব্যক্তির নেতৃত্ব সামাল দিয়েছেন বেশ শক্ত হাতেই। যদিও তখন তাঁকে অপসারণ করতে যখন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেন তখনই অভিযোগে বিদ্ধ থাকা পুলিশ সুপার হারুনুর রশিদ প্রমাণ দেন তিনি নির্বাচনে সব দলকেই সমান সুযোগ দিচ্ছেন। তার সেটাকে জাহির করতেই যখন নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ফখরুল ইসলাম আলমগীর যেতে পথিমধ্যে কাঁচপুরে বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল তখন রকেট গতিতে সেখানে হাজির জন হারুনুর রশিদ। তার নেতৃত্বে পুলিশের বহর নিরাপত্তা দিয়ে সভাস্থলে পৌছে দেন মির্জা ফখরুলের গাড়ি বহর। ফেরতও পাঠান যথার্থ সম্মান দেখিয়েই।

নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছিল না বিএনপি দাবী করলেও জেলার কোথাও বিএনপির লোকজন তেমন কোন বাধাগ্রস্ত হয়নি। যদিও বেশ কিছু মামলার আসামী হয়ে বিএনপির নেতারাই ঘরকুনো আর পলাতক হয়ে যান। যা অনেকটাই দ্ইু কূল রক্ষার করার শামিল।

এসপি হারুনের যে নাম ছিল সেটার যথার্থতা তিনি নারায়ণগঞ্জে এক অর্থে দেখাতে পারেনি। কারণ তাঁর নাম সাধারণ আলোচিত খাতায় উচ্চারিত হতো সমালোচনার পাত্র হিসেবে। এ জেলার লোকজন এ পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে এখনো সমালোচনার মত কেমন কোন খাত খুঁজে পায়নি।

আর এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জের নাগরিক সমস্যা সমাধানে নেমেছেন পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ।। যদিও এর আগের অনেক পুলিশ সুপারও নারায়ণগঞ্জ শহরের এসব নাগরিক সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এসেছিলেন। কিছুদিন তারা বেশ সরব থাকলেও পরে ভেস্তে যায় সকল উদ্যোগ। এরই মধ্যে হারুন অর রশিদ বেশ সরবভাবেই বলেছেন তিনি এসব সমস্যা মোকাবেলা করবেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব নাগরিক সমস্যা সমাধান করতে পারলে হারুন অর রশিদ আলোচিতদের মধ্যে আরো হিরো বনে যাবেন।

১০ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ভূমিদস্যূ, মাদক ও যানজট নিরসনে কাজ করবো। ডিসেম্বর ছিল নির্বাচনের। জানুয়ারি মাস থাকবে যানজট মুক্ত, হকার মুক্ত এবং মাদক মুক্ত নারায়ণগঞ্জ হিসেবে।

মাদক, ভূমিদস্যূদের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারী দিয়ে এসপি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স থাকবে। মাদকের কোন ছাড় নাই। যেখানে মাদক, ভূমিদস্যূ সেখানে অভিযান চলবে। বাসযোগ্য করার জন্য যা যা করার প্রয়োজন তাই করবো।

শহরের যানজট ও হকার মুক্ত করার অভিযানের বিষয়ে এসপি বলেন, জেলা প্রশাসন সহ জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা হয়েছে আমরা দ্রুত এ বিষয়ে কাজ করবো।

কিন্তু পুলিশ সুপারের এসব আশার বাণীর পেছনে আলোচিত একটি ঘটনা চাপা পড়ে যাচ্ছে। ওই ঘটনার ফলাফলই বলে দিচ্ছে কিছু উদ্যোগের বাস্তবায়ন নিয়ে। কারণ ওই ঘটনার পেছনেও লুকায়িত অনেক বড় রহস্য যা ভেদ করা সাধারণ মানুষের জন্য বেশ দুর্ভেধ্য।

২৪ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১০টায় সদর মডেল থানায় ঘটে আলোচিত একটি ঘটনা। ওই সময়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, সোমবার রাতে আল জয়নাল সদর থানায় এসে ডিউটি অফিসার এএসআই আনোয়ারকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি ছুড়ে। গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত যে থানার ডিউটি অফিসারকে হত্যা করতেই এ কাজটি করেছেন জয়নাল।

কিন্তু পরদিন আবার জয়নাল ছাড়া পেয়ে যান। যদিও জয়নাল দাবী করেন, তিনি কাউকে গুলি করেন নাই। পুরো ঘটনাটি ভিন্ন। অথচ ঘটনার পর থানার ওসি আবার রাতেই ভোল পাল্টে গণমাধ্যমকে বলেন তাকেই নাকি গুলি করা হয়েছিল।

সাধারণ মানুষের ভেতরেও প্রশ্ন জাগছে, থানার ওসি যেখানে বলেন তাকে গুলি করা হয়েছিল। আর সেই ব্যক্তি যখন পরদিন ছাড়া পেয়ে যায় তখন পুলিশ সুপারের নারায়ণগঞ্জের আবর্জনা জঞ্জাল সরানোর মিশন আদৌ কতটুকু বাস্তবায়ন হবে সেটা নিয়েও অনেকে সহিন্দান।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও