নারায়ণগঞ্জ জুড়েই চলছে বাড়িভাড়া নৈরাজ্য, দণ্ডে ভাড়াটিয়ারা

রণজিৎ মোদক || অতিথি লেখক ০৮:৩৫ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০১৯ বুধবার

নারায়ণগঞ্জ জুড়েই চলছে বাড়িভাড়া নৈরাজ্য, দণ্ডে ভাড়াটিয়ারা

প্রায় ২১ লাখ মানুষের বসবাস নারায়ণগঞ্জে। তবুও জীবিকার তাগিদে এই শহরকেই বেছে নিচ্ছেন সবাই। ঢাকার পাশ্ববর্তী শিল্প ও আবাসিক এলাকা হওয়ায় তাই প্রতিদিনই এ সংখ্যা বাড়ছে। আর বাইরে থেকে আসা মানুষের একমাত্র আশ্রয়স্থল ভাড়া বাসা। আর এ সুযোগে কোনো প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বাড়ির মালিকরা ভাড়ার বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দেন ভাড়াটিয়াদের কাঁধে। প্রতিবছরই জানুয়ারি মাস এলেই মালিকপক্ষের ভাড়া বৃদ্ধির চাপ নিতে হয় ভাড়াটিয়াদের। আর গুণতে হয় অতিরিক্ত অর্থ। আয়ের সাথে ব্যয়ের কোনো সামঞ্জস্য না থাকায় অর্থ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে ভাড়াটিয়ারা।

এছাড়া বাড়ির ভাড়া কেমন হবে, কখন ভাড়া বাড়বে, ভাড়াটিয়াকে কখন উচ্ছেদ করা যাবে, অগ্রিম জামানত গ্রহণ, ভাড়া আদায়ের রশিদ প্রদান, লিখিত চুক্তি, বাড়ি মেরামত ও বসবাস যোগ্য কিনা- বিষয়গুলো নিয়ে কোনো ধরণের আইনী তোয়াক্কা করেন না বাড়ির মালিকরা। অন্যদিকে, বেশির ভাগ ভাড়াটিয়া বিষয়গুলো না জানায় সব অনিয়ম মুখ বুজে সহ্য করেন। পুরো নারায়ণগঞ্জ জুড়েই যেন চলছে বাড়িভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য। বাড়িওয়ালাদের ইচ্ছামাফিক বাড়িভাড়া বাড়াচ্ছেন। আর বিদ্যুৎ, গ্যাস ও নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়িভাড়ায় নৈরাজ্য ভাড়াটিয়া জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। আর প্রতি বছরের ন্যায় নারায়ণগঞ্জে প্রায় সব বাড়িওয়ালাই ইতোমধ্যে জানুয়ারি থেকে ভাড়া বৃদ্ধির নোটিশ দিয়েছেন ভাড়াটিয়াদের। এ বৃদ্ধির পরিমাণ সর্বনিম্ন ৩০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বলে জানিয়েছেন ভাড়াটিয়ারা।

চাষাঢ়া এর বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এখন যে বাসায় আছি সেখানে তিন বছরে ভাড়া বেড়েছে ৫ হাজার টাকা। ১২ হাজার টাকা ভাড়ায় উঠেছি। এখন দিতে হচ্ছে ১৭ হাজার টাকা। এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে গেলে বাড়িওয়ালা বাসা ছেড়ে দিতে বলে।’

ফতুল্লার নিয়ামুল ইসলাম নামের আরেক ভাড়াটিয়া বলেন, ‘জানুয়ারি হচ্ছে ভাড়া বৃদ্ধির মাস। প্রতি বছর বাড়ি ভাড়ার সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিও নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই শহরে ভাড়াটিয়া হিসেবে টিকে থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠেছে।’

সরকার ১৯৯১ সালে ‘বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন’ প্রণয়ন করে। বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রক, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রক ও উপ-নিয়ন্ত্রক নিয়োগেরও বিধান রাখা হয়েছে আইনে। আইনটি প্রণয়নের পর এলাকা ও অবস্থানভেদে ভাড়ার হারও নির্ধারণ করে। কিন্তু পরে এসব কিছুই আর বাস্তবায়ন করা হয়নি। বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণের জন্য ২৬ বছর আগে আইন করা হলেও তার বাস্তব প্রয়োগ দেখা যায়নি কোনোদিন। বাড়িভাড়া নিয়ে বিরোধের কারণ চিহ্নিত করতে ২০১৫ সালের ১ জুলাই উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিশন গঠন করার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। ছয়মাসের মধ্যে এই কমিশন গঠন করতে বলে উচ্চ আদালত। কিন্তু এ বিষয়েও সরকারের কোনো পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। যার ফলে মালিকপক্ষ ইচ্ছামাফিক দিন বাড়িভাড়া বৃদ্ধি করেই চলছে। এব্যাপারে জনবান্ধব সরকারের সংশ্লিষ্ট ও ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন ভুক্তভোগী দাবি করেন।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও