চলে এসেছে সেই শোকাবহ দিনটি

মাসুম বিল্লাহ || সভাপতি আড়াইহাজার থানা প্রেসক্লাব ও ইত্তেফাক সংবাদদাতা আড়াইহাজার। ০৩:২৩ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার

চলে এসেছে সেই শোকাবহ দিনটি

চলে এসেছে শোকাবহ দিনটি।  বৃহস্পতিবার  ২২ ফ্রেবুয়ারী সাপ্তাহিক আমাদের আড়াইহাজারের সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি ও ইত্তেফাকের প্রবীন সাংবাদিক কাজী মোদাচ্ছের হোসেন সুলতানের ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী। আমরা শ্রদ্ধাভরা চিত্তে এই মহান ব্যক্তিকে স্মরণ করছি। আজকে আমাদের মাথার উপর সেই মহিরুহের ছায়া নেই। আছে তাঁর দোয়া ও ভালবাসা। তিনি থাকবেন মহিরুহ হয়ে। কাজী মোদাচ্ছের হোসেন সুলতান এই জনপদে সাংবাদিকতার যে বীজ বপন করে গেছেন তা এখন ডালপালা গজিয়ে বিস্তৃত হয়েছে। দিনে দিনে এই আলোকিত অধ্যায় আরো সমৃদ্ধ হবে। তাঁর স্বপ্ন সার্থক হবে। তাঁর স্বপ্ন ছিল তাঁত অধ্যুষিত এই অঞ্চল থেকে একটি পত্রিকা প্রকাশ করা। জীবদ্দশায় তিনি তা শুরু করে গেছেন। তাঁর সেই স্বপ্নের পত্রিকা হচ্ছে ‘সাপ্তাহিক আমাদের আড়াইহাজার’। তিনি স্বল্প পরিসরে শুরু করলেও পাঠক, শুভাকাঙ্খি ও সূধীমহলের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘সাপ্তাহিক আমাদের আড়াইহাজার’ আজকে অনেকটাই সমৃদ্ধ। রঙ্গিন ট্যাবলয়েড আকারে নিয়মিত তা প্রকাশিত হচ্ছে। সপ্তাহের নির্দিস্ট দিনে (রোববার) তা পাঠকের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত এর কোন ব্যত্যয় ঘটেনি। সাপ্তাহিক আমাদের আড়াইহাজার এর টীমওয়ার্ক অত্যন্ত শক্তিশালী।

আমার পিতা কাজী মোদাচ্ছের হোসেন সুলতানই আমার সাংবাদিকতার শিক্ষাগুরু। ষাটের দশকের শুরু থেকেই তিনি দৈনিক ইত্তেফাক এর গোপালদীবাজার সংবাদদাতা হিসেবে কাজ শুরু করেন। তিনি ছিলেন বর্নাঢ্য জীবনের অধিকারী। সাংবাদিকতা জীবনে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত তাকে পেরুতে হয়েছে। কখনো শাসক দলের রোষানলে পড়েছেন। কখনো স্থানীয় রাজনীতিবিদদের রোষাণলে পড়তে হয়েছে। আঘাত এসেছে পারিবারিক জীবনেও। সাংবাদিকতার কারণে অনেক কিছুই হারাতে হয়েছে তাকে। তবু আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। কাজী মোদাচ্ছের হোসেন সুলতান কখনো অন্যায়ের সাথে আপস করেছেন বলে শুনিনি। আমাকেও তেমন শিক্ষা দিয়েছেন।  আমার সাংবাদিকতা জীবনের শুরুতে তিনি অনেক কিছু শিখিয়েছেন। প্রথমে শিখিয়েছেন কিভাবে সংবাদ সংগ্রহ করতে হয়। সব ঘটনাই সংবাদ হয় কিনা। সংবাদের যাচাই-বাছাইয়ে তিনি ছিলেন পাক্কা জহুরী। দেশের প্রধান দৈনিক ইত্তেফাক এ কাজ করতেন বলেই সমাজের প্রতি ও মানুষের প্রতি তার দায়বদ্ধতা ছিল। পিতা হিসেবে তিনি সর্বশ্রেষ্ট পিতা। সাংবাদিক হিসেবে তিনি ছিলেন অত্যন্ত বড়মাপের। ষড়রিপুকে সংবরণ করেই এই জনপদের দুঃখ-দুর্দশার কথা ইত্তেফাকে পাঠাতেন। ইত্তেফাকের দুই লাইনেই প্রশাসনের ভিত নাড়িয়ে দিত। আমি দেখেছি প্রশাসনের লোকজন কিভাবে আমার পিতাকে শ্রদ্ধা করতেন। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সাংবাদিক সুলতান ছিলেন একটা ইন্সটিটিউট। আমাকেও তিনি শিখিয়ে পড়িয়ে পত্রিকায় কাজ দিয়ে গেছেন। আজকে আমি পিতার স্থলাভিষিক্ত হয়েছি দৈনিক ইত্তেফাকে। তাঁর দেখানো পথ ধরেই এগিয়ে চলেছি। সকলের দোয়া আমার চলার পথের পাথেয়।

পরিশেষে এই বলেই শেষ করছি যে, ২২ ফেব্রুয়ারী আমার আব্বার ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী। আমরা তাকে শ্রদ্ধাভরা চিত্তে স্মরণ করছি। আমার আব্বার মৃত্যু সংবাদ শুনে আড়াইহাজারের আপামর জনসাধারণ ছুটে এসেছিলেন কড়ইতলায়। স্থানীয় এমপি, মেয়র থেকে শুরু করে প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তা ও শিক্ষকসমাজের লোকজনও শরিক এসেছিলেন তাঁর নামাজে জানাযায়। আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনারা আমার আব্বার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহপাক যেন তাকে বেহেস্ত নসিব করেন। ওনার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রেসক্লাবে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও