সামনে বলতে পারিনা বলে আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখতে বাধ্য হই

শওকত আলী সৈকত || নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : সময় টেলিভিশন ০৪:৪৭ পিএম, ২৬ নভেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার

সামনে বলতে পারিনা বলে আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখতে বাধ্য হই

পেশাদার সৎ ও নিষ্ঠাবান সংবাদকর্মীরা সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে পেশা পরিবর্তন করছেন তার যথেষ্ঠ কারণ রয়েছে। কিছু স্বার্থবাদী বিস্তৃতি লাভ করে সংবাদ জগতের পরিবেশটা দূষিত করে ফেলছে। ফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পেশাদার সংবাদকর্মীদের উপর। একজন পেশাদার সংবাদকর্মীর কাছে তার পেশাটাই জীবনের একমাত্র অবলম্বন স্বরূপ। কারণ এর বাইরে তার আয়ের আর কোন বিকল্প পথ থাকে না।

আর যারা মামুর জোরে, ভাইয়ের জোরে, পৈতৃক সূত্রে, পারিবারিক সূত্রে অথবা উত্তরাধিকার সূত্রে এ পেশায় এসে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছেন তাদের কাছে এই পেশা জীবনের অবলম্বন নয়, এটা তাদের অস্তিত্ব রক্ষার হাতিয়ার।

কেননা এই হাতিয়ারের বদৌলতে তাদের নানা দিকে নানান ধরনের আয়ের পথ তৈরি হয়ে গেছে। এগুলো রক্ষা করতে হবে এবং আনুপাতিক হারে আরো বাড়াতেও হবে। তাই ছলে বলে কৌশলে যে কোন উপায়েই হোক না কেন এই হাতিয়ারটাকে ব্যবহার করে দল ভারী করে অবস্থানটাকে চিরস্থায়ীভাবে কব্জায় রাখতে হবে।

পত্রিকা অফিসের একজন হিসাব রক্ষক, যিনি জীবনে কোনোদিন একটা সংবাদ লিখেন নাই এমন ধরনের ব্যক্তিকেও এখন সাংবাদিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার রীতি চালু হয়ে গেছে। চাটুকারিতাকে প্রশ্রয় ও প্রাধান্য দেয়ায় যোগ্যতার সঠিক বিচার বিবেচনা হচ্ছে না। অযোগ্যদের দৃষ্টিকটু মূল্যায়ন আর যোগ্যদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। এই বৈষম্যের ফলে আমাদের সম্মানের জায়গাটা আমরা নিজেরাই নষ্ট করছি। মুখে মুখে আমরা নীতি আদর্শের অজ¯্র বুলি আওড়াই। কিন্তু আমাদের কাজেকর্মে নৈতিকতার প্রতিফলন ঘটে না।

এই শহরে আমাদের চোখের সামনে, অগোচরে আরো কতো কিছুই না হচ্ছে। স্বেচ্ছাচারিতা, কারো হক মেরে খাওয়া, আবার কারো মাথা বিক্রি করে খাওয়ার ঘটনাও অহরহ ঘটছে। অনেকে জানে, আবার অনেকে জেনেও চুপ করে থাকে। কেউ প্রতিবাদ করে, আবার কেউ নীরব সমর্থন করে। তবে এই চরিত্রের ব্যক্তিদের কাছে সাংবাদিকতা বা পেশাদারিত্বটা বড় নয়, স্বার্থসিদ্ধ করাটাই হচ্ছে মূল উদ্দেশ্য।

যে কারণে এখানকার পরিবেশটাও ক্রমান্বয়ে দূষিত হতে চলেছে। স্বেচ্ছাচারিতার দাপটে জবাবদিহিতা শব্দটা বিলুপ্ত হয়েছে। একটা সময় আসবে, আমাদের এখান থেকেও অনেকে লাল সালাম দিয়ে স্বেচ্ছায় নির্বাসনে চলে যাবেন সেই ক্ষেত্রটা তৈরি করা হচ্ছে।

আপনাদের লজ্জা নাই, তাই আপনারা পারেনও। পেছনে লোকজন আপনাদের গালাগালি করে সেটা জেনেও ভ্রুক্ষেপ নেই। তবে আমাদের চক্ষু লজ্জা আছে। তাই সামনে বলতে পারিনা বলে আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখতে বাধ্য হই।

স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকারটুকুও যেন হরণ করা হয়েছে। তবে কোনো একদিন এর ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটবে, প্রকৃতি তার আভাস দিচ্ছে। প্রকৃতির খেলা শুরু হয় প্রাকৃতিকভাবেই। এখানে কারো কোন নিয়ন্ত্রন হয় না। কারো কোন ক্ষমতাই কাজে আসে না।

এক সময় প্রশাসনের কর্তাদের সাথে সুসম্পর্ক রাখা হতো পেশাগত প্রয়োজনে। এখন তাদের তাবেদারি করার রেওয়াজ চালু হয়েছে। যে কোন কাজেই তাদের সম্পৃক্ত না রাখলে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যায়। তাহলে এতোদিন আমরা যা শিখেছি সব ভুল শিখেছি, নাকি এখন ভুল শেখানো হচ্ছে? আমরা কিন্তু এখন সেই ছোট্টটি নই, ভালো মন্দ, ন্যায় অন্যায়, উচিত অনুচিত সবকিছু বোঝার জ্ঞাণ আমাদের হয়েছে। তাই সামাজিক দায়বদ্ধতা আর নৈতিকতার কারণে আমরা চুপ করে বসে থাকতে পারি না। কেউ আমাদের মূল্যায়ন করুক আর না করুক আমরা সত্যটা বলবোই।

সবার প্রতি সম্মান রেখে বলি, সব কিছুরই একটা শেষ আছে এবং সীমা লঙ্ঘনকারীকে আল্লাহও পছন্দ করেন না। ইতোমধ্যে সেই আলামত দেখাও শুরু হয়েছে। সবার মঙ্গল কামনা করি। যেহেতু সমাজের মানুষ আমাদের জাতির বিবেক বলেন। আদৌ কি আমাদের বিবেক সঠিক পথে কাজ করে? কেউ বুকে হাত দিয়ে বলতে পারব আমার কোন স্বার্থ নেই? নিজের ভুলগুলো যদি নিজেই সংশোধন করতে শিখি তাহলে অন্য কেউ চোখে আঙ্গুল দিয়ে ভুল ধরিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেতো না।

আমাদের কি উচিত নয় ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য নিজেদের বিবেকটিকে শুদ্ধ করা? শুদ্ধি অভিযানের প্রয়োজন নেই যদি আমরা নিজেরাই স্বেচ্ছায় নিজেকে শুদ্ধ করে নেই। আমরা যদি নিজেদেরকে সংশোধন করে নিতে পারি তাহলে মানুষ পেছন থেকে আমাদের মা-বাবাকে গালিও দিবে না। বরং সামনে এসে মন থেকে স্যালুট দিবে। নিজেদেরকে সেইভাবে আমরা গড়ে তুলতে পারি না? মানুষ বাঁচে কতোদিন? পৃথিবীর মায়াতো একদিন ছাড়তেই হবে। আসার সময় যেহেতু সম্পদ ক্ষমতা মান মর্যাদা কিছুই নিয়ে আসিনি, ফেরত যেতে হবে খালি হাতেই। তাই মানবিক ও ধর্মীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জীবনের বাকী দিনগুলো না হয় মানুষের ভালোবাসা আর আস্থা অর্জন করেই বাঁচি? এমন কি হয় না? দূষিত বাতাসে আমাদের বুকটা ভারী হয়ে উঠছে। আমরা হাঁপিয়ে উঠছি। আমরা সবাই সেটা অনুভব করছি। আমাদের বিশুদ্ধ বাতাস দরকার। আমরা বুক ভরে নি:শ্বাস নিয়ে স্বস্তিতে বাঁচতে চাই। আমাদের মেধাটুকু আমরা মানুষ ও সমাজের কল্যাণে ব্যবহার করতে চাই।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও