পাপিয়াদের পয়দা করলো কারা ?

অরুন কুমার দে || সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট ১০:০৩ পিএম, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ শনিবার

পাপিয়াদের পয়দা করলো কারা ?

তারপর কে এবং কী তা এখনো কেউ জানেন না। জানতে হলে অবশ্যই সময়ের কাছে সময় চেয়ে অপেক্ষা করতে হবে। হয়তো তখনই জানা যাবে, বেপরোয়া পাপিয়ারা কোথায় কীভাবে তাদের পয়দা হয়েছে। কারা তাদের সৃষ্টিকর্তা। কারা তাদের খোদ-খোদা ও ভগবান। কারণ, যুবলীগ নেতা খালেদ, সমরাট, শামীম ও পাপিয়ারা কেউ পাপী হয়ে জন্ম গ্রহণ করেনি। কেউ আলাদীনের চেরাগ পেয়ে রাতারাতি বাড়ি গাড়ি সহ হাজার হাজার কোটি টাকার মালিকও বনেনি। সু-রাজনীতির হেভিওয়েট কতিপয় নেতারাই তাদের কু রাজনীতির পান্ডা বানিয়েছেন। এ জন্যেই হয়তো তাদের লেফ-তোষক উঠালে পাওয়া যায় লাখ ও কোটি কোটি টাকা। আর সাধারণ জনগণের লেফ-তোষক উঠালে পাওয়া যায় ছাঁড়পোকা। এ সময়ে এমনটাই মনে করেন বিজ্ঞ মহল সহ গোটা দেশবাসী ?

বিজ্ঞ মহল আরো মনে করেন, বাংলাদেশ মহিলা যুবলীগের কাজটা কী। তারা দেশের ৬৪ জেলায় কমিটি তৈরী করে মূলতঃ করেনটা কী। নরসিংদী জেলা মহিলা যুব লীগের সাধারণ সম্পাদক পাপিয়াকে বনিয়েছেন কারা। এর পেছনে মদদ রয়েছে কার ও কোন মহারথিদের। ধৃত পাপিয়ার মতো তাদেরকেও আইনের আওতায় এনে কোমরে দড়ি লাগাতে হবে। শুধু টিভি টকশো’তে এসে সাড়ে তিনহাত লম্বা লম্বা কথা বললেই হবেনা।

‘বিচার মানি তবে তালগাছটা আমার’ বলে কখনো উন্নয়ণের জোঁয়ারকে ভাঁটায় পরিণত করা ঠিক হবেনা। কারণ, দেশবাসী লাউ আর কদুর পার্থক্য জানেন। ‘ঝি মেরে বঊ শাসন কাকে বলে’ তাও ভালো করে বুঝেন ?

এটা সত্যি যে, ক্যাসিনো কান্ডের চেয়েও মক্ষিরাণী পাপিয়া কান্ড আরো ভয়াবহ। যাকে বিশ্ব ডনদের সাথে তুলনা করা হলে বেশি বলা হবেনা। যার আশীর্বাদে পাঁচতারকা হোটেলও পরিনত হয়েছে কথিত পতিতাপল্লীতে! মানে, ভালো ভালো মেয়েদের সে সংগ্রহ করে পাঁচতারকা হোটেলে নিয়ে নষ্ট করেছে। অনৈতিক কাজের জন্যে জোর জবরদস্তি তুলে দিয়েছে বদ-বদমাশদের হাতে। বিনিময়ে কামিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। এছাড়া নানাভাবে ব্ল্যাকমেইলিংতো রয়েছেই। জানা মতে, যেসব মক্কেলদের নামধাম রয়েছে পাপিয়ার মোবাইল ফোন কললিস্টে। এ যাবত পাপিয়ার নানা ব্যবসা বাণিজ্য সহ এটুজেড তথ্য পাওয়া গেলেও মুখোশধারী মক্কেলদের তালিকা এখনো পাওয়া যায়নি। কখনো পাওয়া যাবে তেমনটা মনেও হয়না। যেমনটি পাওয়া যায়নি ক্যাসিনো কান্ডের রাজা-রামমোহনদের নাম ঠিকানা ?

মোদ্দা কথায় বলতে গেলে, এখন আর প্রকৃত রাজনীতি নেই। সত্যিকারের রাজনীতিবিদ যারা তাঁরাও নানা কারণে নিস্ক্রিয়। হালে যারা আছেন তাদেরকে লোকে রাজনীতিজীবি বলেই জানেন। এখনতো আবার রাজনীতির মাঠ দখল করে নিয়েছেন শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীরা। যাদের নির্বাচিত হতে নাকি কোনো ভোট লাগেনা। মোটা টাকায় কেনা মার্কা পেলেই হলো। এ কারণেই হয়তো আমি নিজেও অনেক বছর যাবত ভোট দিতে পারিনি। কবে দিয়েছি তাও মনে নেই। আমার ভোট আমার প্রেত্মাতারাই নাকি দিয়ে দিয়েছে। এ জন্যেই এখন আর কেউ ভোট দিতে ভোট কেন্দ্রে যাননা। তাছাড়া, মরার আগে মরে যাওয়ার ভয়ভীতিও থাকেনা কারো। রাজধানীর দু’সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনী ফলাফল দেখলে এমনটাই মনে হয়। বিজ্ঞ মতে, কোনো দেশে গণতন্ত্র না থাকলেই নাকি এমনটা হয়। সে সুবাদে মাথাচাড়া দিয়ে উঠে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। সৃষ্টি হয় যুবলীগ নেতা খালেদ, সমরাট, শামীম ও পাপিয়ারা। অভিযোগ উঠে আইনের শাসন না থাকার। মানুষের শেষ ভরসার স্থল আদালত ও বিচার বিভাগ নিয়েও উঠে নানা কথাবার্তা। ‘কাজীর গরু কিতাবে থাকলেও গোয়ালে নেই’ বলেই বিজ্ঞ বিশ্লেষকরা মনে করেন। তাই যদি সত্যি হয়, তা’হলে দিন দিন দেশটি যাচ্ছে কোথায় ?

হ্যাঁ, গেলো ২২ ফেব্রুয়ারি শনিবার ঢাকা বিমান বন্দর থেকে অনৈতিক ব্যবসা বাণিজ্যের অভিযোগে শামিমা নূর পাপিয়া, তার স্বামি সুমন সহ চার জনকে র‌্যাবের একটি টিম আটক করেন। সে সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় বাংলাদেশি ৭টি পাসপোর্ট, ৭টি মোবাইল, বাংলাদেশি ২লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ টাকার জাল নোট, ভারতীয় রূপি ৩১০, শ্রীলংকান মুদ্রা ৪২০ ও ১১ হাজার ৯১ ইউএস ডলার। তারপরদিন তাদের বুকিং করা হোটেল ওয়েস্টিনের প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব একটি পিস্তল, ২টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ৫ বোতল বিদেশি মদ, নগদ ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা সহ আরো ৫টি পাসপোর্ট, ৩টি চেক বই, কিছু বিদেশি মুদ্রা, বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি ভিসা ও এটিএম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। তথ্য মতে, তাদের রয়েছে দেশ বিদেশে একাধিক ব্যবসা বাণিজ্য সহ একাধিক বাড়ি ও গাড়ি। পাপিয়ারা বর্তমানে আছেন ১৫ দিনের পুলিশি রিমান্ডে।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও