করোনার চেয়েও ভয়াবহ ওই ব্যবসায়ীরা

অরুন কুমার দে || সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট ০৯:০৯ পিএম, ২৪ মার্চ ২০২০ মঙ্গলবার

করোনার চেয়েও ভয়াবহ ওই ব্যবসায়ীরা

ওই অসাধু ব্যবসায়ীদের কথাই বলছি। যারা সমাজে মানবতার অবয়বে দানবতার স্বর্গে বসত করছেন। যাদের মধ্যে নেই কোনো ভয়ভীতি ও পাপ-তাপের ডরভয়। সেই তাদেরকে যদি কেউ দেশ জাতি ও সমাজের শক্র বলেন তাহলে হয়তো বেশি বলা হবেনা।

কারণ বিশ্বজুড়ে যখন বিরাজ করছে মহামারি করোনা ভাইরাস আতঙ্ক। তখন সে আতঙ্কের মুহূর্তেই করোনাকে পুঁজি করে আমাদের দেশের কিছু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী হাঁট-বাজারে বাড়িয়ে দিয়েছেন চাল, ডাল, তেল সহ সব নিত্যপণ্যের দরদাম।

দশ ও পনেরো টাকার পণ্য বিক্রি করেছে তারা ৫০ টাকায়। কিংবা তারও বেশি। যা এখনো অব্যাহত আছে। বিজ্ঞ মতে, হাঁট-বাজারের এ নৈরাজ্যে খোদ সরকার বাহাদুরও নাকি নড়েচড়ে বসেছেন।

এ বিষয়ে ক্রেতা সাধারন বড় গলা করেই বলেন, দিনদুপুরে এমন ডাকাতি হয়তো ‘একাত্তোরেও’ হয়নি। সে সময়ে বিপথগামি এক শ্রেণির কিছু সংখ্যক মানুষকে বাদ দিলে গোটা দেশবাসীই ছিলো ঐক্যবদ্ধ। এ মহাদুর্যোগে সেই ঐক্য আর নেই। তাই এ সময়ে এসে এক কথাতেই বলা যায়, এ মুহূর্তে ‘করোনার চেয়েও ভয়াবহ আতঙ্ক হচ্ছে এদেশের ওই অসাধু ব্যবসায়ীরা’!

পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন, এখনই ওই ব্যবসায়ীদের কালো তালিকাভুক্ত করে তাদের সব লাইসেন্সপত্র বাতিল করা প্রয়োজন। ভ্রাম্যমান আদালতের জেল জরিমানায় কখনো এদের মাথা নতো হবেনা। সুযোগ পেলে আবারও ওরা মাঝা সোজা করে দাঁড়াবে। কথায় আছে, কুকুরের লেজ নাকি ঘি মালিশ করলেও কোনদিন সোজা হয়না। যেমন লেজ তেমনই থেকে যায় ?

এ বিষয়ে সচেতন মানুষজন বলেন, শুধু ব্যবসায়ীদের দোষ দিলেই হবেনা। এখানে বিত্তবান ও বড়লোকদেরও বড় বেশি বাড়াবাড়ি আছে। টাকাওয়ালার টাকা আছে ভালো কথা। আরে বাবা টাকার গরমে এক বস্তা চালের জায়গায় আপনাদের পাঁচ ও দশ বস্তা চাল কেনার কী প্রয়োজন ছিলো।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় হুট করে আপনারাইতো শান্ত বাজারকে অশান্ত করেছেন। সে সাথে মধ্যবিত্ত, নি¤œ মধ্যবিত্ত এবং শ্রমজীবি সহ হতোদরিদ্রদের ফেলেছেন গ্যাড়াকলে। যাদের রোজ রোজি করলে পেটেভাত, তা নাহলে কপালে হাত। সেই তাদের কথা একবারও কী আপনাদের মনে হয়নি?

সচেতন মহল আরো মনে করেন, লুটপাটকারীদের কাছ থেকে জব্দ করা বিপুল পরিমান টাকাকড়ি ও সোনাদানা মহামারিতে আক্রান্তদের জন্যে ব্যয় করা যেতে পারে। তা’ছাড়া, এ সময়ে বিত্তশালিরা বহুতল বাড়ি নির্মাণ না করে সে অর্থ করোনা আক্রান্তদের মাঝে ব্যয় করুণ। আঁখেড়ে ছোয়াব হবে। এক সময় তাদেরই দোয়া দরুদে পাঁচ দশে পঞ্চাশ তলা বাড়িও উঠাতে পারবেন। বিজ্ঞ মতে, এ মূহুর্তে সব রাজনৈতিক দলগুলোকেও এক হতে হবে। পরস্পরের মধ্যে খোঁচা খুঁচি না করে সবাই ঐক্যবদ্ধ হলে এ মহামারি থেকে মুক্তি পাওয়া কিছুটা হলেও হয়তো সহজ হতে পারে। তা’নাহলে এর জন্যে দেশবাসীকে একদিন চরম খেসারত দিতে হবে। যারপর আর কোনো পর থাকবে না?



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও