সাদা মনের মানুষ জাব্বার চিশতির অসময়ে প্রয়াণ

আতাউর রহমান || উপ নির্বাহী পরিচালক - কল্যাণী সেবা সংস্থা ০৭:০৪ পিএম, ২৯ জুলাই ২০২০ বুধবার

সাদা মনের মানুষ জাব্বার চিশতির অসময়ে প্রয়াণ

বড় অসময়ে চলে গেলেন অধ্যাপক ডা. জিএম জাব্বার চিশতি। কি মানব সেবায়, কি সাহিত্য সভায় অথবা সাংগঠনিক কার্যক্রমে যিনি ছিলেন বৃক্ষতুল্য।

বৃক্ষ হিসেবে ভূমিকা রেখে গেছেন সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে। সরকারী বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য যার প্রচেষ্টার অন্ত ছিলনা। জাতীয় পোলিও দিবস, ভিটামিন ক্যাম্পেইন থেকে শুরু করে সকল কর্মকান্ডে দলবল নিয়ে ঝাপিয়ে পরা যার ছিল স্বভাবসুলভ আচরণ কাজ।

সেবামূলক প্রতিটি কাজে যার ছিল সক্রিয় অংশগ্রহণ। তিনি চলে গেলেন এই অসময়ে। কিন্তু কেন তাঁর এ অসময়ে চলে যাওয়া। হাজার হাজার গরীব রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যিনি সারিয়ে তুলেছেন। সেই তিনি কি যথাযথ চিকিৎসা সেবা পাননি?

স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে সরকারী বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছেন তিনি। কিন্তু কোন সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নেয়ার সুযোগ ভাগ্যে জুটেনি জাব্বার চিশতির। পিঠে ফোঁড়া সমস্যা নিয়ে শহরের মেডিস্টার হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। সেখানে জুলাইয়ের ৫ তারিখে তার অপারেশন হয়। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেন। পরে আরেক দফা অপারেশন হয়। এ অপারেশনের দুই দিন পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাইপোগ্লাসেমিয়ায় আক্রান্ত হন তিনি। সুগার নীল হয়ে যায়। শারীরিক স্পন্দন কমে আসে।

এ অবস্থায় বুধবার তাকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানী ঢাকায়। তার আইসিইউ বেডের দরকার ছিল। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে ভর্তি করাতে না পেরে ফিরিয়ে আনা হয় নারায়ণগঞ্জে। তার স্বজন এবং বন্ধুদের পরামর্শে ভর্তি করা হয় সাইনবোর্ড এলাকার প্রোঅ্যাকটিভ হাসপাতালে। রাখা হয় আইসিইউতে। দেয়া হয় অক্সিজেন সাপোর্ট। রোববার রাত ১টায় আল্লাহর ডাকে সারা দিয়ে পরপারে চলে যান তিনি।

একজন নিখাদ ভালো মানুষ ছিলেন তিনি। ঠোঁটের কোনে হাসি লেগেই থাকতো। কারো সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন বলে মনে পড়েনা।

২০১০ সালে নকিয়া তাকে সাদা মনের মানুষ হিসেবে সম্মাননা দেন। ২০১১ সালে তিনি যুব সংগঠক হিসেবে জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত হন।

আশির দশকে কল্যাণী সেবা প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় কবি সংগঠন অনুপ্রাসের মাধ্যমে তার সঙ্গে আমার পরিচয়। সেই থেকে কাজ পাগল এই ভালো মানুষটির সঙ্গে সান্নিধ্য আমার। দিন রাত খেয়ে না খেয়ে কাজ করেছেন তিনি। তার সাথে আমরাও সানন্দে অংশ নিয়েছি মানব সেবায়। সাহিত্য সাধনায়। মানুষের জন্য কাজ করতে করতে নিজের দিকে তাকাবার সময় পাননি তিনি। সময় হয়নি পরিবারের জন্য কিছু করার। কিন্তু তিনি যে এভাবে চলে যাবেন! ভাবতে কষ্ট হয়। বেদনায় ভরে উঠে বুকটা। প্রকৃতির অমোঘ বিধান। মেনে নিতেই হয়। পরপারে ভালো থাকুন চিশতি। এই কামনা করি।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও