১০ বৈশাখ ১৪২৫, মঙ্গলবার ২৪ এপ্রিল ২০১৮ , ১:৩৪ পূর্বাহ্ণ

Kothareya1150x300

রূপগঞ্জে এসআই জিল্লুরের ক্ষমতার দম্ভোক্তি, গ্রেপ্তার বাণিজ্য চরমে


রূপগঞ্জ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৭:৪৮ পিএম, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ শুক্রবার | আপডেট: ০৮:০২ পিএম, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ শুক্রবার


রূপগঞ্জে এসআই জিল্লুরের ক্ষমতার দম্ভোক্তি, গ্রেপ্তার বাণিজ্য চরমে

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জিল্লুর রহমান ক্ষমতার দম্ভোক্তি দেখিয়ে প্রেপ্তার বাণিজ্য করে দু”হাতে টাকা কামাই করছেন। জিল্লুর নিজেকে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) হারুন অর রশিদের ভাই পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অন্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার ক্ষমতার দম্ভে তটস্থ থাকেন থানার অন্যান্য অফিসারবৃন্দ। জানা গেছে এস আই পদে থেকেও থানার ওসি, ইন্সপেক্টর কাউকেই তিনি পাত্তা দেন না। মাদক ব্যবসার বিভিন্ন স্পট থেকে মাসোয়ারা আদায়, মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীদের ছাড়া-ধরাসহ বিভিন্ন ভাবে তার মাসিক আয় দশ লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে মামলা-হামলাসহ বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করবে বলে হুমকি প্রদান করে। এ কারনে কেউ প্রতিবাদ করার সাহসটুকুও পায়না।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, এসআই জিল্লুর রূপগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই বেপরোয়া হয়ে উঠেন। মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারী, ডাকাত, হত্যা মামলার আসামীসহ অপরাধীদের সঙ্গে তিনি সু-সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বেশ কয়েকটি এলাকার অপরাধীদের সঙ্গে এসআইয়ের সখ্যতা থাকায় ওই সব এলাকায় অপরাধ প্রবণতা দিন দিন বেড়ে গেছে। তার এসব কর্মকা-ে ক্ষুব্ধ থানায় কর্মরত সকল পুলিশ সদস্য।  ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস টুকুও পাচ্ছেনা।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, গত ১০ ডিসেম্বর রাতে কেয়ারিয়া এলাকার সমর আলীর ছেলে রুবেল হোসেন ও কাদির মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়াসহ বেশ কয়েকজন মাদকসেবী মদ পান করে এলাকাবাসীকে গালিগালাজ শুরু করে। এসব মাদকসেবীদের জন্য স্কুল-কলেজ পড়–য়া ছেলে-মেয়েরা লেখা পড়া করতে পারছেনা।

এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিত্বে প্রকাশ্যে মাতলামি করার সময় হাতে-নাতে রুবেল হোসেন ও রুবেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে এসআই জিল্লুর। এরপর রাতেই ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া হয়। এতে স্থানীয়দের মাঝে পুলিশকে নিয়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এছাড়া বাড়িয়াছনি এলাকার আকতার কাদিরের ছেলে কামাল একজন মদ বিক্রেতা। প্রতিদিন কামাল হোসেনের কাছে মাদকসেবীরা ভিড় জমায়। আর এ মদের স্পট থেকে মাসোয়ারা দিয়ে থাকেন জিল্লুরকে। গুতিয়াবো এলাকার আহাম্মেদ আলীর ছেলে বেলায়েত, আব্দুল রহমানের ছেলে লোকা, আগারপাড়া এলাকার আইয়ুব আলীর ছেলে তারেক, ছনি এলাকার গৌরাঙ্গের ছেলে রাফি, বাগের আগলা এলাকার মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে সোহেলের মাদকের স্পট থেকেও নিয়ে থাকেন মাসোয়ারা। এ ধরনের অভিযোগের শেষ নেই। এসব কারনে ওইসব এলাকায় দিন দিন অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়,রূপগঞ্জ থানায় যোগদানের পর থেকেই এসআই জিল্লুর রূপগঞ্জের প্রায় ৫৮টি মাদক স্পট তার নিয়ন্ত্রনে নেয়। প্রতিটি স্পট থেকে প্রতিমাসে ৫ হাজার টাকা মাসোহারা আদায় করা হয়। সে হিসাবে শুধু মাদকের স্পট থেকেই প্রতিমাসে মাসে আয় হয় প্রায় ৩ লাখ টাকা। এছারা সাধারন লোকজনকে বিভিন্ন কায়দায় আটক করে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়ার বাণিজ্য করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যপারে অভিযুক্ত জিল্লুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কারো পরিচয় নিয়ে এখানে চাকুরি করছি না। এছাড়া আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেসব অভিযোগ সম্পুর্ণ মিথ্যা।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আমার জানা নেই। যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত করে অভিযোগ সত্যতা প্রমাণ হলে অব্যশই জিল্লুরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

আইন আদালত -এর সর্বশেষ