৭ শ্রাবণ ১৪২৫, সোমবার ২৩ জুলাই ২০১৮ , ৩:৪৭ পূর্বাহ্ণ

আসামীদের সুবিধা দিতে একই মামলায় দুই ধরনের এজাহার!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৪১ পিএম, ৩ এপ্রিল ২০১৮ মঙ্গলবার | আপডেট: ০২:৪১ পিএম, ৩ এপ্রিল ২০১৮ মঙ্গলবার


আসামীদের সুবিধা দিতে একই মামলায় দুই ধরনের এজাহার!

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মারামারি মামলায় দুই ধরনের এজাহার পাওয়া গেছে। একটি বাদীর কাছে দেওয়া হয়েছে আরেকটি পাঠানো হয়েছে আদালতে।

মঙ্গলবার ৩ এপ্রিল ওই মামলায় আদালতে বাদীর দেওয়া এজাহার নিয়ে আইনজীবী শুনানী করতে গেল বিষয়টি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় ওই মামলার বাদী ও আইনজীবীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, বিবাদীদের মামলা থেকে রেহাই দিতেই পুলিশের কারসাজিতে এ কান্ডটি ঘটেছে।

জানা গেছে, গত ৩১ মার্চ নারায়ণগঞ্জ সদর থানার আওতাধীন চর সৈয়দপুর এলাকাতে একটি সিমেন্ট কারখানার বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সেখানকার গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নওশেদ আলী সহ অন্তত ১০জন আহত হয়। ওই ঘটনায় মো. বাবু নামের একজন সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগে বাবু মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করেন। অভিযোগের এক অংশে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী ও হত্যার উদ্দেশ্যে চেষ্টার অভিযোগ তোলা হয়। সদর মডেল থানার ডিউটি অফিসার ওই অভিযোগ গ্রহণ করে মামলার নাম্বার সহ ৩২৬ ও ৩৮৫ সহ আরো কয়েকটি ধারা সংযুক্ত করে। পরে বাদী বাবু ওই এজাহার কপি সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের কাছে দেওয়া হয়।

৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানীর সময়ে বাদী পক্ষের আইনজীবী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল ৩২৬ ও ৩৮৫ ধারায় অভিযোগের বিষয়টি সামনে এনে আসামীদের জামিন না প্রদানের জন্য শুনানীতে অংশ নেন। কিন্তু তখন আসামী পক্ষের আইনজীবী বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন ও ৩২৬ ও ৩৮৫ ধারা এজাহারে নাই উল্লেখ করেন। পরে বিচারক আসামীদের জামিন প্রদান করেন।

হাসান ফেরদৌস জুয়েল জানান, বাদী আমাকে যে এজাহার কপি দিয়েছে সেখানে পুলিশের সাক্ষর, মামলার নাম্বার ও মামলায় অভিযোগের ধারা উল্লেখ ছিল। আমি সে আলোকে শুনানীতে অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু পরে দেখি আদালতে পাঠানো মামলার কপিতে অভিযোগের কিছু অংশও নাই ও ধারাও দুটি নাই।

মামলার বাদী মো. বাবু জানান, আমার কাছে ডিউটি অফিসার (নাম জানাতে পারেনি) কয়েকটি সাদা কাগজে সাক্ষর নিয়েছেন। পরে আমাকে একটি এজাহার কপি দেন। সেটাই আমি আইনজীবীকে দিয়েছি। কিন্তু মঙ্গলবার আদালতে গিয়ে জানতে পারি আমাকে যে এজাহার কপি দিয়েছে তার সঙ্গে কোর্টে পাঠানো এজাহারের মিল নাই। এর পেছনে আসামীদের বাঁচাতেই পুলিশ এ কাজটি করেছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, এখানে ডিউটি অফিসার একটি ভুল করেছে। আর আসামীদের সুবিধে দিতে এজাহার পরিবর্তনের প্রশ্নই আসে না।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

আইন আদালত -এর সর্বশেষ