পুলিশ রুবেল হত্যা : লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়না তদন্তের নির্দেশ

সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৭ পিএম, ৯ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার



পুলিশ রুবেল হত্যা : লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়না তদন্তের নির্দেশ

ডিএমপির ‘কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম’ ইউনিটের সদস্য নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা রুবেল মাহমুদ সুমনের লাশ আবারও কবর থেকে উত্তোলন করে ময়না তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

৯ এপ্রিল সোমবার দুপুরে বাদী পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল মোহসিনের আদালত এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে গত ৬ এপ্রিল গ্রেফতারকৃত আবুল কালামের বিরুদ্ধে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

বাদী পক্ষের আইনজীবী সোলেমান মিয়া জানান, সম্প্রতি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রুবেল মাহমুদ সুমনের ময়না তদন্ত রিপোর্ট আসে। এ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় নিহতের শরীরে ৭টি আঘাত রয়েছে। অথচ সুরতহাল রিপোর্টে পুলিশ উল্লেখ করেছে ১৫টি আঘাত। এর মধ্যে ডাক্তার ৮টি আঘাত বাদ দিয়ে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দিয়েছে। এতে পুনরায় ময়না তদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করেছিলাম। আদালত আমাদের আবেদন মঞ্জুর করেছে।

নিহত রুবেলের বড় ভাই মামলার বাদী কামাল হোসেন বলেন, নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মোহাম্মদ আলী বিশ্বাস আদালতে শুনানীকালে প্রকাশ্যেই রাষ্ট্র বা বাদী পক্ষে কথা না বলে আসামীদের পক্ষে কথা বলেন। এছাড়া ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ আলী বিশ্বাস প্রকাশ্যে প্রধান আসামী সাইফুল ইসলাম স্বপনের প্রাইভেটকার দিয়ে ঘুরে বেড়ায় এবং সেই গাড়ি দিয়ে কোর্টে আসা যাওয়া করে। আসামীদের পক্ষে কথা না বলার জন্য আমাদের আইনজীবী অনুরোধ করলে কোর্ট ইন্সপেক্টর আইনজীবীর উপর ফুঁসে উঠে। মামলাটি ভিন্নখাতে নেয়ার ভয়ে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করিনি।

কোর্ট ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ আলী বিশ্বাস ও এএসআই মাহবুবকে নারায়ণগঞ্জ কোর্ট থেকে প্রত্যাহার করে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন বাদী। তবে বাদীর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ আলী বিশ্বাস।

এ হত্যাকান্ডে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের কালাপাহাড়িয়া গ্রামের মৃত আজগর আলীর ছেলে পাবেল (৩০) দোষস্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিতে বলেছিলেন, কনস্টেবল রুবেল মাহমুদ সুমন ঈদের ছুটিতে গত বছরের (২০১৭ সাল) ১ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়িতে আসে। ওইদিন দুপুরেই পূর্বশত্রুতার জের ধরে আড়াইহাজার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপনের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে রুবেল মাহমুদ সুমন মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ২০ থেকে ২৫জন এলোপাথাড়িভাবে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে সকলে পালিয়ে যায়। রুবেল কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য এবং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি রূপ মিয়া মেম্বারের ছেলে। এঘটনায় ৩২ জনের নামে মামলা করেছে রুবেলের বড় ভাই কামাল হোসেন। এঘটনায় তদন্তকারী সংস্থা জেলা ডিবি মোট ৮জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে।


বিভাগ : আইন আদালত


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও