৬ আষাঢ় ১৪২৫, বুধবার ২০ জুন ২০১৮ , ৫:২৭ অপরাহ্ণ

মাদক ব্যবসায়ী : হিট লিস্টে ২২০, খুচরো তালিকায় ২ হাজার


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৪৪ পিএম, ২৫ মে ২০১৮ শুক্রবার | আপডেট: ০২:৪৪ পিএম, ২৫ মে ২০১৮ শুক্রবার


মাদক ব্যবসায়ী : হিট লিস্টে ২২০, খুচরো তালিকায় ২ হাজার

দেশব্যপী চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে নারায়ণগঞ্জেও ‘টপ টেন লিস্ট’ করেছে সরকার। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের ৭টি থানায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকায় রয়েছে কমপক্ষে ২ শ’ মাদক ব্যবসায়ী। যাদের মধ্যে বেশ কিছু জনপ্রতিনিধির নামও রয়েছে। রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ঘনিষ্টজনও। এছাড়া খুচরো বিক্রেতার তালিকায় রয়েছে অন্তত দুই হাজার মাদক ব্যবসায়ী। জেলাভিত্তিক শীর্ষ গডফাদারদের এ তালিকা ধরে এরই মধ্যে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স ক্রাশপ্রোগ্রাম’ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে গ্রেফতার অভিযানে কয়েকজন ক্রসফায়ারে মারাও গেছে।

জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তারা শুধু মাদক ব্যবসায়ী নয়, এদের অনেকের কাছে বিপুল সংখ্যক অবৈধ অস্ত্রও আছে, যার প্রমাণ মিলছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের সময়। গ্রেফতার অভিযানের সময় এরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে উল্টো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে রীতিমতো বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে। গত ২৪ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জের দক্ষিণ নিমাইকাসারী ক্যানেলপাড় এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সেলিম ওরফে ফেন্সি সেলিম (৩২) নামের এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি শ্যূটার গান, ৬ রাউন্ড গুলি, একটি ছুরি, ৫ বোতল ফেন্সিডিল ও ৬শ’ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসিসহ ৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। এর আগে ২২ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শিমুলতলী এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ক্রসফায়ারে পড়ে বাচ্চু খান (৩৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। র‌্যাবের দাবি নিহত বাচ্চু গাজীপুর ও টঙ্গী এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৯টির বেশি মাদক মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি প্রাইভেটকার ও এতে থাকা প্রায় ৯ হাজার ইয়াবা বড়ি, দুই রাউন্ড গুলিভর্তি একটি বিদেশী পিস্তল ও গুলি খালি খোসা। সিদ্ধিরগঞ্জে ১৫ মে ভোরে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে রাজ মহল রিকন নামের মাদক পাচারকারী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে র‌্যাবের তিন সদস্য। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পাইনাদি এলাকায় ওই বন্দুকযুদ্ধের পর ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দুই রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশী পিস্তল, দশ হাজার পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট এবং নগদ দুই লক্ষাধিক টাকা। এছাড়া একটি ট্রাকও আটক করা হয়েছে। নিহত রিকন মেহেরপুর জেলা সদরের কাঁসারী পাড়া এলাকার নিহাজউদ্দিন তুফানের ছেলে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, সমূলে বিনাশ না হওয়া পর্যন্ত সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে এবারের উচ্চমাত্রার অভিযান অব্যাহত থাকবে। এক্ষেত্রে কারও কোনো রাজনৈতিক বিশেষ পরিচিতিও বিবেচনায় নেয়া হবে না।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ৭টি থানার প্রতিটিতেই শীর্ষ মাদক বিক্রেতার তালিকায় রয়েছে ৩০ থেকে ৪০ জন। এছাড়া প্রতিটি থানা এলাকায় খুচরো বিক্রেতা রয়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ জন। এর মধ্যে অনেক শীর্ষ মাদক বিক্রেতা গ্রেফতারের পর জেলহাজতে রয়েছে। আবার অনেকেই ক্রসফায়ার আতঙ্কে গা ঢাকা দিয়েেেছ। ইতিমধ্যে ছয়টি সংস্থা পৃথকভাবে তাদের মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা সরকারের জমা দিয়েছে। এসব তালিকা থেকে একটি সমন্বিত তালিকা করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে ঘোষণা দিয়ে এরই মধ্যে মাদক নির্মূলে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু করেছে র‌্যাব-পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।

র‌্যাব-১১ এর সিনিয়র সহকারি পরিচালক মো: আলেপ উদ্দিন জানান, তারা নারায়ণগঞ্জ জেলাসহ তাদের আওতাধীন ৭টি জেলার মাদক ব্যবসায়ীদের একটি তালিকা তৈরী করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে পাঠিয়েছেন।

মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পরিচালক (এডি) বিপ্লব কুমার বলেন, তাদের কাছে টপ টেনের লিষ্ট রয়েছে। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শীর্ষ মাদক বিক্রেতাদের তালিকায় রয়েছে সর্বমোট দেড় থেকে দুইশ’। মাদক বিক্রেতাদের গ্রেফতারে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত ১ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার হরিপুরে একটি ইয়াবা তৈরির কারখানা থেকে সরঞ্জামাদিসহ এক নারীকে গ্রেফতার করেন তারা। ওই ইয়াবা কারখানাটি ছিল জেলার টপ টেনের দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ফেন্সী কবিরের সমন্ধী হাবিবুর রহমান হবির।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা এলাকায় আমাদের শীর্ষ মাদক বিক্রেতা রয়েছে ৫-৬ জন। যার মধ্যে বাধন ও শেখ ফরিদ দুই সহোদরের মধ্যে বাধনকে আমরা ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছি। বাকীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এছাড়াও খুচরো বিক্রেতা রয়েছে দেড় থেকে দুইশ’ জন।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি এস এম মঞ্জুর কাদের পিপিএম জানান, ফতুল্লায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে কমপক্ষে ৩০ জন। এছাড়া খুচরো মাদক বিক্রেতা রয়েছে ৪ থেকে ৫শ’ জনের মতো। মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বন্দর থানার ওসি শাহীন মন্ডল জানান, বন্দর উপজেলায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে ২০ থেকে ২৫ জন। এছাড়া খুচরো মাদক বিক্রেতা রয়েছে ২ থেকে ৩শ’ জনের মতো।

সোনারগাঁ থানার ওসি মোরশেদ আলম জানান, সোনারগাঁ থানায় মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকায় ৪শতাধিক মাদক বিক্রেতার নাম রয়েছে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

আইন আদালত -এর সর্বশেষ