৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, রবিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৮ , ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

rabbhaban

মাদক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে হুশিয়ারী এসপির, হকার ইস্যুতে ‘না’


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৫:০৯ পিএম, ২০ আগস্ট ২০১৮ সোমবার


মাদক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে হুশিয়ারী এসপির, হকার ইস্যুতে ‘না’

নারায়ণগঞ্জে নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আনিসুর রহমান। যোগদান করে মাদক, সন্ত্রাস সহ সকল অপরাধমূলক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন এসব বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তবে নারায়ণগঞ্জ শহরের হকার ইস্যুতে পুলিশ কোন ব্যবস্থা নিবে না জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, হকার সরানোর দায়িত্ব পুলিশের একার না।

২০ আগস্ট সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

এর আগে সকালে যশোর জেলা থেকে বদলী হয়ে নারায়ণগঞ্জে এসে কাজে যোগদান করেন। পরে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত হন এবং নারায়ণগঞ্জ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। 

এসপি আনিসুর রহমান বলেন, পুলিশ সদস্য হিসেবে প্রথম পরিচয়। আর একজন পেশাদারীত্বের সঙ্গে কাজ করবো। নগরীর শান্তি শৃঙ্খলা ও মানুষের ঘুম যারা নষ্ট করে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।

হকার ইস্যু নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হকার সরানোর দায়িত্ব পুলিশের না। পুলিশের কাজ হচ্ছে মানুষের জীবনের ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। হকাররা কোন প্রকার অকারেন্স করলে সেটা পুলিশ দেখবে। কিন্তু হকার সরাতে হলে এই ব্যাপারে মেয়র মহোদয়, ডিসি, ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন। তারা কোন পদক্ষেপ নিলে সেখানে পুলিশের প্রয়োজন হলে আমরা পুলিশ প্রেরণ করব। কিন্তু পুলিশের দায়িত্ব হকার সরানো না।

প্রসঙ্গত বর্তমানে বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাত জুড়ে হকারদের অবৈধ অবস্থান উচ্ছেদের জন্য পুলিশের নিয়মিত টহল অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে সাময়িক বসে আবার উপস্থিতি পেয়ে সরে পড়ার মাধ্যমে চলছে পুলিশ হকারদের ইঁদুর বেড়াল খেলা। পুলিশের যথেষ্ট ইচ্ছার অভাব লক্ষ করায় নাসিক অঘোষিত ভাবে ময়লা থেরাপি গ্রহণ করেছে। একারণে শহর জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হকার-নাসিক মুখোমুখি অবস্থান। এর মাঝেই নতুন এসপির হকার প্রসঙ্গে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া হকারদের ফুটপাত দখলে উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন শহরের বাসিন্দারা।

এদিকে শহরের কাপড় ব্যবসায়ী জুনায়েদ বলেন, ‘‘হকার সরানোর জন্য মারামারি থেকে শুরু করে কত কিছু হইল। এখন নতুন কইরা ময়লা ফুটপাতে রাইখা নাসিক বুঝাইতাছে যে, হকাররা ময়লার মতই শহরের পরিবেশ নষ্ট করতাছে। পুলিশ দেখলে তাও হকাররা ভয় পাইয়া পালাইত। আর এখন পুলিশ হকারগো সামনে গেলে উল্টা পুলিশরে জ্ঞান দিয়া কইব এসপি কইছে হকার সরানি পুলিশ কাম না। পুলিশরেই যদি হকার না ডরায় (ভয় পায়) তাইলে শহরের মালিক এখন হকাররা, আর আমরা ভাইস্যা আইছি।’’

গত ১৬ জানুয়ারি ফুটপাতে হকার উচ্ছেদ করার সময় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে হকার ও মেয়র সমর্থকরা। এছাড়া হকার আন্দোলনের সাথে বেশ কিছু বাম নেতারাও হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যান। মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভি প্রকাশ্যে সংঘর্ষের জন্য এমপি শামীম ওসমানকে উস্কানি দাতা হিসেবে দায়ী করলেও তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশিত না হওয়ায় তা আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।

সংঘর্ষের পর দীর্ঘ ৩/৪ মাস হকার মুক্ত ফুটপাত পেয়েছিল শহরবাসী। রোজার ঈদের এক সপ্তাহ আগে পুরোদমে আবারো হকার বসতে শুরু করলেও তখন সাময়িক ভাবে অনুমতি প্রদান করেছিল প্রশাসন। কিন্তু তারপরে আর ফুটপাত হকারদের কাছ থেকে দখলমুক্ত করা যায়নি। নাসিকের কঠোর নির্দেশ থাকলেও পুলিশের সদিচ্ছার অভাবে উচ্ছেদ করা যাচ্ছেনা বলে জানান নাসিক কর্মকর্তারা।

প্রশাসন ও পুলিশের উপর ভরসা না করে নতুন করে শুরু হয়েছে নাসিকের অঘোষিত ময়লা থেরাপি। এনিয়ে নারায়ণগঞ্জের শহর জুড়ে আলোচনা সমালোচনার জন্মদিলেও অবস্থান থেকে পিছু হটেনি নাসিক। শহরজুড়ে পথচারী ও সাধারণ মানুষদের ভোগান্তি বাড়লেও তাতে ভ্রুক্ষেপ নেই কারোই। এ যেন জনসাধারণকে কষ্ট দিয়ে ডিসি এসপির টনক নড়ানোর চেষ্টা। এর মাঝে নতুন করে সদ্য যোগদান করা এসপির বক্তব্য ফুটপাতে হকার ইস্যু আরো বহুদুর জলঘোলা করবে বলে ধারনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মোহাম্মদ নূরে আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. ফারুক হোসেন, সহকালী পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. আবদুর রশিদ, সহকারী পুলিশ সুপার সুবাস চন্দ্র সাহা, নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টি প্রমুখ। 

প্রসঙ্গত ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা এসপি হিসেবে যোগদান করেন মঈনুল হক। ফলে ২০১৮ সালের ৪ আগস্ট দুই বছর পূর্ণ হয়। এর আগে ১ আগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ ও যশোরের পুলিশ সুপারসহ ১১ জন পুলিশ সুপার পদে রদবদল করা হয়। ফলে ১৯ আগস্ট দুপুরে নারায়ণগঞ্জ থেকে বিদায় নিয়ে পুলিশ সুপার মঈনুল হক যান যশোরের পুলিশ সুপার হিসেবে। আর যশোর থেকে নারায়ণগঞ্জে আসেন এসপি আনিসুর রহমান।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

আইন আদালত -এর সর্বশেষ