আইনজীবী সমিতির নতুন ভবন নির্মাণকে সাধুবাদ, অর্থের যোগানে শংকা

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৪:২৪ পিএম, ২৮ আগস্ট ২০১৮ মঙ্গলবার



আইনজীবী সমিতির নতুন ভবন নির্মাণকে সাধুবাদ, অর্থের যোগানে শংকা

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নতুন ভবন নির্মাণ নিয়ে আইনজীবীরা সাধুবাদ জানালেও কেউ কেউ এর অর্থের যোগান ও ভবন নির্মাণে শংকা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, পুরো ভবনের একটি বাজেট প্রণয়ন করেই দ্রুত এর কাজ শেষ করতে হবে। নিচ তলা পর্যন্ত টাকার যোগান থাকলেও বহুতল করতে গেলে যে টাকার প্রয়োজন হবে সেটা যোগাড়ে বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে।

২৮ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সভায় উপস্থিত আইনজীবীদের প্রায় সকলেই একমত পোষণ করলেও কিছুটা হৈ চৈ সৃষ্টি হয় বিএনপি পন্থী আইনজীবীদের বক্তব্য প্রদান করতে না দেওয়ার কারণে।

সভাপতিত্ব করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল।

গত কয়েকদিন ধরেই নতুন ভবন নিয়ে আদালত অঙ্গনে নানা ধরনের প্রস্তুতি চলছিল। ইতোমধ্যে সমিতির নতুন ভবনের জন্য মাটি পরীক্ষা করা হয়েছে। সেখানে আধুনিক ডিজিটাল বার ভবন নির্মাণের কথা রয়েছে।

সভায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল বলেন, ৮ তলা প্রস্তাবিত ভবনটির নিচতলায় প্রায় ৬ হাজার স্কয়ার ফিট জায়গা হবে। বর্তমানে পুরো ভবনটি রয়েছে সাড়ে ৫ হাজার স্কয়ার ফিটের। নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিকে প্রায় ১২শ এর অধিক আইনজীবী রয়েছেন। কোর্টে প্র্যাকটিসরত জুনিয়র আছে প্রায় ৭শ। আগামী ৩ বছরে পাশ করে আসা আইনজীবীরা কোর্টে প্রবেশ করলে অন্তত ১৭শ আইনজীবী কোর্টে বিচরণ করবে। পুরাতন এই ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল মাত্র ৩ থেকে ৪শ জন আইনজীবীদের বসার ব্যবস্থার জন্য। দ্রুত এর বিকল্প চিন্তা না করা হলে আইনজীবীদের অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হতে হবে।

তিনি প্রস্তাবিত নতুন ভবনের সুবিধা উপস্থাপন করে বলেন, ভবনে ৩টি হলরুম স্থাপন করা হবে। এছাড়া চেম্বার করা হবে দুই শতাধিক কিংবা তার ও বেশী। পাশাপাশি লাইব্রেরী, জুনিয়র হলরুম, মুহুরীদের হলরুম, নারী আইনজীবীদের ব্যক্তিগত স্থান, ক্যান্টিন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রের দোকান।

এছাড়া নতুন ভবন থেকে আয়ের উৎস হিসেবে দোকান ও হলরুম ও ক্যান্টিন ভাড়া দেয়ার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি অতিদ্রুত পুরো ভবন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান।

ভবন তৈরীর জন্য অর্থের উৎস সম্পর্কে বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান আমাদের ডোনেশন দেবার কথা জানিয়েছেন। তিনি টাকা দিতে প্রস্তুত শুধু কাজ শুরু করার অপেক্ষা। এছাড়া বারে আইনজীবীদের খাবার খরচের পেছনে বছরে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়। ৩ বছর দুপুরে না খেয়ে সেই টাকা ৩ বছরে ১কোটির বেশী সঞ্চয় হবে যা ভবনের নিচতলা সম্পূর্ণ করতে সক্ষম। ধীরে ধীরে ভবনের পুরো অংশ বিভিন্ন ডোনেশন ও আয় থেকে তৈরী করা হবে। এসময় উপস্থিত আইনজীবীরা নতুন ভবনের পক্ষে সহমত জানান।

তবে সভায় অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মাসুম বলেন, আমরাও চাই নতুন ভবন হোক। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে এই ভবনটি আমরা তিলে তিলে গড়ে তুলেছি আমাদের কষ্টের টাকায়। নতুন ভবনের পরিকল্পনা দেখানো হয়েছে ঠিকই কিন্তু কতটা খরচ হবে তা জানানো হয়নি। কি পরিমাণ ইট, বালি রড, সিমেন্ট, লেবার খরচ হবে তা জানানো হোক। এছাড়া যিনি ডোনেশন দিচ্ছেন তিনি কয় তলা পর্যন্ত ভবন সম্পন্ন করে দিবেন তাও অজানা। আমরা এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ তথ্য জানতে চাই।

তবে এ প্রশ্নের উত্তর কৌশলে এড়িয়ে যান সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল। এরপর জুয়েলের প্রস্তাব সমর্থনে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু ও মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা।

মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদা আক্তার মালা বলেন, নতুন ভবন হোক তা তো অবশ্যই চাই। কিন্তু শঙ্কা কিছুটা থেকেই যায়। সামনে নির্বাচন, বর্তমান কমিটির মেয়াদ ও প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রজেক্ট হাতে নেয়ার পর ঠিকমত চলবে কিনা তাতে কিছুটা কনফিউশন থাকেই। তবে আমি চাই ভবনটি তৈরী হোক।

পরবর্তীতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী পরিষদ থেকে সরকার হুমায়ূন কবীর ও সাখাওয়াত হোসেন খান বক্তব্য দিতে চাইলে তাদের ফ্লোর না দিয়েই সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন যা হট্টগোলের সৃষ্টি করে।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি সরকার হুমায়ূন কবীর নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, ৮ তলা এত বড় একটি ভবনের ফাউন্ডেশনে খরচ হবে ৩ কোটি টাকার বেশী। সেখানে ১ কোটি টাকায় নিচতলা সম্পন্ন করা অবাস্তব কল্পনা ছাড়া কিছুই না। একটি অমিমাংসিত প্রজেক্ট হাতে নিয়ে কিভাবে তা সমাপ্ত হবে সেই টাকার উৎস সম্পর্কে কোন ধারণা দেয়া হয়নি এখানে।

আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, যে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার পূর্বে পক্ষ বিপক্ষের মত নেয়া উচিত। একক সিদ্ধান্ত নেয়াটা একটি স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের বহিঃপ্রকাশ। আমরা চাচ্ছিলাম পুরো ভবন একত্রে না ভেঙ্গে পেছন থেকে কাজ শুরু করুক। তারপর সেখানে আইনজীবীদের সরিয়ে নিয়ে এই ভবন ভাঙলে কারো কোন সমস্যা হত না। এখন একসাথে এত আইনজীবী কোথায় যাবে তা একেবারেই অজানা।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির বহুতল বিশিষ্ট ডিজিটাল বার ভবনের জন্য গত ১৮ আগস্ট সয়েল টেস্ট তথা মাটি পরীক্ষা করা হয়। এর আগে এমপি সেলিম ওসমান এখানে বহুতল ভবন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এরই মধ্যে গত জানুয়ারীতে সমিতির নির্বাচন হওয়ার পর ইতোমধ্যে চলে গেছে ৮ মাস। বর্তমান কমিটির মেয়াদ আছে আর মাত্র ৪ মাস। এ সময়ের মধ্যে সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও সেক্রেটারী মোহসীন মিয়া আরেকবার নিজেদের নেতৃত্ব পোক্ত করতে এ মেয়াদের মধ্যেই সমিতির বহুতল ভবন নির্মাণের শুরু কাজটি করতে চাচ্ছেন।


বিভাগ : আইন আদালত


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও