যুবলীগ নেতা আলী হত্যা মামলায় বাদির নারাজী, তদন্তভার সিআইডিতে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৫:১৪ পিএম, ৭ জানুয়ারি ২০১৯ সোমবার

যুবলীগ নেতা আলী হত্যা মামলায় বাদির নারাজী, তদন্তভার সিআইডিতে

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের বিরোধের জের ধরে মোহাম্মদ আলী (৩০) নামের যুবলীগের এক নেতাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আদালতে নারাজি পিটিশন দাখিল করেছেন মামলার বাদি।

সোমবার ৭ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল মহসীনের আদালতে অধিকতর তদন্তের জন্য নারাজি পিটিশন দাখিল করেন মামলার বাদি নিহতের মা শিউলী বেগম। শুনানী শেষে আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ সিআইডিকে নির্দেশ দেন। এদিকে সোমবার শুনানী শেষে আদালতপাড়ায় বাদি ও তার ভাইকে মারধরসহ তাদেরকে প্রাণনাশের হুমকী দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে জামিনে থাকা আসামীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ সুপারের বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মামলার বাদি।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের এএসআই শহীদুল ইসলাম জানান, বাদির নারাজি পিটিশনের প্রেক্ষিতে আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

নারাজি পিটিশনে বাদি শিউলী বেগম উল্লেখ করেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে দাখিলকৃত চার্জশীটে আফজালের নাম বাদ দিয়েছেন। অথচ মামলার ১নং আসামী মোশারফ মেম্বার, অপর দুই আসামী পনির ও বাহাউল তাদের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে আফজালের নাম উল্লেখ করেছে। এছাড়া চার্জশীটে যাদেরকে স্বাক্ষী হিসেবে দেখানো হয়েছে তাদের অধিকাংশ আসামী পক্ষের আত্মীয় স্বজন। এর মধ্যে ১৩নং স্বাক্ষী আব্দুল গাফফার আসামী নোয়াব এর আপন বোনের স্বামী। এছাড়া হত্যাকান্ডে যেসকল অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সেই সকল অস্ত্র জব্দ করেন নাই। তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তের ফলাফল বাদিকে অবগত করেন নাই। তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে চার্জশীট প্রদান করেছে বলে বাদি নারাজি পিটিশনে উল্লেখ করেন। তিনি মামলাটি অধিকতর তদন্তের দাবি জানান।

অপরদিকে পুলিশ সুপারের বরাবরে দাখিলকৃত অভিযোগে বাদি উল্লেখ করেন, সোমবার সকালে আদালতে শুনানী শেষে বের হওয়ার পরে আদালতপাড়ায় মামলার বাদি শিউলী বেগম ও তার ভাই জাকির হোসেনকে আসামী মোশারফ মেম্বার, দিপু, শান্ত, জসিম, কবির, আবু সাঈদ, হাবিব, জসিম মিলে মারধর করে এবং তার ভাই জাকির হোসেনকে ১নং আসামী মোশারফ মেম্বার হুমকী দেয় বেশি বাড়াবাড়ি করলে জাকিরকে জবাই করে হত্যা করা হবে। এসময় তারা মামলা তুলে নেয়ারও হুমকী দেয়। এ ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য ২০১৮ সালের ৪ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর এলাকাতে বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের বিরোধের জের ধরে মোহাম্মদ আলী (৩০) নামের যুবলীগের এক নেতাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে বালু সন্ত্রাসীরা। নিহত পরিবারের অভিযোগ, ইউনিক গ্রুপ নামের একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম সহ স্থানীয় বালু সন্ত্রাসীদের একটি গ্রুপের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দেয়া ও আন্দোলন করার জের ধরেই ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে এ হত্যাকা-টি ঘটায়। মামলাটি প্রথমে সোনারগাঁ থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরবর্তীতে পুলিশ সুপারের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। মামলার ১নং আসামী মোশারফ মেম্বার, অপর দুই আসামী পনির ও বাহাউল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। সম্প্রতি ডিবি পুলিশ আদালতে চার্জশীট দাখিল করে। নিহত মোহাম্মদ আলী উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম কান্দারপাড় এলাকার মৃত আরজান আলীর ছেলে। সে যুবলীগের রাজনীতি করলেও কোন পদ ছিল না। তবে সে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ছিল। মোহাম্মদ আলী পিরোজপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জাকির হোসেনের ভাগ্নে। সে তার মা শিউলী বেগমের সঙ্গে নানা মৃত মমতাজ উদ্দিনের বাড়িতে বসবাস করতেন।


বিভাগ : আইন আদালত


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও