তালিকা প্রস্তুত এবার এ্যাকশন

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:৪৩ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার

তালিকা প্রস্তুত এবার এ্যাকশন

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ প্রশাসন এবার বিশেষ এ্যাকশনে যাচ্ছে। জেলার চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা, অপরাধী, ছিনতাইকারী, ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী, বালুদস্যুদের একটি তালিকা প্রনয়ন করা হয়েছে। সেই তালিকা এখন যাচাই বাছাই চলছে। প্রথমাবস্থায় এসব সন্ত্রাসীদের মদদদাতা ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সতর্ক করে দেওয়া হবে। তার পরেও যদি তারা নিজেদের সংশোধন না করে তাহলে চলবে বিশেষ এ্যাকশন। ইতোমধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ প্রশাসন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রশাসনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা জানান, নারায়ণগঞ্জকে বিশেষ চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ। বিভিন্ন সময়ে এ পুলিশ সুপারের উপর নানা ধরনের তকমা ললাটে এটে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এবার সেটাকে একেবারেই সঠিক রূপ দেখাতেই মূলত উদ্যোগী হচ্ছেন পুলিশ সুপার। ইতোমধ্যে তিনি জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাদের কাছ থেকেও তিনি সাড়া পেয়েছেন। অপরাধীদের ব্যাপারে জনপ্রতিনিধিরাও কোন ধরনের ছাড় দিতে নারাজ। সে কারণেই কিছুটা সাহস নিয়েই এগুচ্ছেন পুলিশ প্রশাসন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে নারায়ণগঞ্জ হবে সারাদেশের মধ্যে একটি মডেল।

ওই কর্মকর্তা আরো জানান, প্রাথমিকভাবে জেলার ৭টি থানা এলাকাতেই অভিযান চলবে। ইতোমধ্যে দুই দিনে ১২৯ জন অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে বিশেষ অভিযানে আগামীতে শহর, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকাকে বেশী প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এসব এলাকার ফুটপাত প্রথমে দখলমুক্ত করা হবে। তাছাড়া উচ্ছেদ করা হবে অবৈধ স্ট্যান্ডও। ইতোমধ্যে থানার ওসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সন্ত্রাসীদের তালিকা হালনাগাদ করতে। সাম্প্রতিক সময়ে কার বিরুদ্ধে বেশী অভিযোগ সেগুলোর প্রোফাইল তৈরি করতে। সেগুলো আবার যাচাই বাছাই করে চলবে অভিযান। মূলত জানুয়ারীকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ মাস হিসেবেই। এ মাসেই এমন ক্ষেত্রে তৈরি করা হবে যাতে অপরাধীদের ভেতরে ভীত সৃষ্টি হয়। বেশ কয়েকজন ভূমিদস্যুও চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেই পাকড়াও করা হবে। সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা খুব একটা আনা হবে না।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক সাজ্জাদ রোমন জানান, পুলিশ সুপার মূলত বাসযোগ্য একটি নারায়ণগঞ্জ শহর উপহার দিতে চান। সে লক্ষ্যেই তিনি কাজ শুরু করেছেন। আশা করা যাচ্ছে নগরবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা পেলে দ্রুত পরিবর্তন ঘটবে।

নগরবাসী বলছেন, নারায়ণগঞ্জ শহরের যানজট ও হকার সমস্যা বহু দিনের। আর সে কারণে গত বছরের ১৬ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জ শহরে রক্তও ঝরেছে। সেদিন আক্রান্ত হয়েছিলেন সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী সহ অন্তত অর্ধশত মানুষ। শহরের ফুটপাত হকারমুক্ত থাকলেও ১৬ জানুয়ারীর পর ধীরে ধীরে তা বসতে শুরু করে। হকারদের ঠাসাঠাসির কারণে শহরে হাটাচলাও বেশ কষ্টকর। ফলে নগরবাসীকে পোহাতে হয় বেশ দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনা।

অপরদিকে যানজট নিত্যদিনের চিত্র। প্রতিদিন সকাল থেকে শহরের প্রধান বঙ্গবন্ধু সড়কে লেগে থাকে যানজট। এর পেছনে মূলত অবৈধ স্ট্যান্ড, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংকে দায়ী করেন নগরবাসী। কখনো কখনো শহরের চাষাঢ়া হতে দুই নং রেল গেট পাড়ি দিতেই পার হয়ে যায় ঘণ্টার কাটা।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জে আছে স্যাটেলাইট কেবল ব্যবসা নিয়েও ঝামেলা। সম্প্রতি কুতুবপুরে এ নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ঘটেছে সংঘর্ষ। এর আগে সেখানে এ নিয়ে নিহতের ঘটনাও ঘটেছে। ভূমিদস্যুতা নিয়েও সিদ্ধিরগঞ্জে বর্তমান ও সাবেক কাউন্সিলরের মধ্যে ঘটেছে ব্যাপক সংঘর্ষ। মাদকের ব্যাপকতাও আছে ভয়াবহতা।

এ অবস্থায় জানুয়ারির মধ্যেই শহরের যানজট, হকার, মাদক ও ভূমিদস্যূ মুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করার অঙ্গিকার করেছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) হারুন অর রশিদ।

১০ জানুয়ারী দুপুরে শহরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ভূমিদস্যূ, মাদক ও যানজট নিরসনে কাজ করবো। ডিসেম্বর ছিল নির্বাচনের। জানুয়ারি মাস থাকবে যানজট মুক্ত, হকার মুক্ত এবং মাদক মুক্ত নারায়ণগঞ্জ হিসেবে।

শহরের যানজট ও হকার মুক্ত করার অভিযানের বিষয়ে এসপি বলেন, জেলা প্রশাসন সহ জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা হয়েছে আমরা দ্রুত এ বিষয়ে কাজ করবো।

মাদক, ভূমিদস্যূদের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারী দিয়ে এসপি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স থাকবে। মাদকের কোন ছাড় নাই। মাদকের সঙ্গে যদি কোন পুলিশ সদস্যের জড়িত থাকার অভিযোগ থেকে তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নারায়ণগঞ্জে আমাদের কাছে অনেক ভূমিদস্যূর নাম এসেছে। যেখানে কাউন্সিলরের নামও আছে। ভূমিদস্যূর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি আপনাদের কাছে এ ধরনের কোন অভিযোগ থেকে থাকে, কিংবা মাদক বিক্রি করে থাকে বা পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে থাকে তাহলে জানাবেন আমরা ব্যবস্থা নিবো। আমরা আপনাদের পাশে আছি, আপনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন। যেখানে মাদক, ভূমিদস্যূ সেখানে অভিযান চলবে। বাসযোগ্য করার জন্য যা যা করার প্রয়োজন তাই করবো।

শহরের যানজট ও হকার মুক্ত করার অভিযানের বিষয়ে এসপি বলেন, জেলা প্রশাসন সহ জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা হয়েছে আমরা দ্রুত এ বিষয়ে কাজ করবো।

পুলিশ সদস্যদের হুশিয়ারী দিয়ে এসপি বলেন, পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ কোন কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশের ছত্রছায়া মাদক, ভূমিদস্যূ, বালু সন্ত্রাস হবে সেটা চলবে না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বিভাগ : আইন আদালত


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও