ডিবির কাণ্ড : চারজনকে ৩৪ ধারার প্রলোভনে ৪ লাখ টাকা!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৩:৫৪ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০১৯ রবিবার

ডিবির কাণ্ড : চারজনকে ৩৪ ধারার প্রলোভনে ৪ লাখ টাকা!

নারায়ণগঞ্জে মাদক সহ গ্রেফতারের পর ৩৪ ধারায় মামলা দায়েরের আশ্বাসে পৌনে চার লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের বিরুদ্ধে। এতে ক্ষ্যান্ত হয়নি। টাকা আত্মসাৎ করে বিয়ারের পরিবর্তে মদ দিয়ে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। তবে এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন ডিবির অভিযুক্ত সদস্যরা। তাদের বক্তব্য, অভিযোগ থেকে বাঁচতেই পরিবারের সদস্যরা এখন হয়তো নাটক সাজানোর চেষ্টা করছেন।

গত ২৪ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শহরের উত্তর চাষাঢ়ায় হোয়াইট হাউজ রেস্তোরার সামনে থেকে ৫ যুববককে আটক করে ডিবি। পরে তাদের মধ্যে থেকে একজনকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হলেও অন্য চারজনকে মদ সহ গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো আলআমিন, স্বপ্রব, তুহিন, অনিক ও শাহরিয়ার খান। তাদের মধ্যে স্বপ্রব, তুহিন, অনিক ও শাহরিয়ার খান শহরের হ্যারিটেজ স্কুলের ‘এ’ লেভেলের পরীক্ষা সদ্য শেষ করে। আর আটকের প্রায় কয়েক ঘণ্টা পর ছেড়ে দেয়া হয় অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের ছেলে শাহরিয়ার খানকে (১৭)।

গ্রেফতারকৃতদের স্বজনেরা জানান, ডিবির এসআই অরিফের নেতৃত্বে পুলিশের সদস্যরা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ৫জনকে আটকের পর একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে শহরের ঘুরে বেড়ায়। এক ঘণ্টা ৫জনকে গাড়িতে নিয়ে ঘুরার পর খানপুর জোড়া ট্যাকিং এলাকায় ইউনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনের মাঠে অবস্থান নেয় ডিবির গাড়ি। আর সেখান থেকে ৫জনের পরিবারকে ফোনে জানানো হয় তাদের সন্তান মাদক সহ গ্রেফতার হয়েছে। তাদের ছাড়াতে হলে জনপ্রতি দেড় লাখ টাকা লাগবে যার জন্য আধা ঘণ্টা সময় বেধে দেয় ডিবির সদস্যরা। পরে স্বজনেরা ওই গাড়ির সামনে হাজির হয়। সেখানে চলে দর কষাকষি। এতে ডিবি জনপ্রতি ১ লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিতে রাজী হয়। তবে এক পর্যায়ে গাড়ি নিয়ে চলে আসেন ডিবির সদস্যরা। ওই সময় সাখাওয়াত হোসেনের ছেলে শাহরিয়ার খানকে ছেড়ে দেয় ডিবি। আর অন্য চারজনকে নিয়ে ডিবির কার্যালয়ে প্রবেশ করে গাড়ি। পরে ডিবির কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় গ্রেফতারকৃতদের স্বজনেরা গেলে পরিদর্শক হুমায়ন ও এসআই আরিফের সঙ্গে দর কষাকষি হয়। তখন ডিবির সদস্যরা জানান তাদের মুক্তি দেয়া সম্ভব হয় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানেন। তবে জনপ্রতি দেড় লাখ থেকে ৮০ হাজার টাকায় রফাদফা হয় যে তাদের ৩৪ ধারায় আদালতে প্রেরণ করা হবে। পরে পরিবারের সদস্য ১ লাখ করে তিন লাখ ও অন্য একজন ৮০ হাজার টাকা প্রদান করেন। কিন্তু পরদিন ডিবির সদস্যরা ৪ বোতল মদ (কেরো) সহ গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে নেয়া ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত দেয়নি ডিবির সদস্যরা।

শাহরিয়ার খানকে মুক্তি দেয়ার সময় ডিবির সদস্যরা সাদা মাইক্রোবাস নিয়ে সাখাওয়াত হোসেনের খানপুরের বাসার সামনে আসেন। পরে সাখাওয়াত হোসেন খানকে সাদা গাড়িতে নিয়ে ৩০০ শয্যা হাসপাতালের দিকে চলে যায়। প্রায় ১৫ মিনিট পর মুক্তি দেয়া হয় শাহরিয়ার খানকে।

ওইসময় উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, ডিবির সদস্যরা গ্রেফতারকৃতদের পরিবারের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা দাবি করছে। টাকা দিলে অন্যদের ছেড়ে দিবে। সাখাওয়াত হোসেনকে হয়তো এ কারণেই গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

ছেলে মুক্তি পাওয়ার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে কোন কথা বলতে রাজি হননি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন সহ ছেলে শাহরিয়ার খান। ফলে ডিবির সঙ্গে কি কথা হয়েছে সেটা জানা যায়নি।

তবে ওইসময় নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মোহাম্মদ নূরে আলম জানান, পানীয় পান করার সময় সাখাওয়াত হোসেন খানের ছেলেকে আটক করে ডিবি। পরে মুচলেকায় ছেড়ে দেয়া হয়। বিষয়টি সংবাদ না করার জন্যও অনুরোধ করেন তিনি।

ডিবির পরিদর্শক হুমায়ন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ডিবির একটি টিম তাদের চার বোতল কেরো মদ সহ গ্রেফতার করে। তবে ওই সময় আমি সেখানে ছিলাম না। পরে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়।

শাহরিয়ার খানকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ছিল। আর সাখাওয়াত হোসেন খান আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি। তার ছেলে আটক হলেও বিষয়টি অপহরণের গুজব ছাড়ানো হয়। যেহেতু বিষয়টি বির্তকের দিকে চলে যাচ্ছে সেহেতু ঊর্ধ্বতনের সঙ্গে কথা বলে মুচলেকায় মুক্তি দেয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, টাকা নেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা। মাদক সহ গ্রেফতার হয়েছে সেহেতু তাদের পরিবার অনেক ধরনের কথা বলতে পারেন। তাদের সব অভিযোগ মিথ্যা।

এ বিষয়ে এসআই আরিফের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি তারা রিসিভ করেননি।


বিভাগ : আইন আদালত


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও