নারায়ণগঞ্জ পুলিশে একের পর এক অন্যায়ে শাস্তি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৭:৩৬ পিএম, ২৯ জানুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার

নারায়ণগঞ্জ পুলিশে একের পর এক অন্যায়ে শাস্তি

নারায়ণগঞ্জ জেলায় গত কয়েকদিনে পুলিশ প্রশাসনে বড় কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে আলোচিত বিষয় হচ্ছে পুলিশ কর্তাদের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করার বিষয়টি।

গত ১২ জানুয়ারী শনিবার রাতে মদনপুরে দুই আসামীকে ধরতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সেখানকার স্থানীয় ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান সমর্থকসহ গ্রামবাসীর একাংশের ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটে। এতে আশিকুর রহমান নামের গার্মেন্টস কর্মী নিহত ও বাবুল নামের এক গুলিবিদ্ধ যুবককে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় ওসি আজহারুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। ১৩ জানুয়ারী বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার ওসির বদলীর এ নির্দেশ দেন।

বন্দরের এই ঘটনার ১৫ দিন পর একই ঘটনা ঘটে রূপগঞ্জ উপজেলায়। নিরীহ এক যুবককে আটক করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার খবর শুনে তার মায়ের মৃত্যু ঘটেছে। ওই যুবকের বিরুদ্ধে কোন মামলার ওয়ারেন্ট বা অভিযোগ না থাকার পরেও পুলিশের ওই বাণিজ্যিকি করণের প্রমাণ মিলেছে। আর সে কারণে ঘটনায় জড়িত এস আই সাব্বির ও এএসআই রুহুলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

২৭ জানুয়ারী বিকেলে ওই দুইজন পুলিশকে নিরীহ মানুষকে হয়রানির অভিযোগে প্রত্যাহার করা হলেও জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক সাজ্জাদ রোমন জানিয়েছেন মূলত প্রশাসনিক কারণেই দুইজনকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহিরুল ইসলাম জানান, ২৬ জানুয়ারী শনিবার রাতে রূপগঞ্জের কাঞ্চন পুলিশ ফাঁড়ির এস আই সাব্বির ও এএসআই রুহুল স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে হানা দেয়। সেখানে জহিরুল ও তার চাচাতো ভাই তুহিন বসে চা পান করছিল। মটরসাইকেলে করে সাদা পোশাকে গিয়েই পুলিশের দুইজন তুহিনকে টেনে মোটর সাইকেলে তুলে নেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় জমজম হোটেলে নিয়ে আটকে রাখে। সেখান থেকে পুলিশ তাকে চাপ দেয় বাড়ি থেকে ১ লাখ টাকা নিয়ে আসতে। খবর পেয়ে জহিরুলসহ অন্যরাও হাজির হন

কাউন্সিলর জহিরুল বলেন, ‘তুহিনের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ বা মামলা নেই। সে একেবারেই নিরপরাধ ছেলে। তাকে আটকে রেখে টাকা দাবী করা হয়। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি অভিযোগ জানতে চাইলে কোন জবাব দিতে পারেনি পুলিশ। খবরটি বাড়িতে পৌছালে তুহিনের মা রেখা বেগম স্ট্রোক করেন। তাকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। মারা যাওয়ার পরে তুহিনকে ছেড়ে দেওয়ার সময়েও ৫ হাজার টাকা জোর করে ছিনিয়ে নেয় পুলিশের দুইজন। আমি নিজেও জনগনের সেবক আর পুলিশও সেবক। কিন্তু তাদের এ ধরনের আচরণ বোধগম্য না। তুহিনের বাবা মারা গেছে আগেই। তুহিন নিজেও সহজ সরল মানুষ। তার মত ছেলেকে এভাবে ফাঁসিয়ে দেওয়া কিংবা পুলিশ সাদা পোশাকে পিস্তলের ভয় দেখিয়ে তুলে নিয়ে যাবে সেটা খুবই অশোভনীয়। সেটা সহ্য করতে না পেরেই তার মা মারা গেছে।’

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানার ওসি মোরশেদ আলমকে প্রত্যাহার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) বদলী করা হয়েছে। ২৯ জানুয়ারী মঙ্গলবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে এ রদবদল হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক সাজ্জাদ রোমন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, মূলত প্রশাসনিক কারণেই সোনারগাঁয়ের ওসিকে বদলী করা হয়েছে। এর আগে রূপগঞ্জ থানার সাবেক ওসি মনিরুজ্জামানকে সোনারগাঁয়ের ওসি হিসেবে যোগ দিবেন।

শহরের পাইকপাড়া এলাকায় সালাউদ্দিন দেওয়ান (৫০) নামের সাবেক ফুটবলারকে ইয়াবা সহ ফাঁসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে তখন তুলকালাম তখন ওই অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া সদর মডেল থানার এস আই নাজমুলকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। ২২ জানুয়ারী দুপুরে তাকে প্রত্যাহার করে শহরের মাসদাইরে জেলা পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়। প্রত্যাহারের যখন সিদ্ধান্ত আসে তখন এস আই নাজমুল ডিউটিরত ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, মূলত প্রশাসনিক কারণে এস আই নাজমুলকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ২০ জানুয়ারী রাতে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ শহরের বিভিন্ন এলাকায় কঠোর অভিযান চালায়। ওই সময়ে শহরের পাইকপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে সালাউদ্দিনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে সদর মডেল থানা পুলিশ। পরবর্তীতে তাকে ১০০ পিস ইয়াবা সহ গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। সোমবার তাকে আদালতে পাঠালে আদালত সালাউদ্দিনকে কারাগারে প্রেরণ করেন।

স্থানীয়রা জানান, উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন কাজের ঠিকাদার ও প্রকৌশলীরা সহ সিটি করপোরেশন। তবে ওই অনুষ্ঠানে স্থানীয় কাউন্সিলরকে ভালোভাবে দাওয়াত দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন আব্দুল করিম বাবু। সেই কারণে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। তখন সালাউদ্দিন নিজেও আবদুল কাদিরের পাশে থেকে বাবুর কর্মকান্ডের বিরোধীতা করেন।

পাইকপাড়ার বাসিন্দা জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আবদুল কাদির বলেন, সালাউদ্দিন খুব ভালো ছেলে। স্থানীয় কাউন্সিলর নিরপরাধ ছেলেটার বিরুদ্ধে পুলিশকে ব্যবহার করে মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে।

সদর থানায় আটক থাকা অবস্থায় সালাউদ্দিন দেওয়ান জানান, রোববার ২০ জানুয়ারি দিনগত রাত একটায় তাকে ঘুমের থেকে তুলে এনে মাদকের মামলা দিয়েছে।


বিভাগ : আইন আদালত


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও