‘মেয়েটির অবস্থা দেখে জুয়েল বলে একে বাঁচিয়ে রাখলে সমস্যা হবে’

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৬ পিএম, ৩০ জানুয়ারি ২০১৯ বুধবার

‘মেয়েটির অবস্থা দেখে জুয়েল বলে একে বাঁচিয়ে রাখলে সমস্যা হবে’

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থেকে অজ্ঞাত ২২ বছরের তরুণীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় শুক্কুর আলী ও টিক্কা রাকিব নামে আরো দুই লম্পট আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে তারা বলেছে গণধর্ষণ ও হত্যার পূর্বে মেয়েটির গা পুড়ে যাওয়ার মত প্রচন্ড জ্বর ছিল।

৩০ জানুয়ারী বুধবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কাউছার আলমের আদালত শুক্কুরের ও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ হুমায়ূন কবীরের আদালত টিক্কা রাকিবের লোমহর্ষক এ জবানবন্দি গ্রহন করেন।

শুক্কুর (২২) খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালা থানার ছোট মেরুল ২নং কলোনী ট্রাস্ট টিলার মোহাম্মদ আলীর ছেলে ও টিক্কা রাকিব (২০) চাঁদপুর জেলার হাইমচর থানার গাজীবাড়ী গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে। তারা দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লায় বসবাস করে।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, জবানবন্দি গ্রহন শেষে দুই আসামীকে কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী অফিসার ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (আইসিপি) গোলাম মোস্তফা বলেন, গ্রেফতারকৃত শুক্কুর আলী ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা চালক। জবানবন্দিতে শুক্কুর আলী জানিয়েছে মেয়েটি মানসিক প্রতিবন্ধি ছিলো।

৮ জানুয়ারী রাত সাড়ে ৯টায় শহরের কলেজ রোডে ঘুরতে দেখে ব্যাটারী চালিত অটো রিকশায় উঠিয়ে কাশিপুরের ভোলাইল এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে মেয়েটির গায়ে হাত দিয়ে দেখে শরীরে প্রচন্ড জ্বর গা পুড়ে যাওয়ার মত ও মুখ দিয়ে লালা পড়ছে। এ অবস্থায় তারা ৮জন মাঠে নিয়ে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ শেষে শ্বাসরোধে হত্যা করে।শুক্কুরের বন্ধু টিক্কা রাকিব জানিয়েছে, সে সড়কে দাঁড়িয়ে ছিল। এসময় শুক্কুর এসে তাকে বলে এখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে ছিল সে কোথায়। তখন টিক্কা রাকিব বলে জুয়েল, অনিক, আবু তালেব, তৌফিক, সাগর এবং রাসেল মাঠের দিকে নিয়ে গেছে। এরপর শুক্কুরের সঙ্গে টিক্কা রাকিবও মাঠে যায়। গিয়ে দেখে তারা পর্যায়ক্রমে মেয়েটিকে ধর্ষণ করছে। পরে শুক্কুরও মেয়েটিকে ধর্ষণ শেষে টিক্কা রাকিবকে ধর্ষণ করতে বলে। ওই সময় মেয়েটি হাত পা এদিক ওদিক ছুড়ছিল। এতে টিক্কা রাকিব ধর্ষণ করেনি। মেয়েটির এই অবস্থা দেখে জুয়েল বলে একে বাঁচিয়ে রাখলে সমস্যা হবে। এরপর জুয়েলের কথা মত শুক্কুর মেয়েটার গলা টিপে ধরে। সাগর, রাসেল এবং আবু তালেব মেয়েটার হাত ধরে টিক্কা রাকিব, অনিক এবং তৌহিদ পা চেপে ধরে। তখন শুক্কুর মেয়েটাকে হত্যা করতে ব্যর্থ হলে জুয়েল মেয়েটার বুকে দুইটি ঘুষি মেরে গলা টিপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

পরিদর্শক (আইসিপি) গোলাম মোস্তফা জানান, তাদের দুজনের আগে মঙ্গলবার বিকেলে কাশিপুর ভোলাইল এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে জুয়েল হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৯ জুনায়ির ফতুল্লার ভোলাইল এলাকায় পরিত্যক্ত জায়গা থেকে ২২ বছর বয়সী ওই তরুণীর লাশ উদ্ধারের সময়ে পড়নে ছিল সোয়েটার, চাদর ও পায়জামা। ধারণা করা যাচ্ছে, দুর্বৃত্তরা ওই যুবতীকে অন্য কোথাও ধর্ষণ শেষে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এখানে ফেলে গেছে।


বিভাগ : আইন আদালত


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও