‘এরাই যেন ওসি’

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০১ পিএম, ১২ মার্চ ২০১৯ মঙ্গলবার

‘এরাই যেন ওসি’

কর্মদক্ষতা ও সেবার মন মানসিকতায় সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে ঢাকা বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে একাধিকবার শ্রেষ্ঠ ওসির খেতাব অর্জন করেছেন ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের। একই সঙ্গে ধর্মীয় রীতিনীতি পালন ও মানুষের সঙ্গে আচার ব্যবহারেরও যেসব থানায় দায়িত্বে ছিলেন সেখানেও মন জয় করেছেন। ফলে জেলা জুড়ে রয়েছে ব্যাপক পরিচিত। কিন্তু সেইরকম একজন ওসির অধিনস্থরা কর্মকান্ডে সম্পূর্ণ উল্টো।

সেবার জন্য দায়িত্ব দেয়া হলেও তাদের মধ্যে সেবার দেওয়ার মন মানসিকতা নেই। ভুক্তভোগীরা থানায় গেলে প্রতিনিয়ত হয়রানীর শিকার হয়। একাধিক প্রশ্ন ও কথার মারপ্যাচে থানা ছাড়েন অনেকই। কোন ঘটনায় সহযোগিতার আশায় ফোন দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। আর এসকল অভিযোগই থানার ডিউটি অফিসারদের বিরুদ্ধে। পুলিশের বিরুদ্ধে যখন এমন অভিযোগ তখন নাম প্রকাশ করতে আগ্রহী নয় কেউ।

গত ৭ মার্চ চাঁদাবাজদের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে থানায় অভিযোগ করতে আসেন অন্তত অর্ধশত ইজিবাইকের চালক ও মালিকেরা। ওইসময় ডিউটি অফিসাররা তাদের সঙ্গে আন্তরিক ছিলেন না বলে জানান ওইসব চালক ও মালিকেরা।

কয়েকজন চালক ও মালিক অভিযোগ করেন, চাঁদাবাজরা দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করে আসছে। কিন্তু এসব বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে উল্টো হয়রানী হতে হবে সেজন্য থানায় যেতেন না। কিন্তু ওসির কাছে অভিযোগ দিলে ন্যায় বিচার পাবেন সেই আশায় বুধবার থানায় যায়। সেই সময়ও থানার ডিউটি অফিসাররা তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। কেন আসছেন, থানায় ঢুকতে দিবে না এসব কিছু। পরে রাতে মালিক শ্রমিকেরা ওসির সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ দেয়। ওসি তাৎক্ষনিক সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের জন্য নির্দেশ দেন এসআই প্রবীরকে।

তারা বলেন, বৃহস্পতিবার এসআই প্রবীর আমাদের ফোন করে সন্ধ্যার পর থানায় আসতে বলেন। তার কথা মতো থানায় এসে দেখি যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি তারা সহ তাদের প্রায় ৬০-৭০ জন লোক থানার মেইন গেইটে দাড়িয়ে আছে। তখন তাদের সাথে দাড়িয়ে ছিলো এসআই প্রবীর। পরে থানার ভিতর গিয়ে ওসি সাহেবের অফিসে তাকিয়ে দেখি তিনি নেই। তখন ডিউটি অফিসারের কক্ষে অপেক্ষা করি। বেশ কিছুক্ষন পর এসআই প্রবীর গিয়ে বলেন স্থানীয় ছেলে পেলেদের সঙ্গে ঝামেলা করে লাভ নেই। আমি আপোষ মিমাংসা করে দিচ্ছি পরবর্তীতে কোন সমস্যা হবেনা।

এখানেই শেষ নয় সম্প্রতি ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ আসার পথে এক সিএনজি চালিত অটোরিকশায় অনেক টাকা পায় এক ব্যাংক কর্মকর্তা ও সিএনজি চালক। ওই টাকা প্রকৃত ব্যক্তিকে খোঁজে ফেরত দেওয়ার জন্য থানার উদ্দেশ্যে রওনা হন দুইজন। কিন্তু থানার কাছে এসে ওসি থানায় নেই জানতে পেরে কেউ থানায় যেতে আগ্রহী হননি। এর কারণ জানতে চাইলে ওই দুইজন জানান, পুলিশ একাধিক প্রশ্ন করবে, উল্টো কথার মারপ্যাচে ফেলবে। এর চেয়ে বরং ওসি মঞ্জুর কাদের আসুক তখনই যাবো।’

প্রায় আধাঘণ্টা পর যখন ওসি মঞ্জুর কাদের থানায় আছেন নিশ্চিত হন তখনই থানায় প্রবেশ করেন ওই দুই ব্যক্তি। পরে পুলিশের কাছে ৪ লাখ টাকা হস্তান্তর করেন প্রকৃত মালিককে খোঁজে বের ফেরত দেওয়ার জন্য। যথারীতি ওসি মঞ্জুর নিজ দায়িত্বে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের দিয়ে প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি জানান, চুরি বা ছিনতাইয়ের অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে ডিউটি অফিসাররা কোন কথায় বলতে চায় না। এমন ভাব নেয় যে তারাই থানার ওসি। আর কোন জিডি করতে গেলে এখানে যান, ওখানে যান, লিখে আনেন, নানা প্রশ্ন করে হয়রানী করে। এছাড়াও জিডি করার জন্য ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করে।

থানার পাশে কয়েকজন দোকানদার বলেন, অনেক লোক থানা থেকে বের হয়ে দোকানে বসে কান্না করে। ইন্সপেক্টর কিংবা ওসির সঙ্গে দেখা করতে পারে নাই বলে। কারণ ডিউটি অফিসাররা তাদের থানা থেকে বের করে দেন।

তারা বলেন, অনেকেই পারিবারিক কিংবা ব্যক্তিগত গোপন বিষয়ে সবাইকে জানাতে চান না। ওসির সহযোগিতা নিয়ে ঘরোয়া ভাবে সমাধানের জন্য থানায় আসেন। ওইসময় ডিউটি অফিসাররা তাদের সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করে। ওসির জন্য অপেক্ষা করলেও থানা থেকে বাইরে গিয়ে আপেক্ষা করতে বলে। সেজন্য অনেকেই দোকানে এসে বসে থাকে। ওসি থানায় থাকলেই যায় তারা।

নাম প্রকাশে ব্যক্তি বলেন, কিছুদিন আগে বিসিকে আগুন লেগেছিল। থানায় ফোন দিয়েছিলাম যাতে তারা সহযোগিতা করে। কিন্তু ফোন রিসিভ করে আগুনের খবর শোনে বলে থানা কি গিয়ে আগুন নিভাবে। এক ধমক দিয়ে ফোন রেখে দিলো। আর ফোন দিলাম ধরে নাই।

তিনি আরো বলেন, ডিআউটি অফিসারের কাজই হলো ফোন রিসিভ করা। কোন খবর জানার সঙ্গে সঙ্গে ঊর্ধ্বতনদের জানানো কিন্তু এরা শুধু আছে টাকার জন্য। টাকা দিবেন কাজ করবে না হলে ঘুমাবে। কোন কিছুতে সাহায্য করবে না। একজন সাংবাদিক বা বড় কোন কর্মকর্তা পরিচয় গোপন করে তাদের কাছে সহযোগিতার জন্য গেলেই প্রমাণ পেয়ে যাবেন। এরা কত নিষ্ঠুর। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।


বিভাগ : আইন আদালত


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও