তেল বিক্রি প্রতিষ্ঠানে অভিযান : তেলচোর ও ডিবির পাল্টাপাল্টি মামলা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৪:৪৫ পিএম, ১৩ মার্চ ২০১৯ বুধবার

তেল বিক্রি প্রতিষ্ঠানে অভিযান : তেলচোর ও ডিবির পাল্টাপাল্টি মামলা

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় একটি তেল বিক্রির দোকানে ডিবির অভিযানের পর পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। একটি মামলা করেছে ডিবির অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়ার কর্মকর্তা। আর অপর মামলার বাদী যে দোকানে অভিযান হয়েছিল সেই দোকানের মালিক। ডিবি বলছে তিনি তেল চোর চক্রের সদস্য। আর দোকান মালিকের দাবী চাঁদা না পেয়ে ওই অভিযান চলেছে।

জেলা ডিবির এসআই জলিল মাতুব্বর বাদী হয়ে ইকবাল চৌধুরী সহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে ১২ মার্চ ফতুল্লা মডেল থানায় তেল চুরির অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৫৭টি ড্রামে সাত লাখ ছিয়ানব্বই হাজার নয়শত চল্লিশ টাকার ডিজেল জব্দ দেখানো হয়েছে। এছাড়া মামলায় এসআই আলমগীর কবির, এএসআই জাহাঙ্গীর হোসাইনসহ ৪জন কনস্টেবলের সহযোগীতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান দেখানো হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে ইকবাল চৌধুরী নামে ফতুল্লার তেল ব্যবসায়ী নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুনের আদালতে মামলা দায়ের কনেন।

আদালত সূত্র জানান, বাদীর অভিযোগটি আমলে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মামলার বাদী ইকবাল চৌধুরী ফতুল্লার চৌধুরী বাড়ির মৃত কুদরতুল্লাহ চৌধুরীর ছেলে।

মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশের সোর্স আনোয়ার হোসেনকে। সে রূপগঞ্জ উপজেলার গাউছিয়া আমলাবো এলাকার তারেক মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া ও রাজশাহীর হরিপুর এলাকার সামসুল হকের ছেলে। আনোয়ার হোসেন ডিবি পুলিশ পরিচিয়ে একাধিকবার ছিনতাই করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলো। এছাড়াও সে ফতুল্লার সোর্স শাওন হত্যা মামলার আসামী।

মামলার অপর আসামীরা হলেন জেলা ডিবির এসআই আলমগীর হোসেন, এএসআই জাহাঙ্গীর আলম এবং ডিবি পুলিশের সাবেক ক্যাশিয়ার পরিচিত নুরু মিয়া।

ইকবাল চৌধুরী মামলায় উল্লেখ করেন, তিনি একজন বৈধ তেল ব্যবসায়ী। যমুনা ডিপো থেকে বৈধ ভাবে তেল ক্রয় করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে থাকেন। এরমধ্যে ১০ মার্চ বিকেল ৫ টার দিকে অভিযুক্ত ওই চারজন ফতুল্লা লঞ্চঘাট এলাকায় তার মালিকানাধীন মেসাস চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সাদাই মাইক্রোতে এসে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে তার ম্যানেজার রুবেল ও লোকমানকে আটক করে মারধর করে। এক পর্যায়ে বাদীর গোডাউনের তালা ভেঙে ৭২টি ডিজেল ভর্তি তেলের ড্রাম (প্রতিটিতে ২২০ লিটার) লুট করে ৫ টনি তিনটি ট্রাকে করে নিয়ে যায়। সাথে রুবেল, লোকমান ও কামাল হোসনকেও ধরে নিয়ে যায়।


বিভাগ : আইন আদালত


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও