পুলিশের মারধরের ১৬ বছর পর বিচার পেলেন মুহুরী মনোয়ারা

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৫৮ পিএম, ১৬ মে ২০১৯ বৃহস্পতিবার

পুলিশের মারধরের ১৬ বছর পর বিচার পেলেন মুহুরী মনোয়ারা

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আইনজীবীর সহকারী (মুহুরী) মনোয়ারা বেগমকে পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দেয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলার রায়ে এসআই সাদেক মজিবুর রহমানকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ের আরো ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ভোগের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

১৬ মে বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক শেখ রাজিয়া সুলতানা এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পূর্বে দন্ডিত আসামী জামিনে গিয়ে পলাতক এখন পর্যন্ত পলাতক রয়েছে।

আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রশিকিউটর জাসমিন আহমেদ বলেন, গত ৩ এপ্রিল প্রকাশ্যে আদালতে রায় ঘোষণা হলেও বৃহস্পতিবার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন আদালত।

তিনি আরো জানান, দন্ডিত সাদেক মজিবুর রহমান মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদীখান থানার ইমামগঞ্জ গ্রামের মৃত. সাবেদ আলী মোল্লার ছেলে। সে উপপরিদর্শক থেকে পরিদর্শক পদোন্নতি পেয়ে ঢাকা সিআইডিতে দায়ীত্ব পালন করছেন।

অপরদিকে মুহুরী মনোয়ারা বেগম বন্দর উপজেলার একরামপুর গ্রামের মৃত করিম কাজির মেয়ে। সে নারায়ণগঞ্জ জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আব্দুর রহমান শেখের সহকারী (মুহুরী)।

মামলার বরাত দিয়ে তিনি আরো জানান, এসআই সাদেক মজিবুর রহমান বন্দর থানায় কর্মরত থাকার সময় ১৯৯৩ সালে জমি সংক্রান্ত একটি মামলার বিষয়ে থানায় গেলে মনোয়ারার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এ পরিচয়ের সূত্র ধরে উভয়ের মধ্যে প্রেম ভালোবাসা ও শারীরিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। এতে মনোয়ারা বেগম তিন মাসের গর্ভবর্তী হয়। এতে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে এসআই সাদেক মজিবুর মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে মনোয়ারাকে গর্ভপাত করায়। ওইসময় বন্দর থানা থেকে বদলী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় এসে দায়ীত্ব নিয়ে এসআই সাদেক মজিবুর একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী পরিচয় দিয়ে মনোয়ারাকে নিয়ে তিন বছর বসবাস করেন। এক পর্যায়ে সাদেক মজিবুরের প্রথম স্ত্রী বিষয়টি জানতে পারলে এনিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

এতে ফতুল্লা মডেল থানায় বদলী হয়ে যায় সাদেক মজিবুর। সেখানে গিয়ে বিয়ের জন্য চাপ দেয় মনোয়ারা। এতে ফুসে উঠে ২০০৩ সালের ১৯ জুন রাত সাড়ে ১০টায় মনোয়ারা বেগম ফতুল্লার মাসদাইর ঈদগাহের সামনে রিকশা যোগে বাসায় যাওয়ার পথে সাদেক মজিবুর কয়েকজন ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে তার উপর হামলা চালায়। এসময় মনোয়ারার হাত পা ভেঙ্গে ফেলে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত করে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে মনোয়ারা বেগম নারায়ণগঞ্জ কোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আদালত সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে রায় ঘোষণা করেন।


বিভাগ : আইন আদালত


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও