চাষাঢ়া বোমা হামলার দুই প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য গ্রহণ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৫ পিএম, ১৭ জুন ২০১৯ সোমবার

চাষাঢ়া বোমা হামলার দুই প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য গ্রহণ

নারায়ণগঞ্জের প্রাণ কেন্দ্র চাষাঢ়া আওয়ামীলীগ অফিসে বোমা হামলার মামলায় প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী ও এক আইনজীবী সহকারী আদালতে সাক্ষী দিয়েছেন।

১৭ জুন সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক শাহ মোহাম্মদ জাকির হাসান তাদের দুজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এর আগে ২০১৫ সালের ২ আগস্ট মামলার বাদী মহানগর আওয়ামীলীগ নেতা ও আইনজীবী খোকন সাহা সাক্ষী দিয়েছিলেন। এনিয়ে আলোচিত মামলায় মোট ৩জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুর রহিম বলেন, ঘটনার সময়ের প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী বিদ্যুৎ কুমার সাহা ও আইনজীবী সহকারী সঞ্জিত কুমার দাস সাহা সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আদালতে সাক্ষী দিয়েছেন। তাদের মধ্যে বিদ্যুৎ কুমার সাহা ঘটনার দিন চাষাঢ়া আওয়ামীলীগ অফিসে কর্মী সভায় যোগ দিতে গিয়েছিলেন। আর লিটন আওয়ামীলীগ অফিসের হল রুমে ছিলেন। বোমা বিস্ফোরণে লিটন মারাত্মক আহত হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এখনো বোমার স্পেন্টার রয়েছে। সে ভারতে চিকিৎসা নিয়েছে। এছাড়া তারা দুজন সাক্ষীই ঘটনার দিনের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে এঘটনায় কারা জড়িত তাদের বিষয় সাক্ষী দিয়েছেন। আগামী ৩ জুলাই পরবর্তী সাক্ষী গ্রহণের জন্য দিন ধার্য্য করা হয়েছে।

ঘটনার দীর্ঘ ১২ বছর পর দুটি মামলায় ২০১৩ সালের ২ মে ৬ জনকে অভিযুক্ত ও ৩১ জনকে অব্যাহতি প্রদান করে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুটি মামলার প্রত্যেকটির ৯৪৭ পাতার চার্জশীট দাখিল করা হয়। এতে মামলার চার্জশীট থেকে তৈমূর আলম খন্দকার সহ ৩১জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আর অভিযুক্ত ৬ জন হলেন নারায়ণগঞ্জে ক্রসফায়ারে নিহত যুবদল ক্যাডার মমিনউল্লাহ ডেভিডের ছোট ভাই শাহাদাতউল্লাহ জুয়েল, হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান, ওবায়দুল্লাহ রহমান, ভারতের দিল্লী কারাগারে আটক সহোদর আনিসুল মোরসালিন, মুহিবুল মুত্তাকিন এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু।

নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, ১৬ জুনের বোমা হামলার ঘটনার প্রধান আসামী হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানের বিরুদ্ধে সারাদেশে ৫১টি মামলা রয়েছে। সে কারণে ২০১৭ সালের এপ্রিল তার মৃত্যুদন্ড কার্যকরের আগে যথা সময়ে তাকে নারায়ণগঞ্জ হাজির করা হয়নি। এ কারণে বার বার সাক্ষ্য গ্রহণ পেছানো হয়। আর এতে করে মামলার দীর্ঘসূত্রিতাও বাড়ে। তবে আমরা চেষ্টা করছি নারায়ণগঞ্জের বোমা হামলার মামলা দুটি যেন দ্রুত শেষ করা যায়। অচিরেই এর দৃশ্যমান কাজ পরিলক্ষিত হবে। আমরা চাই দ্রুত চাঞ্চল্যকর এ মামলার বিচারও যেন শেষ হয়।


বিভাগ : আইন আদালত


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও