আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলায় সাক্ষী দিলেন চন্দন শীল সহ ৪ জন

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৫:১৬ পিএম, ৩ জুলাই ২০১৯ বুধবার

আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলায় সাক্ষী দিলেন চন্দন শীল সহ ৪ জন

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় আওয়ামীলীগ অফিসে ভয়াবহ বোমা হামলায় ২০ জন নিহতের সঙ্গে চিরতরে দুই পা হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করা দুইজন সহ চারজন ওই মামলায় আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। তাঁরা হলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি চন্দন শীল ও রতন দাস।

৩ জুলাই বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক শাহ মোহাম্মদ জাকির হাসান তাদের ৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য দেয়ার সময় চন্দন শীল ঘাতকদের বিচার দাবী করে কাঠ গড়ায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

অপর দুইজন সাক্ষী হলেন বোমা হামলায় আহত জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি খবির আহমেদ ও প্রত্যক্ষদর্শী রফিক।
সাক্ষী প্রদানের সময় মামলার অভিযুক্ত ৬ আসামীর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু (জামিনে) ও (কারাগারে বন্দি) যুবদল নেতা ক্রসফায়ারে নিহত মমিন উল্লাহ ডেভিডের ছোট ভাই শাহাদাৎ উল্লাহ জুয়েল সহ দুইজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুর রহিম বলেন, বুধবার চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এনিয়ে বোমা হামলার ঘটনায় ৭জন প্রদান করেছেন। সাক্ষীরা সেই ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন আদালতে। ঘটনার সময় এমপি শামীম ওসমানের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সচিব চন্দন শীল, যুবলীগ কর্মী রতন দাস ও খবির আহমেদ আওয়ামীলীগ অফিসে ছিলেন। এতে বোমা হামলা তাদের মধ্যে রতন ও চন্দন শীল পা হারায় এবং এমপি শামীম ওসমান, খবির আহমেদ সহ অর্ধশতাধীক নেতাকর্মী বোমার স্পিন্টারে আহত হয়। তখন রফিক নামে একজন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে সেই বেদনা বিধুর দৃশ্য দেখেছেন। আগামী ২১ আগস্ট পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।

সে রাতে যা ঘটেছিল
২০০১ সালে আওয়ামীলীগ সরকারের মেয়াদের শেষদিকে ১৬ জুন চাষাঢ়া আওয়ামীলীগ অফিসে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। রাতে পৌনে আটটার দিকে তখনকার এমপি শামীম ওসমান যখন জনগণের কথা শোনার জন্য সাক্ষাৎ দিচ্ছিলেন ঠিক তখনি বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। সেই হামলায় আওয়ামীলীগের ২০ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারান।

মামলা
ঘটনার পর মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা দুটি মামলা (একটি বিস্ফোরক ও অন্যটি হত্যা) দায়ের করেন। ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে এ মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করা হয়। দুটি মামলায় ১৪ বছরে ৭ বার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন এবং ৮ম বার ১৩ বছর পর ২০১৩ সালের ২মে মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি ৬ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করে। অভিযুক্ত ৬ জন হলেন ক্রসফায়ারে নিহত যুবদল ক্যাডার মমিনউল্লাহ ডেভিডের ভোট ভাই শাহাদাতউল্লাহ জুয়েল, হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান, ওবায়দুল্লাহ রহমান, ভারতের দিল্লী কারাগারে আটক সহোদর আনিসুল মোরসালিন, মুহিবুল মুত্তাকিন এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু। অভিযুক্তদের মধ্যে জামিনে থাকা কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু ও ওবায়দুল্লাহ রহমান ছাড়া অন্যরা গ্রেপ্তার রয়েছে। আর ২০১৭ সালের এপ্রিলে মুফতি হান্নানের অপর একটি মামলায় ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

এখনো দেশে আনা হয়নি সহোদরকে
২০০৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারী ভারতের রাজধানী দিল্লীর একটি রেলস্টেশন হতে হরকাতুল জিহাদের দুই জঙ্গি সহোদর আনিসুল মোরসালিন ও মুহিবুল মুত্তাকিনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বাড়ি বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলায়। তারাও বোমা হামলার ঘটনা স্বীকার করেছেন। বর্তমানে দিল্লী কারাগারে বন্দী রয়েছে। কিন্তু তাদের এখনো দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির নারায়ণগঞ্জ শাখার এএসপি এহসানউদ্দীন জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন তাকে বলেছেন যে ২০০১ সালের ১৬ জুন বিকেলে চাষাঢ়ায় আওয়ামী লীগ অফিসে এসেছিলেন ওবায়দুল নামের এক ব্যক্তি। তার বাড়ি শহরের চাষাঢ়ায় চকলেট ফ্যাক্টরী মোড় এলাকাতে। তিনি সহ আরও ২জন মোট ৩জন এসেছিলেন আওয়ামী লীগ অফিসে। রাত ৭টার দিকে তিনি সহ ২ জন শামীম ওসমানের ব্যক্তিগত কক্ষে গিয়ে কথা বলেন। তারা এসেছিলেন আমেরিকার ভিসার জন্য সুপারিশ করতে। ৩জন এলেও মূলে ছিলেন উবায়দুল। অপর দুইজনের হাতে কালো ব্রিফকেস ছিল। ওই দুইজন মোরসালিন মোত্তাকিম।

যা বললেন পিপি
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, ১৬ জুনের বোমা হামলার ঘটনার প্রধান আসামী হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানের বিরুদ্ধে সারাদেশে ৫১টি। সে কারণে ২০১৭ সালের এপ্রিল তার মৃত্যুদন্ড কার্যকরের আগে যথা সময়ে তাকে নারায়ণগঞ্জ হাজির করা হয়নি। এ কারণে বার বার সাক্ষ্য গ্রহণ পেছানো হয়। আর এতে করে মামলার দীর্ঘসূত্রিতাও বাড়ে। তবে আমরা চেষ্টা করছি নারায়ণগঞ্জের বোমা হামলার মামলাটি যেন দ্রুত শেষ করা যায়। অচিরেই এর দৃশ্যমান কাজ পরিলক্ষিত হবে। আমরা সরকারের কাছে আবেদন করেছি যেন দ্রুত ভারতের কারাগারে থাকা দুইজনকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।


বিভাগ : আইন আদালত


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও