বিনামূল্যে আইনগত সহায়তাও নিতে যায়না বেশীরভাগ ধর্ষিতা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৬ পিএম, ১১ জুলাই ২০১৯ বৃহস্পতিবার

বিনামূল্যে আইনগত সহায়তাও নিতে যায়না বেশীরভাগ ধর্ষিতা

নারায়ণগঞ্জে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নিচ তলায় লিগ্যাল এইড একটি শাখা রয়েছে। যেখানে বিচারপ্রার্থীরা বিনা পয়সায় আইনগত সহায়তা পেতে পারে। কারণ লিগ্যাল এইডের আইনজীবীদের ব্যয়ভার সম্পূর্ণভাবে বহন করে সরকার। কিন্তু বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই ধর্ষণের শিকার নারী ও শিশুর পরিবার আইনের দ্বারস্থ হয়না। এক্ষেত্রে সামাজিকভাবে হেনস্থা, ধর্ষকের পরিবার প্রভাবশালী হওয়া ছাড়াও নানা বিষয় কাজ করে। এছাড়া লিগ্যাল এইডে যে বিনা পয়সায় আইনগত সহায়তা পাওয়া যায় এ বিষয়টিও জানে না অনেক পরিবার।

নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে অবস্থিত ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) প্রোগ্রাম অফিসার যুথিকা দাস জানান, অনেক ক্ষেত্রেই ধর্ষিতার শিকার নারী ও শিশুর পরিবার মামলা করতে চাননা। এক্ষেত্রে সামাজিকভাবে হেনস্থা, বদনাম হওয়া ও প্রভাবশালীদের ভয়ভীতিও কাজ করে। নারায়ণগঞ্জের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল থেকে ২০১৮ সালে ৩০ জন ধর্ষিতাকে লিগাল এইডের মাধ্যমে আইনী সহায়তার বিষয়টি তারা বুঝিয়েছেন।  ৫ জন ধর্ষিতাকে থানায় আইনী সহায়তা পেতে সহায়তা করেছেন। এছাড়া ১২ জন ধর্ষিতাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে তারা সহায়তা করেছেন।

তবে এ বিষয়ে লিগ্যাল এইড কার্যালয়ের অফিস সহায়ক হেদায়েত শিকদার জানান, নারায়ণগঞ্জে লিগ্যাল এইডের আইনজীবী রয়েছে ৪৩ জন। জেলা ও দায়রা জজ লিগ্যাল এইড কমিটির কার্যক্রম দেখাশোনা করে থাকেন। লিগ্যাল এইড জেলা কমিটির অফিসের একটি হটলাইন রয়েছে ০১৭০০৭৮৪২৭৬। যেকোন বিচারপ্রার্থী লিগ্যাল এইডের আইনজীবীদের মাধ্যমে বিনা পয়সায় আইনগত সহায়তা পেতে পারে। ধর্ষণ মামলার আলাদা কোন তালিকা তাদের কাছে নেই। গত এক বছরে মাত্র ১০ থেকে ১২ জন ধর্ষিতা লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনগত সহায়তা নিয়েছে। তবে পারিবারিক বিরোধের ঘটনায় অনেক মামলাতেই নারীরা লিগ্যাল এইডের সহায়তা নিয়ে থাকেন।

লিগ্যাল এইড নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির প্যানেল আইনজীবী আবিদা সুলতানা জানান, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় ধর্ষণের শিকার নারী ও শিশুর পরিবার সামাজিক ভাবে হেয় হওয়ার ভয়ে আইনের দ্বারস্থ হতে চান না। তবে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে নির্যাতিত নারী ও শিশুরা বিনা পয়সায় আইনগত সহায়তা পেতে পারেন।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের নারায়ণগঞ্জস্থ লিগ্যাল এইড বিষয়ক কর্মকর্তা খালেদা আক্তার বলেন, তারা গণমাধ্যমে কিংবা স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ধর্ষণ গণধর্ষণের খবর পেয়ে ধর্ষিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাদেরকে আইনগত সহায়তা পাওয়ার নানা দিকগুলো তুলে ধরেন। ধর্ষিতা যাতে সঠিক ন্যায় বিচার পেতে পারে এবং ধর্ষকরা যাতে সঠিক শাস্তি পায় সেজন্য তারা সচেষ্ট রয়েছেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় ধর্ষিতার পরিবার নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার কারণে যেমন মামলা করতে রাজী হয়না তেমনি মামলা দায়েরের পরেও অনেকে মীমাংসার পথে হাটে। যে কারণে আমরা ধর্ষিতার পরিবারের কাছে গেলেও তারা অনেকেই আমাদের সঙ্গে পরবর্তীতে যোগাযোগ রাখেন না বা আসতে চাননা।


বিভাগ : আইন আদালত


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও