ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনীতে বাক প্রতিবন্ধী হত্যায় ৮জন গ্রেপ্তার

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১৫ পিএম, ২১ জুলাই ২০১৯ রবিবার

ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনীতে বাক প্রতিবন্ধী হত্যায় ৮জন গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি আলআমিন নগর এলাকায় গণপিটুনীতে বাক প্রতিবন্ধী সিরাজ নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। ২১ জুলাই শনিবার দুপুরে ঘটনার পর রাতেই ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই মামলায় ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করে ৪০০ জনকে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামী করেছে পুলিশ। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই সাখাওয়াত বাদি হয়ে ওই মামলাটি দায়ের করেন।

ওই মামলায় ইতিমধ্যে এজাহারনামীয় ৮ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো, দেলোয়ার হোসেন (৩৫), সোহেল (২৬), হাজী মোঃ মোশারফ মাতবর (৪২), জোনায়েত হোসেন শান্ত (২১), হাফিজুল (২৮), মজনু (৩৫), আলামিন (১৯) ও আবুল কালাম আজাদ (২২)।

নিহত সিরাজের মেঝো ভাই আলম গণমাধ্যমকে জানান, প্রায় ১০ বছর পূর্বে শামসুন্নাহারের সঙ্গে বিয়ে হয় বাক প্রতিবন্ধী সিরাজের। ৬ বছরের এক কন্যা সন্তানও রয়েছে তাদের। ৪ ভাই ৩ বোনের মধ্যে সবার বড় সিরাজ। বাক প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও কখনো কারো সঙ্গে বিবাদে জড়াতো না সিরাজ। বাড়ির অন্যান্যদের বোঝা না হয়ে নিজেই রাজমিস্ত্রীর সহযোগী যোগালী হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতেন। প্রায় বছর খানেক পূর্ব থেকে এলাকার বিদ্যুৎ মিস্ত্রী আব্দুল মান্নান ওরফে সোহেলের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে তার স্ত্রী শামসুন্নাহার। এক পর্যায়ে উভয়ে পালিয়ে যায়। সঙ্গে নিয়ে যায় কন্যা সাদিয়া ওরফে মিনজুকেও। এরপর সম্ভাব্য সকল স্থানে স্ত্রী কন্যার সন্ধান করেন সিরাজ ও তার স্বজনরা। কিন্তু কোন হদিস পাননি। ৫-৬ মাস পূর্বে স্ত্রী শামসুন্নাহার ডিভোর্স লেটার পাঠান সিরাজের কাছে। সেই থেকে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েন সিরাজ। স্ত্রীকে না পেলেও নিজে নিজে কন্যাকে সন্ধান করতে থাকেন। এক পর্যায়ে কিছুদিন পূর্বে কন্যার সন্ধান পান সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি আল আমিন নগর এলাকায়।

২০ জুলাই শনিবার সকালে কন্যা সাদিয়া ওরফে মিনজুকে দেখতে যান সিরাজ। নিজের কাছে টাকা না থাকায় বাসার পাশের মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী মোখলেসুর রহমানের কাছ থেকে ১০০ টাকা ঋণ নিয়ে মেয়ের জন্য চুড়ি ও লিপিস্টিক ক্রয় করে মেয়েকে দেখতে যায় সিরাজ। মেয়ের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে তার স্ত্রীর বর্তমান স্বামী আব্দুল মান্নান ওরফে সোহেল তাকে দেখে ফেলে ছেলেধরা ও গলাকাটা বললে এলকাবাসী গণধোলাই দেয় হতভাগা সিরাজকে। সেখান থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

সিদ্ধিরগঞ্জের ৫নং ওয়ার্ডের সাইলো এলাকার ঠিকাদার মোহর চানের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন মৃত সিরাজ। তাদের গ্রামের বাড়ি ভোলার লাল মোহন থানার মুগিয়া বাজার এলাকায়। তার পিতার নাম আ. রশিদ মন্ডল। মায়ের নাম কমলা খাতুন।

২১ জুলাই রোববার সকালে নিহত সিরাজের লাশ সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলোগেইট এলাকায় নিয়ে আসলে এলাকাবাসী এই হত্যাকান্ডের দোষীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখায়। লাশকে ঘিরে থাকা এলাকাবাসী ও তার মেঝো ভাই আলম সিরাজের হত্যাকান্ডকে পরিকল্পিত বলে উল্লেখ করে। এসময় তারা সিরাজ হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে মিছিলও করে।


বিভাগ : আইন আদালত


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও