ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনীর আসামী যারা (তালিকা সহ)

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:৩৬ পিএম, ২১ জুলাই ২০১৯ রবিবার

ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনীর আসামী যারা (তালিকা সহ)

নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জে বাক প্রতিবন্ধী সিরাজকে পিটিয়ে হত্যা ও শারমিন নামের আরো একজনকে হত্যার অভিযোগে পৃথক মামলা হয়েছে। এসব মামলায় বিতর্কিতদেরই আসামী করা হয়েছে।

সিরাজ হত্যা মামলায় আসামী ৪০০, গ্রেপ্তার ৮
মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি আলআমিন নগর এলাকায় গণপিটুনীতে বাক প্রতিবন্ধী সিরাজ নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। ২১ জুলাই শনিবার দুপুরে ঘটনার পর রাতেই ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই মামলায় ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করে ৪০০ জনকে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামী করেছে পুলিশ। সিরাজকে গণপিটুনীতে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় পুলিশ বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই সাখাওয়াত বাদি হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

ওই মামলায় ইতিমধ্যে এজাহারনামীয় ৮ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো, দেলোয়ার হোসেন (৩৫), সোহেল (২৬), হাজী মোঃ মোশারফ মাতবর (৪২), জোনায়েত হোসেন শান্ত (২১), হাফিজুল (২৮), মজনু (৩৫), আলামিন (১৯) ও আবুল কালাম আজাদ (২২)।

নিহত সিরাজের মেঝো ভাই আলম গণমাধ্যমকে জানান, রাজমিস্ত্রীর সহযোগী হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতেন সিরাজ। প্রায় ১০ বছর আগে সামসুন্নাহার নামের নারীর সঙ্গে বিয়ে হয় বাক প্রতিবন্ধী সিরাজের। সাদিয়া নামের ৬ বছরের মেয়ে সন্তানও রয়েছে তাদের। প্রায় বছর খানেক পূর্ব থেকে এলাকার বিদ্যুৎ মিস্ত্রী আব্দুল মান্নান ওরফে সোহেলের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে মেয়েকে নিয়ে সামসুন্নাহার ছেড়ে দেয় সিরাজের ঘর। ৬ মাস আগে সিরাজকে ডিভোর্স লেটার পাঠান সামসুন্নাহার। কিন্তু সিরাজ তার মেয়ের জন্য ব্যাকুল থাকতো। শনিবার সকাল বাসার পাশের মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী মোখলেসুর রহমানের কাছ থেকে ১০০ টাকা ঋণ নিয়ে মেয়ের জন্য চুড়ি ও লিপিস্টিক ক্রয় করে মেয়েকে দেখতে যায় সিরাজ। মেয়ের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে তার স্ত্রীর বর্তমান স্বামী আব্দুল মান্নান ওরফে সোহেল তাকে দেখে ফেলে ছেলেধরা ও গলাকাটা বললে এলকাবাসী গণধোলাই দেয় হতভাগা সিরাজকে। সেখান থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

শারমিন হত্যা চেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার ৬, আসামী ১৫০

২০ জুলাই শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী শাপলা চত্ত্বর এলাকায় ছেলে ধরা সন্দেহে শারমিন (২০) নামে নারীকে গণপিটুনিতে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ওইদিন রাতেই শারমিনের মা তাসলিমা বেগম বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় শারমিনকে মানসিক প্রতিবন্ধী নারী উল্লেখ করা হয়েছে।

আহত শারমিন ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকার সালমান মিয়ার স্ত্রী। ওই মামলায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত এক থেকে দেড়শ জনকে আসামী করা হয়েছে। তারা হলেন নোয়াখালী জেলার সুদারাম থানার চরমটুয়া এলাকার মো. সোহেল, সিদ্ধিরগঞ্জের আফজাল হোসেন, মুন্সিগঞ্জের টুঙ্গিবাড়ী এলাকার সৈয়দ নান্নু, সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলকার মো. রহমত উল্লাহ, কুমিল্লা জেলার মোরাদনগর এলাকার আল-আমিন, পাইনাদী নতুনব্রীজ এলাকার এনায়েত, পাইনাদী মধ্যপাড়া এলাকার রাজ্জাক, পাইনাদী সিআই খোলা এলাকার মো. আলী, পাইনাদী মধ্যপাড়া এলাকার সোহাগ, হিরাঝিল এলাকার আকরাম, কদমতলী উত্তরপাড়া এলাকার তানজিম আহমেদ, বাতানপাড়া এলাকার নাহিদ, রহমান নগর এলাকার নূর আলম, গোদনাইল এলাকার আবু বকর, শিমরাইল এলাকার জজ মিয়া, আটি হাউজিং এলাকার বাদশা, গোদনাইল নয়াপাড়া এলাকার সালাউদ্দিন, গোদনাইল এলাকার মামুন, মিজমিজি কান্দাপাড়া এলাকার মুক্তার হোসেন, সিদ্ধিরগঞ্জের (টাইগার ফারুকের ছোট ভাই) জসিম।

এই মামলায় ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো, সোহেল (৩৫), আফজাল হোসেন (২৭), সৈয়দ নাননু (৬৫), রহমত উল্লাহ (২৮), আলআমিন (১৯) ও নাহিদ (২৬)।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সেলিম মিয়া জানান, সিরাজ হত্যা মামলায় ৮ জন ও শারমিনকে হত্যা চেষ্টা মামলায় ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

বেলা সাড়ে ১১টায় সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী শাপলা চত্ত্বর এলাকায় শারমিন (২০) নামে এক নারী ৫ বছরের এক শিশুকে খেলনা ও খাবার দিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে শিশুটি চিৎকার শুরু করে। এতে এলাকাবাসী ছেলে ধরা সন্দেহে ওই নারীকে গণপিটুনি দেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীকে আটক দেখিয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করে। আটক শারিমন ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকার সালমান মিয়ার স্ত্রী।


বিভাগ : আইন আদালত


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও