ওসি মীর শাহীন পারভেজ প্রত্যাহার, দায়িত্বে বিতর্কিত সেলিম

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৭:৫৭ পিএম, ১ আগস্ট ২০১৯ বৃহস্পতিবার

ওসি মীর শাহীন পারভেজ প্রত্যাহার, দায়িত্বে বিতর্কিত সেলিম

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মীর শাহীন পারভেজকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। ১ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁকে থানা থেকে সরিয়ে মাসদাইরে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক (ডিআই-২) সাজ্জাদ রোমান জানান, বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি শাহীন পারভেজকে প্রশাসনিক কারণে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে তার পরিবর্তে আপাতত স্থলাভিষিক্ত থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দায়িত্ব পালন করবে।

এখানে উল্লেখ্য সিদ্ধিরগঞ্জে গত ২০ জুলাই ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনীতে সিরাজ নিহত ও শারমিন আহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নিরীহ সাধারণ লোকজন, ব্যবসায়ী, ঠিকাদারসহ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতাকর্মীদের আসামী করা হয়েছে। এ মামলায় নিরীহ লোকজনকে আসামী করার ঘটনায় প্রতিবাদে পুলিশ সদর দপ্তর ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয় কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগিরা।

ঘটনার আটদিন পর ২৭ জুলাই পুলিশ সদর দপ্তর ও রেঞ্জ ডিআইজির কাছে ওই অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সেলিম মিয়াকে ঘুষখোর ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাখাওয়াত হোসেন মৃধার বিরুদ্ধে আর্থিক ফায়দা লোটার অভিযোগ করা হয়। দায়ের করা অভিযোগ পত্রে ওই পরিদর্শক সেলিম মিয়ার সিদ্ধিরগঞ্জ থানা থেকে অপসারণ (প্রত্যাহার) দাবি করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, গণপিটুনির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় যাদের আসামী করা হয়েছে সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ি, দানবির, শিক্ষানুরাগি, আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতাকর্মী। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ঘুষখোর এবং সুচতুর পুলিশ অফিসার সেলিম মিয়া এবং উপ-পরিদর্শক শাখাওয়াত হোসেন মৃধা আর্থিক ফায়দা লুটের জন্য এবং ব্যবসায়ীদের হয়রানীর জন্য সুকৌশলে উক্ত মামলাটি করা হয়েছে। অভিযোগে আরো বলা হয়, পরিদর্শক (তদন্ত) সেলিম মিয়া ৬ থেকে ৭ মাস আগে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় যোগদানের পর বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের দেখা করে চা খাওয়ার দাওয়াত দেন। যে ব্যবসায়ীরা তার সাথে দেখা করেন নাই তারাই আজ ওই দু’টি মামলার আসামী হয়েছে এবং অন্যদের হুমকী দিচ্ছে যে, তার সাথে দেখা না করলে বিভিন্ন মামলা দিয়ে আসামী করা হবে। পরিদর্শক (তদন্ত) সেলিম মিয়ার ব্যক্তিগত একটি হাইয়েস গাড়ি (ঢাকা-মেট্রো-চ-১৯-৪১৮৮) রয়েছে। ওই গাড়ি নিয়ে প্রতি রাতে থানার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এবং নিরীহ লোকদের কাছ থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। নাসিক ৭নং ওয়ার্ডের মো. সজু নামে ব্যক্তিকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করে ১০ লাখ টাকা আদায়ের কথাও উল্লেখ করা হয় অভিযোগটিতে।

এদিকে এই মামলা দুটিকে ভুতুড়ে মামলা বলে আগেই অবহিত করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জের আওয়ামীলীগের শীর্ষ স্থানিয় নেতৃবৃন্দরা। আর এই ভুতুড়ে মামলার জন্য এক সপ্তাহ ধরে এলাকাছাড়া রয়েছেন অনেক নেতাকর্মী ও ব্যবসায়িরা।

পুলিশ সদর দপ্তরে আইজিপি বরাবর দায়েরকৃত অভিযোগপত্রে পরিদর্শক (তদন্ত) সেলিম মিয়াকে ঘুষখোর পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে অ্যাখা দিয়ে অবিলম্বে তাকে এ থানা থেকে অপাসরণ (প্রত্যাহার) করার জোর দাবি জানানো হয়।


বিভাগ : আইন আদালত


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও