পরিবহনে শৃঙ্খলা এসপির চ্যালেঞ্জ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৪:৫৫ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০১৯ মঙ্গলবার

পরিবহনে শৃঙ্খলা এসপির চ্যালেঞ্জ

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস ভাড়া কমিয়ে জনদুর্ভোগ লাঘবে এবার চেষ্টা করছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ। তবে এ জেলার জনপ্রতিনিধিরা একেবারে নিশ্চুপ রয়েছেন। এ নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যথা নেই বললেই চলে। এছাড়া রাজনীতি দলগুলোর নেতাকর্মীরাও এ নিয়ে কোন কর্ণপাত করছেনা।

নারায়ণগঞ্জে পরিবহন ব্যবসায় অরাজকতা চলার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে সময়ে সময়ে অভিযোগ করে বাস মালিকেরা। তবে সেই অভিযোগকারীকে পরে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। বলতে গেলে অদৃশ্য কারণে সেই ব্যবসায়ী চুপসে যান। এমন হাজারো অভিযোগ রয়েছে নারায়ণগঞ্জের পরিবহন সেক্টরর বিরুদ্ধে।

সূত্র মতে, গত কয়েক মাসে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ যেভাবে নারায়ণগঞ্জ চেয়েছেন সেভাবেই হয়েছে। বিশেষ শহরের ফুটপাত হকারমুক্ত হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীরা কোনটাসা অবস্থায় আছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনদুর্ভোগ নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের সবার আগে প্রতিবাদ করার কথা থাকলেও এ জেলায় একেবারে ভিন্ন প্রেক্ষাপট দেখা যাচ্ছে। এ জেলায় জনপ্রতিনিধিরা একেবারে নিরব ভূমিকা পালন করলেও জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ ভাড়া কমানোর জন্য বাস মালিকদের অনুরোধ করেছেন।

১২ আগস্ট প্রেস ব্রিফিংয়ে পরিবহন মালিকদের উদ্দেশ্যে এসপি হারুন বলেন, ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জের মানুষ বাস ভাড়া নিয়ে অভিযোগ করেছে। টোল সহ বিভিন্ন ভাবে এখানে বাসের ভাড়া বেশি নেয়া হচ্ছে। আপনারা রাস্তার দূরত্ব অনুযায়ী হিসেব করে সহনীয় পর্যায়ে ভাড়া কমিয়ে আনবেন। এছাড়াও এলোপাতাড়ি বাস রেখে বিশৃঙ্খলা করবেন না।

জানাগেছে, দীর্ঘদিন ধরে এ জেলার বাস ভাড়া নিয়ে কেউ আওয়াজ তুলেনা। আর জনপ্রনিতিধিদের এ ব্যাপারে কখনো প্রতিবাদ করতে কিংবা বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি। এ জেলার ৫টি আসনের ৫ জন সাংসদ ও একজন মেয়র সহ মন্ত্রী রয়েছেন। তবে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী বাস সার্ভিস নারায়ণগঞ্জ-৫ ও ৪ আসনের উপর দিয়ে চলাচল করে। আর সেই অংশটুকু নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত। কিন্তু এই জনপ্রতিনিধিদের কেউ এই বাড়তি ভাড়া নিয়ে প্রতিবাদ করেনি।

যদিও বিগত দিনে বাম ঘরনার নেতারা বাস ভাড়া কমানোর দাবিতে আন্দোলন করেছিল। তখন তাদের সমর্থন দিয়ে মেয়র আইভীকে মাঠে নামতে দেখা যায়। তবে সময়ের সাথে সাথে সেই প্রতিবাদের আওয়াজও কমে যায়। সেই সাথে বাম দলের নেতারাও চুপশে যায়। তবে বাস ভাড়া কমনোর দাবিতে জনপ্রতিনিধিরা বরাবরের মত নিরব ভূমিকা পালন করেছে। সম্প্রতি এমপি শামীম ওসমান ভাড়া কমানো নিয়ে নামে মাত্র বক্তব্য দিয়েই খ্যান্ত রয়েছে। এদিকে আওয়ামীলীগ নেতা কামাল মৃধাও বাস ভাড়া কমিয়ে ৩০ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের আসনের উপর দিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের বাস চলাচল করে। এই অঞ্চলটি সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যার দায়িত্বে রয়েছেন মেয়র আইভী।

এরই মধ্যে উৎসব পরিবহনে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ এর ভাড়া ৩৬ টাকা থেকে কমিয়ে ৩০ টাকায় করার জন্য পুলিশ সুপারের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। চাঁদাবাজী বন্ধ এবং লাভের চিন্তা বাদ দিলে ভাড়া কমানো সম্ভব বলে দৃঢ়তা দেখিয়েছেন কামাল মৃধা। তিনি উৎসব পরিবহন লিমিটেডের চেয়ারম্যান বলে দাবী করে আসছেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য।

কামাল মৃধা বলেন, ৩০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে বাস পরিচলনা করা সম্ভব। ইতোমধ্যে আমার ৬০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। আমি সব কিছু পুলিশ সুপারকে বলেছি। এই অভিযোগ নিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে যাওয়ার চিন্তা ৬ মাস আগে কল্পনা করা যায় নাই। এখন যা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, উৎসব কাউকে চাঁদা দেয় না এবং লাভ করার জন্য তৈরী হয়নি। আমি চলে যাওয়ার পরই তা মালিক সমিতির মাধ্যেমে পরিচালিত হয়। তবে এই উৎসবকে সামনের উৎসবের সঙ্গে কল্পনা করা যাবে না বলে মত দেন তিনি।

এক ব্যবসায়ী সিটি বন্ধন পরিবহনের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে থানায় অভিযোগ করলেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। হরিলুটের অভিযোগ করায় উল্টো ওই ব্যবসায়ীকে মারধর করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ সিটি বন্ধন পরিবহনে চলছে হরিলুট অবস্থা। বাস মালিকদের জিম্মি করে গুটি কয়েক পরিবহন ব্যবসায়ী সংসদ সদস্যের নাম ভাঙ্গিয়ে এবং তার ছেলের বন্ধুর পরিচয়ে এমন হরিলুট চালাচ্ছে দিনের পর দিন।

প্রতিদিন এই বন্ধন পরিবহনের আয়ের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে অদৃশ্য কারো হাতে। এই অদৃশ্যকে খাতায় কলমে দেখানো হচ্ছে ম্যানেজমেন্ট এবং অন্যান্য ব্যায় হিসেবে। প্রতিদিন এই খাতে পরিবহন সংস্থাটি দিয়ে থাকে ৭১ হাজার টাকা। যা অনেক সময় আয়ের তারতম্যে বেড়ে যায়।

জানা গেছে, বর্তমানে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে নন এসি বাসগুলোতে ৩৬ টাকা করে বাস ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। আর এসি বাস গুলোতে ৫০-৫৫ টাকা করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। রাজধানীতে চলাচলাকারী বাস পরিবহনের চেয়ে এই ভাড়া অনেকটা বেশি। বিগত দিনে দফায় দফায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাস ভাড়া নানা কারণে বেড়ে গেছে।

সূত্র বলছে, চাঁদাবাজির কারণে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের পরিবহন খাতে ভাড়া কয়েকগুণ বেড়েছে। এ নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। ক্ষমতাসীন দলের ও প্রভাবশালী মহলের কতিপয় নেতারা এ খাত থেকে চাঁদাবাজি করে থাকে। যেকারণে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় করা হচ্ছে। তাই এই খাতে চাঁদাবাজি বন্ধ করলে ভাড়া অনেকাংশে কমে যাবে।


বিভাগ : আইন আদালত


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও