‘মা বোন নিয়ে আপত্তিজনক কথার ক্ষিপ্ততায় ৩ কোপে মাথা বিচ্ছিন্ন’

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২১ পিএম, ২৯ আগস্ট ২০১৯ বৃহস্পতিবার

‘মা বোন নিয়ে আপত্তিজনক কথার ক্ষিপ্ততায় ৩ কোপে মাথা বিচ্ছিন্ন’

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় নারায়ণদিয়া বায়তুল জালাল মসজিদের ইমাম দিদারুল ইসলাম গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন অপর বন্ধু ঘাতক ওহিদুজামান।

বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফতাবুজ্জামানের আদালতে এ জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুল হাই জানান, আদালতে ওহিদুজামান স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকান্ডের বিস্তারিত তিনি আদালতকে জানিয়েছেন।

আদালতের একটি সূত্র জানায়, জবানবন্দীতে ওহিদুজামান স্বীকার করেছে যে তার কাছ থেকে দিদারুল টাকা পাবে। সে টাকার জন্য সে প্রতিনিয়ত চাপ দিচ্ছিল। এসব নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটিও হয়। এক পর্যায়ে ওহিদুজামানের মা ও বোনের সঙ্গে রাত কাটাতে প্রস্তাব দেয় দিদারুল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দিদারুলকে হত্যার পরিকল্পনা করে ওহিদুজামান। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ২০ আগস্ট রাতে সোনারগাঁও উপজেলার নারায়ণদিয়া বায়তুল জালাল মসজিদে আসে ওহিদুজামান। সে রাতে ২বার দিদারুলকে হত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। ভোর ৪টায় সে ব্যর্থ হয়ে মিরপুরে গিয়ে একটি আবাসিক হোটেলে রাতা কাটায়। পরদিন ২১ আগস্ট রাতে আবারো আসে ওহিদুজামান। তখন ৬০০ টাকা দিয়ে একটি চাপাতি কিনে। এছাড়া সোনারগাঁয়ের মোগড়াপাড়াতে ১০টা ঘুমের ট্যাবলেট ও একটি কোকাকোলা কিনে। পরে ওই ট্যাবলেট কোকাকোলার ভেতরে ভরে নিয়ে যায়। সে রাতেও তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা ঘটে। এক পর্যায়ে ওহিদুজামানের অনুরোধে কোকাকোলা পান করেই অচেতন হয়ে পড়ে দিদারুল। তখন ব্যাগ থেকে চাপাতি বের করে দিদারুলের গলায় তিনটি কোপ দিলে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় মাথা। পরদিন সকালে পালিয়ে চলে যায়।

বুধবার সকালে ওহিদুজামানকে (৩১) মাদারীপুরের শিবচর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। সে খুলনা জেলার কলাবাড়িয়া এলাকার পশ্চিমপাড়া গ্রামের আবদুর রাজ্জাক টুকু শেখের ছেলে।

জানা গেছে, বছরখানেক আগে কুমিল্লায় পাশাপাশি দুটি মসজিদে ইমামতি করতেন দিদারুল ইসলাম ও ওহিদুর জামান। সে থেকেই দুইজনের মধ্যে বন্ধুত্ব। এক পর্যায়ে স্বর্ণের বার কেনা ও ব্যবসার কথা বলে দিদারুলের কাছ থেকে টাকা নেন ওহিদুর জামান। ব্যবসার টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে দেখা দেয় বিরোধ। এ নিয়ে বাকবিতন্ডার জের ধরে ওহিদুর জামানের মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করে দিদারুল। আর তখনই দিদারুলকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা মোতাবেক কোকাকোলার সঙ্গে নেশাজাত দ্রব্য খাইয়ে দিদারুলকে অচেতন করে চাপাতি দিয়ে গলাকেটে হত্যা করে। বিষয়টি ভিন্ন দিকে নিতে লাশের পাশে হিযবুত তাহরীর সদস্য লিখে চিরকুট ফেলে রাখে ওহিদুজামান।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, দিদারুল ও ওহিদুর জামান পূর্ব পরিচিত ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পক। দিদারুলের কাছ থেকে স্বর্ণের বার কেনার কথা বলে কয়েক লাখ টাকা নেয় ওহিদুর জামান। পরবর্তীতে দিদারুল জানতে পারে ওয়াহিদুজ্জামানের এসব অবৈধ ব্যবসা। এক পর্যায়ে ওহিদুর জামানের কাছে থাকা সকল টাকা ফেরত চান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। বাকবিতন্ডার জের ধরে ওহিদুর জামানের মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করে দিদারুল। সে কারণেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

উল্লেখ্য গত ২২ আগস্ট সকালে উপজেলার নারায়ণদিয়া বায়তুল জালাল জামে মসজিদের বারান্দায় হুজুরের রুম থেকে দিদারুল ইসলাম (২৬) নামে ইমামের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত দিদারুল ইসলাম খুলনা রাজাপুর এলাকার আফতাব ফরাজির ছেলে। গত ২৬ জুলাই থেকে তিনি এ মসজিদে ইমাম হিসেবে নিয়োগ পান। পরে নিহতের বড় ভাই মিজানুর রহমান বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন।


বিভাগ : আইন আদালত


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও