বিচারকের নাম ব্যবহার করে ৬৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা আত্মসাতে মামলা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১৯ পিএম, ৯ অক্টোবর ২০১৯ বুধবার

বিচারকের নাম ব্যবহার করে ৬৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা আত্মসাতে মামলা

নারায়ণগঞ্জ জেলার যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আমেনা ফারহিনের নাম ব্যবহার করে ৬৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা আত্মসাতের ঘটনায় কামরুন নাহার রনকের বিরুদ্ধে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

৯ অক্টোবর বুধবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এলাকার আজগর হোসেন ভূইয়ার স্ত্রী মাকসুদা আজগর বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলার শুনানী শেষে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট নুরুন্নাহার ইয়াসমীনের আদালত আসামী কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেছেন। একই সাথে আদালত আগামী ১৯ নভেম্বর পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

মামলার বিবরণীতে জানা যায়, মাকসুদা আজগর পৈত্রিক আমল থেকেই গোদনাইল এলাকায় বহু ভূ-সম্পত্তির মালিক। তিনি গোদনাইল মৌজার সম্পত্তি নিয়া বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে দেওয়ানী ১৪৯/২০০৬ মূলে একটি মামলা দায়ের করেন যা এখনও বিচারাধীন রয়েছে। এই মামলার বিবাদী হচ্ছেন নীট কনসার্নের স্বত্বাধিকারী জয়নাল আবেদীন মোল্লা। মাকসুদা আজগর তার ফুফাত ভাইয়ের ছেলে রবির কাছে ওই মামলা সম্পর্কে পরামর্শ চাইলে রবি তাকে একজন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকের সাথে কথা বলিয়ে দেন।

আর ওই সাংবাদিক হলেন বন্দরের লক্ষারচর এলাকার সাইফুল ইসলাম সাব্বিরের স্ত্রী কামরুন নাহার কনক। তিনি নিজেকে সিএনএন বাংলা টিভির নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। মাকসুদা আজগর তার মামলার সকল কাগজপত্র দেখালে কামরুন নাহার কনক বলেন, চিন্তার কোন কারণ নেই, তার একজন পরিচিত বিচারক রয়েছেন। ওই বিচারককে দিয়ে তিনি মাকসুদা আজগরের পক্ষে রায় পাইয়ে দিতে পারবেন। তবে এজন্য অনেক টাকা খরচ হবে। কামরুন নাহার কনকের কথামতো টাকা দিতে রাজী হন মাকসুদা আজগর।

সে অনুযায়ী কামরুন নাহার কনক মাকসুদা আজগরের সাথে একটি হাওলাত নামা চুক্তিপত্র দলিল সম্পাদন করে। সে দলিলে মাকসুদা আজগরকে হাওলাত দাতা দেখানো হয় এবং কর্জ গ্রহিতা হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলার যুগ্ম জেলা জজের ১ম বিচারক আমেনা ফারহিনকে দেখানো হয়। সেই হাওলতনামা দলিলের মাধ্যমে মাকসুদা আজগর কামরুন নাহার কনককে ১০ লাখ টাকা দিলে কামরুন নাহার কনক রায়ের জন্য ১০ লাখ টাকা বুঝে পেয়েছে জানিয়ে গত ১৮ সেপ্টম্বর লিখে স্বাক্ষর করেন। এই টাকা নেয়ার পর কামরুন নাহার কনক জানান আরও ১০ লাখ টাকা দিতে হবে অন্যথায় মাকসুদা আজগরের পক্ষে রায় দিবেন না।

ফলে কামরুন নাহার কনকের বিশ্বাস করে মাকসুদা আজগর ব্যাক এশিয়া থেকে এফ ডি আরের বিপরীতে ঋণ নিয়ে টাকা উত্তোলন করে গত ২০ আগস্ট ১০ লাখ টাকা দেন। কিন্তু কামরুন নাহার কনক সেই টাকা গ্রহণ করে বিচারককে না দিয়ে তিন কন্যা ট্রেডার্স নামী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ১০ লাখ টাকা জমা দিয়ে জানান বিচারককে টাকা দেয়া হয়ে গেছে। ফলে এই বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে এবং ডুকুমেন্ট চাইলে কামরুন নাহার কনক বলেন, ডুকুমেন্ট লাগবে না। আমি রায় করিয়ে দিব।

এরপর কামরুন নাহার কনক মামলাটি মাকসুদা আজগরের নিয়োজিত আইনজীবী জহিরুল হকের চেম্বার থেকে মামলাটি এনে অন্য একজন আইনজীবীকে মামলা পরিচালনা দায়িত্ব দেন। এরপর পুনরায় কামরুন নাহার কনক মাকসুদা আজগরকে জানান জায়গার মূল্য অনুযায়ী যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতকে আরও ৩০ লাখ দিতে হবে। তখন মাকসুদা আজগর আরও নগদ ৩০ লাখ টাকা দেন এবং মামলার পর্চা, মূল নকশা ও অন্যান্য কাগজাদি উত্তোল বাবদ ৫ লাখ টাকা, দেওয়ানী মামলা বিবাদী জয়নাল আবেদীন মোল্লার দলিলের মূল কপি উঠানো বাবদ ৪ লাখ টাকা, দুদককে দেয়ার জন্য ৩ লাখ ৬০ হাজার, কাগজপত্র উঠানোর জন্য ৫ লাখ টাকা সহ মোট ৪৭ লাখ ৬০ হাজার বিভিন্ন তারিখে বুঝে পেয়ে গত ৩০ আগস্ট মাকসুদা আজগরের হ্যান্ডনোটে স্বাক্ষর নেন।

ইতোপূর্বে যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতকে প্রদান করিবার জন্য ২০ লাখ টাকা কামরুন নাহার কনককে দিয়েছিলেন। সবমিলিয়ে মোট ৬৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা নেয়ার কথা স্বীকার ও স্বাক্ষরমূলে গ্রহণ করেন।

এরপর মাকসুদা আজগর জানতে পারেন কামরুন নাহার কনক একজন প্রতারক। সে জেলা জজ ১ম আদালতের বিচারক আমেনা ফারহিনের নাম ব্যবহার করে চুক্তিনামা দলিল তৈরী করে মাকসুদা আজগরের টাকা আত্মসাৎ করে। আর এই টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করলে কামরুন নাহার কনক মাকসুদা আজগরকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করে আসছে।


বিভাগ : আইন আদালত


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও