বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালকের গাড়ি গুলি ইয়াবা বিয়ার উদ্ধার

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৩:০৪ পিএম, ২ নভেম্বর ২০১৯ শনিবার

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালকের গাড়ি গুলি ইয়াবা বিয়ার উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের গাড়িতে থাকা বডিগার্ড ও চালকের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের পর ধাওয়া করে একটি বিলাশবহুল জিপ গাড়ি আটক করা হয়েছে যেখানে মিলেছে ইয়াবা, গুলি, মদ ও বিয়ার। গাড়িটি পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক এম এ হাশেমের ছেলে শওকত আজিজ রাসেলের জানিয়েছেন পুলিশ।

রাসেল একই সঙ্গে পারটেক্সের সহযোগি প্রতিষ্ঠান আম্বর গ্রুপের চেয়ারম্যান। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক। ওই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য আইনে দুটি মামলা হয়েছে। দুটি মামলাতেই রাসেলকে পলাতক আসামী দেখানো হয়েছে।

পুলিশের দাবী, শওকত আজিজ রাসেল ওরফে পারটেক্স রাসেল মাদকদ্রব্য ও সুন্দরী রমনীদের নিয়া চলাফেলাসহ সুন্দরী রমনীদের দিয়া বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের ফাঁদে ফেলে ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিল করে।

২ নভেম্বর শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রেস নোটে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে ১ নভেম্বর শুক্রবার রাত ১টা হতে ভোর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত পুলিশের ওই কার্যক্রম চলে।

বিকেলে প্রেস কনফারেন্সে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না। কেউ যদি অপরাধ করে আর সে যতবড় কর্ণধারই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবেই। আমরা এরকমই।’

তিনি বলেন, রাসেল একটা অপরাধ করে পালানোর সময় তল্লাশী করে তার গাড়িতে ২৮ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ১২০০ পিস ইয়াবা, ২৪ বোতল বিদেশী মদ এবং ৪৮ ক্যান বিয়ার সহ নগদ ২২ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। এসময় সে পিস্তল সহ পালিয়ে গেলেও গাড়ির চালক মো. সুমনকে (২৯) গাড়ি সহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজনকে আসামি করা হয়েছে। একটি অস্ত্র অন্যটি মাদক আইনে। এসময় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গাড়ি চালক পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে, এ মাদকগুলো রাসেল সেবন করে ও গুলিগুলো সে ব্যবহার করে।

তিনি আরো বলেন, রাসেলকে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত আছে। ইতোমধ্যে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আমি ঢাকার একটি ক্লাবে গেলে সেখান থেকে সে পালিয়ে যায়। পরে গুলশান এলাকায় এবং তার বাসায় অস্ত্রটি উদ্ধারে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি।

পুলিশ সুপারের প্রেস নোটে জানানো হয়, ডিবির এস আই জলিল মাতুব্বর শুক্রবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের সানাড়পাড়ে অবস্থান করছিলেন। রাত ১টায় নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের দেহরক্ষী কনস্টেবল মোঃ নাজমুল ইসলাম মোবাইল ফোনে ডিবিকে জানায় পুলিশ সুপারকে ঢাকার বাসায় নামিয়ে দিয়ে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে তেজগাঁও থানাধীন সাতরাস্তায় মগবাজার ফ্লাইওভার কাছাকাছি পৌঁছালে রাস্তার যানজট সৃষ্টি হয়। তখন পুলিশ সুপারের গাড়ির চালক জুয়েল মিয়া হর্ন দিলে সামনে থাকা ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৩-৮৩৭৫ নাম্বারের জিপ গাড়ির ভিতর হতে একজন লোক নেমে আসে। ওই সময়ে পুলিশ সুপারের গাড়ির বাম পাশের সাইডের গ্লাসে জোরে আঘাত করে গালিগালাজ করে। বলতে থাকে ‘আমি পারটেক্স রাসেল, গাড়ী দরজা খোল।’

ওই সময়ে নাজমুল গ্লাস খুলে প্রতিবাদ করলে উক্ত ব্যক্তি তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় পিস্তল তাক করে ধরে। এক পর্যায়ে গাড়ী হতে বডিগার্ড নাজমুল নেমে যায়। তখন পুলিশের লোক বুঝতে পেরে দ্রুত জিপ গাড়ি যোগে পালাতে থাকলে ড্রাইভার ও বডিগার্ড গাড়ীটির পিছনে পিছনে ফলো করতে থাকে। রাত পৌনে ৩টায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সাইনবোর্ড চৌরঙ্গী ফিলিং স্টেশনের সামনে পাকা রাস্তার উপর তখন ডিবির টিম অবস্থান করে। ভোর সোয়া ৩টায় জিপ গাড়ীটি নারায়ণগঞ্জের দিকে আসতে দেখে সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সদের সহায়তায় সিগন্যাল দিয়ে গাড়ীর ভিতর ড্রাইভিং সীটে বসা অবস্থায় চালক সুমনকে আটক করা হয়।

ওই গাড়ি থেকে গুলি, মদ, বিয়ার উদ্ধার করা হয়। তখন সুমন পুলিশকে জানায় যে, উদ্ধারকৃত পিস্তলের গুলি ও মাদকদ্রব্যের প্রকৃত মালিক পলাতক আসামী শওকত আজিজ রাসেল পারটেক্স রাসেলের (৩৯)। তিনিই মূলত অবৈধ পিস্তলের গুলি ও মাদকদ্রব্য উক্ত গাড়িতে রেখেছিল। ধৃত আসামী এবং পলাতক আসামী একে অপরের সহযোগীতায় পরস্পর যোগসাজসে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র গ্রদর্শন করিয়া ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে থাকে এবং তাদের সহযোগীদের নিয়া বিভিন্ন জায়গায় আসর বসায়।

আসামী আরো জানায় পলাতক আসামী শওকত আজিজ রাসেল ওরফে পারটেক্স রাসেল মাদকদ্রব্য ও সুন্দরী রমনীদের নিয়া চলাফেলাসহ সুন্দরী রমনীদের দিয়া বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের ফাঁদে ফেলে ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিল করে।


বিভাগ : আইন আদালত


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও