নারায়ণগঞ্জের নতুন এসপি জায়েদুল যে কারণে আলোচিত

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪৭ পিএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

নারায়ণগঞ্জের নতুন এসপি জায়েদুল যে কারণে আলোচিত

নারায়ণগঞ্জে পুলিশ সুপার পদে মুন্সীগঞ্জ জেলার বর্তমান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলমকে পদায়িত করা হয়েছে। ১৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ অধিশাখার উপসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলী করা হয়।

জায়েদুল আলম মুন্সিগঞ্জে ২০১৬ সালের ২৫ আগষ্টে যোগ দেন। ইতোমধ্যে তিনি মুন্সিগঞ্জকে শক্ত অবস্থানে রেখেছেন বলে জানা গেছে। তার সহধর্মিনী জেসমিন কেকা পিপিএম পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি গত বছর।

জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জে যোগদানের পরই মুন্সীগঞ্জ জেলার ছয়টি থানার প্রধান ফটকে গেইট নির্মাণ, রাস্তা প্রস্তুতকরণ, বিভিন্ন স্থাপনার উন্নয়ন এবং মুন্সীগঞ্জের প্রত্যকটি থানাকে সুসজ্জিতভাবে আধুনিক রূপে সাজানো হয়েছে। আনা হয়েছে পুলিশে শৃঙ্খলা। এতে করে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ বিভাগে আলোর ঝিলিক পড়েছে। জেলা জুড়ে মাদক নির্মূল ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং কোনো ধরণের ঘুষ বা অর্থনৈতিক লেনদেন ছাড়াই পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরি পেয়েছেন মুন্সীগঞ্জের নারী-পুরুষরা।

এ সব কাজের জন্য ইতোমধ্যে বেশ প্রশংসা পেয়েছেন মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম। ১০০ টাকায় পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের প্রবর্তক ছিলেন মুন্সীগঞ্জের এই পুলিশ সুপার।

২০১৬ সালে মুন্সীগঞ্জে যোগদানের পরই তিনি ১০০ টাকায় পুলিশ নিয়োগের ঘোষণা দেন এবং তা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচারের ব্যাবস্থা করেন। কোন শ্রেণির দালালের কাছে ধরা না দিতে সাবধান করে ব্যাপক প্রচারণা চালান। পরে ২০১৭ সালে ৮৩ জন, ২০১৮ সালে ৮৫ জন এবং এ বছর ২২৬ জনকে যোগ্যতার ভিত্তিতে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি প্রদান করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম।

পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, পুলিশের প্রতিটি স্থাপনা থাকবে আধুনিক। মানুষ পুলিশের দপ্তরে এলে মানুষের মনে পুলিশ সম্পর্কে পজেটিভ ধারণা আসে। সে লক্ষ্যে গত তিন বছরে আমি চেষ্ঠা করেছি, মুন্সীগঞ্জ জেলার প্রত্যেকটি পুলিশের স্থাপনা ও অবকাঠামোকে সুন্দর এবং আধুনিকরূপে রূপ দেয়ার।

এছাড়াও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলমই প্রথম ২০১৭ সালে পুলিশ সদস্যদের ডোপ টেস্ট চালু করেন। যার মধ্যমে মাদকাসক্ত পুলিশ শনাক্ত করা হচ্ছে। তাদের তিনি প্রথমবারের মতো মাফ করে চিকিৎসার মাধ্যমে ভাল হওয়ায় সুযোগ করে দেন।

এই বছর দেশের বিভিন্ন জেলায় ১০০ টাকায় পুলিশের চাকরি হয়। এরআগে ২০১৭ সালে ১০০ টাকায় পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকুরি দেন মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার। চাকুরি পাওয়াদের বেশির ভাগই ছিল হতদরিদ্র দিনমজুর, চা বিক্রেতার সন্তান।

গজারিয়া উপজেলার ভিটিকান্দি গ্রামের চাকরি প্রাপ্ত মুনিরা জানান, পুলিশ সুপারের বিজ্ঞাপন দেখে চাকরির ইন্টারভিউ দেন। এরপর শুধুমাত্র নির্ধারিত ফর্মের ১০০ টাকা খরচ ব্যতিত অন্য কোন খরচ ছাড়াই চাকরি হওয়ায় সে এবং তার পিতা হকার মজিবুর রহমান মাতা রুজিনা পুলিশ সুপার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এদিকে গত তিন বছরে স্বচ্ছতার সাথে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকুরি দেয়া ছাড়াও জেলার পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা ও অবকাঠামো সুন্দর ও আধুনিক রূপে রূপ দেয়া হয়েছে।

থানাগুলোর অফিসার ইনচার্জদের (ওসি) রুম শীতাতপ নিয়ন্ত্রিতসহ স্থানীয় অন্যান্য উর্দ্ধতন পুলিশ কর্মকর্তাদের রুমও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করেছে। ডাইনিং হল, নারী পুলিশ ব্যারাক, বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ, টাইলস বসানো, ফুলের বাগান, পুনাক পুলিশ পার্ক, থানা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বসার কক্ষ সৌন্দর্য্য বর্ধণ, গাড়ি রাখার গ্যারেজ, পোশাকে শৃঙ্খলা, নিয়মিত প্যারেড, ব্যায়ামাগার নির্মাণ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত লাইব্রেরি নির্মাণ,পুলিশের রেশনিং খাবারের উন্নতকরণ, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাসহ পুলিশের কল্যাণে নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের বিভিন্ন কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে তার অধীনস্থ কর্মকর্তারা জানান, গত তিন বছরে তারা প্রতিযোগিতামূলকভাবে উন্নয়ন ও সৌন্দর্য্যবর্ধণে কাজ করে গেছেন।

চাকরি জীবনে মুন্সীগঞ্জর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক দুই বার, আইজি ব্যাজ ৫ বার, জাতিসংঘ পদক ও শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক (আবুল কাশেম ফজলুল হক) পদক পেয়েছেন।পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলমের সহধর্মিনী জেসমিন কেকাও বাংলাদেশ পুলিশ হেড কোয়ার্টারের পুলিশ সুপার পদে দায়িত্ব পালন করছেন।


বিভাগ : আইন আদালত


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও