আসামির স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দেয়া পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:২৯ পিএম, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯ বুধবার

আসামির স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দেয়া পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার একটি মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামির মূল্যবান জিনিসপত্র ফেরত দিতে তার স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেয়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দুইজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি)।

বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অভিযুক্ত সহকারী উপ-পরির্দশক (এস আই) শাহাদাত হোসেন তদন্তের বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি তো দোষী না। আমি এএসআই বেলায়তের সহযোগি হিসাবে কাজ করেছে। আসামী ধরার সময় আমকে সাথে নিয়েছে। সে কি করেছে তা তো আমার জানার বিষয় না। তদন্ত চলছে মূল ঘটনা বেড়িয়ে আসবে।

প্রসঙ্গত শিমরাইলের ভূমি আবাসন এলাকার গাড়ি চালক কে এম দেলোয়ার আহমেদ (আকাশ) অভিযোগে জানান, ২০০৯ সালের ফারজানা আক্তার নামের নারীর সঙ্গে বিয়ের পর তার অনৈতিক কর্মকান্ডের কারণে ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারী সে নিজেই বিবাহ বিচ্ছেদের তালাকনামা প্রদান করে।

পরে ২০১৮ সালের ৫ অক্টোবর শ্রাবণ নামের আরেক নারীর সঙ্গে বিয়ে হয়। এর মধ্যে ফারাজানা ডিবি পুলিশকে দিয়ে কয়েক দফা হয়রানি করায়। এর মধ্যে ফারজানার সঙ্গে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আবুল কালাম আজাদ, শাহাদাত, বেলায়েত, রফিকুল ইসলামের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। গত ১৫ অক্টোবর ছেলের অসুস্থতার খবরে ফারজানার বাসায় গেলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সহকারি উপ পরিদর্শক (এএসআই) বেলায়েত ও এএসআই শাহাদত রুমে ঢুকে গ্রেফতার করে। তখন বেলায়েত আমার কাছ থেকে তিনটা মোবাইল স্যামসাং নোট ৩, স্যামসাং গ্র্যান্ড প্রাইম, এবং স্যামসাং ডুওস, চাবির ব্যাগ, লেজার লাইট, টচ লাইট, স্যামসাং ডাটা কেবল, মানিব্যাগ, যার মধ্যে ছিল ১৭ হাজার ২২৫ টাকা, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ন্যাশনাল আইডি কার্ড, ব্লাড ডোনার আইডি কার্ড, ইসলামী ব্যাংকের এটিএম কার্ড, ডাচ বাংলা ব্যাংকের একাউন্ট স্লিপ আরো অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ ভিজিটিং কার্ড ইত্যাদি নিয়ে যায়।

২২ অক্টোবর জেল থেকে বের হওয়ার সময় গেট থেকে সেই দুই দারোগা বেলায়েত ও শাহাদাত আমায় ধরে নিয়ে যায়। ওই সময়ে বেলায়েত আমাকে অনেক ধরনের হুমকি ভয় দেখাতে থাকে। ওই ঘটনায় আমাকে ৫৪ ধারার গ্রেফতার দেখায়। ২ অক্টোবর জামিনে মুক্তি পাই। গ্রেফতারের পর সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনটি পুলিশ জব্দ করে ফারজানার কাছে দিয়ে দেয়। ওই মোবাইলের মেমোরি কার্ডে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে বেশ কিছু ঘনিষ্ঠতার ছবি ছিল। ফারজানা ও পুলিশ কর্মকর্তা বেলায়েত ওইসব ছবি আমার মোবাইলের ইমো থেকে সবাইকে সেন্ড করে দেয়।

প্রথম আমি থানায় যোগাযোগ করে জব্দ করা জিনিসপত্র চাইলে বেলায়েত উল্টো আমাকে হুমকি দিতে থাকে। সেই হুমকি এখনো অব্যাহত থাকে। পরবর্তীতে আমার বর্তমান স্ত্রী শ্রাবণ জানতে পেরে থানায় পুলিশ কর্মকর্তা বেলায়েতের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তিনি জব্দ করা মোবাইল ফোন সহ অন্যান্য জিনিসপত্র ফেরত চাইলে তাকে নানা ধরনের অশ্লীল ও কুপ্রস্তাব প্রদান করে । এক পর্যায়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে বেলায়েত সিদ্ধিরগঞ্জের হিরাঝিল এলাকার একটি ফ্ল্যাটে যেতে বলে এবং সেখানে তার সঙ্গে রাত কাটানোর প্রস্তাব দেয়। এছাড়া আরো অনেক কুরুচিপূর্ণ কথা রয়েছে যা লেখার মত শালীনতা নাই। বেলায়েত তার বিছানায় চায় এবং তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়তে চায়। পরে প্রায়শই আমার স্ত্রীর নাম্বারে বেলায়েত ফোন করতে থাকে।


বিভাগ : আইন আদালত


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও