এসপি হারুনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ

সূত্র : জাগো নিউজ || ০২:৫৪ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সোমবার

এসপি হারুনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ

নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার হওয়া আলোচিত পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের তদন্ত শেষ হয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন এখনও দাখিল করা হয়নি। ১০ ফেব্রুয়ারী সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চকে এ তথ্য জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অমিত তালুকদার।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার আদালতে বলেন, ‘মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের তদন্ত শেষ হয়েছে। তবে রিপোর্ট আমরা এখনও হাতে পাইনি। আশা করি, শিগগিরই এ রিপোর্ট আমরা পাব।’

আদালত এ সময় রিটকারী আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তাহলে পুলিশের প্রতিবেদনটা আগে দেখুন।’ এরপর আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য ৫ এপ্রিল দিন ধার্য করেন। হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে এদিন রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট সালেহ উদ্দিন নিজেই শুনানি করেন।

২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর এ সংক্রান্ত রিট শুনানি মুলতবি রাখেন হাইকোর্ট। এর আগে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সালেহ উদ্দিন এ রিট দায়ের করেন।

রিট আবেদনে এসপি হারুনের ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতি সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত পপ্রতবেদন সংযুক্ত করা হয়।

১১ মাস দায়িত্ব পালনের পর গত ৪ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদকে বদলি করে পুলিশ সদর দপ্তরে (ট্রেনিং রিজার্ভ) সংযুক্তির আদেশ দেওয়া হয়। হারুনের বিরুদ্ধে চাঁদার জন্য একাধিক শিল্পপতিকে তুলে নিয়ে সাজানো মামলায় গ্রেফতারের ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছিল।

২০১৮ সালের ২ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের আগে এসপি হারুনকে নারায়ণগঞ্জ জেলার দায়িত্ব দেয়া হয়। দায়িত্ব পাবার পর শহরের হকার উচ্ছেদ, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, সন্ত্রাসী ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের তালিকা টানানো, এসপি অফিসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ করে দিতে তিনি আলোচনায় আসেন।

একই সাথে সোনারগাঁয়ে একটি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠানে অফ সাইডে গোল দিলে সেটি অফসাইড হিসেবে রেফারি রায় দিলেই তাকে উপর্যপুরি লাথি মারধর করে মাঠ থেকে বের করে দেয়া, পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ হাশেমের ছেলের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ, তার ছেলে ও পরিবারকে গুলশান থেকে তুলে আনা, ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান সিনহাকে আটকের পর চাঁদা দাবির অভিযোগ সহ নানা অভিযোগে হয়েছেন সমালোচিত।

৭ নভেম্বর শহরের মাসদাইর পুলিশ লাইনসে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এসপি হারুনকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হলে সেখানে কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। তার দাবি, তদন্ত হলেই আসল সত্য বেরিয়ে আসবে, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। তিনি সেখানে বক্তব্যে বলেন, আনিসুর রহমান সিনহা কিংবা পারটেক্স গ্রুপের কেউ অভিযোগ দেয়নি, অভিযোগ তুলেছেন ওই পক্ষটি, যে পক্ষটি আমার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত। আমার কারণে যারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ভূমি দস্যুতা করতে পারেনি। সেই তারা অভিযোগ দিয়েছে। এসব কিছু তদন্ত হলেই বের হয়ে আসবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন।


বিভাগ : আইন আদালত


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও