যৌন উত্তেজক শরবত নিয়ে ছাত্রলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক সহ গ্রেপ্তার ১২

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৬:৫৬ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সোমবার

যৌন উত্তেজক শরবত নিয়ে ছাত্রলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক সহ গ্রেপ্তার ১২

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানাধীন কুতুবপুর এলাকায় অবস্থিত এম. কে ফুডস্ ও এম.এম কনজুমার নামক ২টি কারখানায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে অননুমোদিত যৌন উত্তেজক লায়ন ফুড শরবত এবং ভেজাল কয়েল তৈরীর অপরাধে ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১। সোমবার ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় ওই অভিযান চলে। গ্রেপ্তারকৃতদের একজন তাহমীদ হলেন সোনারগাঁও উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালামের অনুগামী।

গ্রেফতারকৃতরা হলো মোঃ সুমন মোল্লা, মোঃ রকিবুল ইসলাম, মোঃ ফয়সাল আহম্মেদ, মোঃ রাজু বেপারী, মোঃ খায়রুল আলম, মোঃ হাবু বেপারী, মোঃ রাকিব হোসাইন, মোঃ আব্দুর রহমান, মোঃ আশরাফুল ইসলাম, মোঃ তাহমীদ ইসলাম, মোঃ আনোয়ার হোসেন ও মোঃ রাশেদ গাজী।

ওই সময়ে ২ কারখানা হতে আনুমানিক ৭ হাজার ৩শ বোতল অননুমোদিত যৌন উত্তেজক শরবত ও বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ব্রান্ডের কয়েল এবং পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি কাভার্ড ভ্যানও জব্দ করা হয়।

র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন চৌধুরী জানান, গ্রেফতারকৃতদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় যে উক্ত ২ কারখানা দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে অননুমোদিত যৌন উত্তেজক শরবত এবং ভেজাল কয়েল উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছে।

এম.এম কনজুমার দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে গাংচিল, ইগলু, ম্যাক্স, নাইট মাস্টার ইত্যাদি বিভিন্ন খ্যাতিসম্পন্ন ব্রান্ডের নামে কয়েল তৈরী ও প্যাকেটজাত করে বাজারে বিক্রি করে আসছে।

এম.কে ফুডস্ এর উৎপাদনকৃত যৌন উত্তেজক লায়ন ফুডস শরবতগুলো প্যারাসিটামল পাউডার, টেস্টি সল্ট, স্যাগারিন, এমপিএস, ব্যাফেন, এসএস পাউডার, সোডিয়াম পাউডার, সাইট্রিক এসিড, ঘাম, ঘন চিনি, সাধারণ চিনি, ফ্লেভার ও রং সহ মোট ১৬ক্ষতিকারক রাসায়নিক উপাদান দিয়ে তৈরী করা হয় যা জনস্বাস্থ্যের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

এই অননুমোদিত ভেজাল কয়েল ও যৌন উত্তেজক শরবত উৎপাদন করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে আসছে বলে গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে। এভাবে কারখানা ২টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে যৌন উত্তেজক শরবত এবং ভেজাল কয়েল উৎপাদন করে জনস্বাস্থ্যের ও রাষ্ট্রায়াত্ত্ব সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে আসছে।

তিতাস গ্যাস কোম্পানীর টেকনিশিয়ানের প্রাক্কলনে দেখা যায় কারখানা ২টি দীর্ঘদিন ধরে প্রতি মাসে ৩০ লাখ ২৪ হাজার টাকার গ্যাস চুরি করে আসছে। পরবর্তীতে তিতাস গ্যাস কোম্পানী কর্তৃপক্ষ উক্ত কারখানাগুলোর অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।


বিভাগ : আইন আদালত


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও