৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭ , ১১:২০ পূর্বাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জে সবজির বাজারে আগুন, বাড়েনি মাছ মাংসের দাম


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:০২ পিএম, ১৩ জুলাই ২০১৭ বৃহস্পতিবার


নারায়ণগঞ্জে সবজির বাজারে আগুন, বাড়েনি মাছ মাংসের দাম

নারায়ণগঞ্জের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণের বাজারে সবজির চড়া দাম থাকলেও মাছ-মাংসের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। হঠাৎ করে সবজির অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। অন্যদিকে সবজির দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বণ্য পরিস্থিতির অবনতিকে দায়ী করছেন বিক্রেতারা।

১৩ জুলাই সকালে শহরের অন্যতম দিগু বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

সপ্তাহের ব্যবধানে শহরে সবজির দাম প্রায় দুই থেকে আড়াই গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ঈদের পরে সবজি সহ অন্য পণের দাম বৃদ্ধি পেলেও এ সপ্তাহে এসে লাফিয়ে লাফিয়ে কয়েকগুণ দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাজার করতে আসা ক্রেতারা ক্ষোভ ও বিষ্ময় প্রকাশ করে বলছেন, সপ্তাহটা পার হলেই দেখি সবজির দাম শুধু বাড়ছে আর বাড়ছে, কমার কোন নাম-গন্ধই নেই। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের মত সাধারণ মানুষেরা কিভাবে সংসার চালাবে। বিক্রেতারা নানা অযুহাতে সবজির দাম শুধু বাড়িয়েই চলেছে।

সবজির বাজারে এক দোকানি জানালেন, সবজির মধ্যে সবচেয়ে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে টমেটো ১শ ৪০ টাকা কেজিতে। এছাড়া শশার দাম কেজি প্রতি দুই থেকে আড়াই গুণ বৃদ্ধিতে এখন ৫০ টাকা কেজিতে বিক্র হচ্ছে। গাজর ৮০-১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের লেবুর দাম হালিতে ১০-১৫ টাকা বৃদ্ধিতে এখন ২৫-৩০ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচ ও ধনে পাতা আগের চড়া দামেই ৭০-৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি কেজি প্রতি ২০ টাকা বৃদ্ধিতে এখন ৬০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। করলা ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। লাল শাকের দাম কেজিতে ৩০ টাকা বৃদ্ধিতে এখন ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পটল কেজি প্রতি ১০ টাকা বৃদ্ধিতে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ধন্দুল কেজি প্রতি ১০ টাকা বৃদ্ধিতে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঝিঙা, কহি আগের দামেই ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ঢেরস ২০ ও লতি ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আলুর দামও পাল্লা (৫ কেজি) প্রতি ১০ টাকা বৃদ্ধিতে এখন ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেয়াজ ১শ ১০-২০ টাকা পাল্লায় বিক্রি হচ্ছে। আদা ৭০-৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। রসুন ৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির চড়া দামের কারণ উল্লেখ করে বিক্রেতারা বলেন, ‘বন্যার কারণে সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। অধিকাংশ সবজি চাষাবাদের জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে তাই অনেক সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। যেকারণে আরৎদাররা কিংবা পাইকারী বিক্রেতারা আগের তুলনায় বেশি দামে সবজির বিক্রি করছে বিধায় আমাদেরকেও  বেশি দামে সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে।’

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণের মধ্যে মাংসের দাম অনেকটাই স্থিতিশীল রয়েছে। মাংসের মধ্যে বয়লার মুরগির দাম কমেছে, যদিও বাকি সব ক্ষেত্রে দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বয়লার মুরগির দাম কেজি প্রতি ২০ টাকা কমে এখন ১শ ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বাকি সব মাংসের দাম চড়া হারে বৃদ্ধির পর আর কমেনি। সেকারণে লাল লেয়ার মুরগির দাম সেই আগের চড়া দামেই ২শ ১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দামও আগের সেই চড়া দামেই ৫শ ২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংসের দাম ৭শ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের দামও অনেকটাই স্থিতিশীল রয়েছে। যদিও নদীর মাছ অর্থাৎ নদীতে ধরা মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে। বড় আকারের গ্লাস কাপ মাছ ২শ ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। রুই মাছ ২৮০-৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। শিং মাছ সাড়ে ৩শ থেকে সাড়ে ৪শ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ মাছ ৮শ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ি মাছ আকারের পার্থক্যের ভিত্তিতে সাড়ে ৪শ, ৫শ ও সাড়ে ৬শ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। চাষের কই মাছ দেড়শ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। পাবদা মাছ ৪শ- ৫শ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। পোয়া মাছ আকারের ভিন্নতার কারণে সাড়ে ৩শ থেকে সাড়ে ৪শ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাস মাছ ১শ ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

অর্থনীতি -এর সর্বশেষ