৯ ফাল্গুন ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ , ৯:১২ পূর্বাহ্ণ

primer_vocational_sm

আটা ময়দা মিল মালিক সমিতির সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রনে মতি ও জসিম


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:১৩ পিএম, ৭ জানুয়ারি ২০১৮ রবিবার | আপডেট: ০৩:১৩ পিএম, ৭ জানুয়ারি ২০১৮ রবিবার


আটা ময়দা মিল মালিক সমিতির সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রনে মতি ও জসিম

নারায়ণগঞ্জ আটা ময়দা মিল মালিক সমিতিতে গেল এক দশক ধরেই ঘুরে ফিরে সভাপতি পদে আসীন রয়েছেন দুই ব্যবসায়ী নেতা। তাদের সিন্ডিকেটেই চলছে আটা ময়দা মিল মালিক সমিতির কার্যক্রম। যাদের মধ্যে একজন আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি যিনি এর আগে সভাপতি ছিলেন। আর অপরজন হচ্ছেন বর্তমান সভাপতি ও গম ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি জসিমউদ্দিন মৃধা ওরফে গম জসিম। এক দশক ধরে আটা ময়দা মিল মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ সকলেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছে। এছাড়া বিগত দিনে কমিটির শীর্ষ নেতাদেরও বেশীরভাগই ঘুরে ফিরে একই ব্যাক্তি। ফলে কি মধু রয়েছে আটা ময়দা মিল মালিত সমিতিতে এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে আটা ময়দার মিল রয়েছে ৭০-৮০টির মতো। ওই সকল মিল মালিকদের নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ আটা ময়দা মিল মালিক সমিতি। তবে গেল একদশকের বেশী সময় ধরে আটা ময়দা মিল মালিক সমিতিতে ভোটগ্রহণের মাধ্যমে কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ওই সমিতির বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হওয়া নেতাদের অধিকাংশই একই পদ আকড়ে রয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে। ঘুরে ফিরে একই ব্যাক্তিরা রয়েছেন দায়িত্বশীল পদে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত পদে নির্বাচিত হন আলীরটেক ইউপির চেয়ারম্যান মতিউর রহমান। এরপর ২০১২ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন জসিমউদ্দিন মৃধা ওরফে গম জসিম। এরপর ২০১৪ সালে আবার মতিউর রহমান এবং ২০১৭ সালে জসিমউদ্দিন মৃধা সভাপতি নির্বাচিত হন। সাধারণ সম্পাদক পদে ২০১২ সালে মোঃ আব্দুল মতিন মন্টু, ২০১৪ সালে অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান ও ২০১৭ সালে মোঃ আব্দুল মতিন মন্টু নির্বাচিত হন।

কোষাধ্যক্ষ পদে একটানা তিন মেয়াদে রয়েছেন একই ব্যাক্তি। ২০১২ সালে, ২০১৪ সালে ও ২০১৭ সালে মোঃ আব্দুর রব সিকদার কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হন। সহকারী কোষাধ্যক্ষ পদে ২০১৪ সালে ও ২০১৭ সালে নির্বাচিত হন দেলোয়ার হোসেন-২। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ২০১২ সালে, ২০১৪ সালে ও ২০১৭ সালে নির্বাচিত হন আব্দুল কাদির। দপ্তর সম্পাদক পদে ২০১৪ সালে ও ২০১৭ সালে নির্বাচিত হন মাসুদুজ্জামান মাসুদ।

এদিকে গেল এক দশক ধরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আটা ময়দা মিল মালিক সমিতিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ন পদগুলোতে ঘুরে ফিরে একই ব্যাক্তিরা অধিষ্ঠিত হচ্ছেন। এর আগে ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পূর্বে ভোটার তালিকা এবং প্যানেলভুক্ত নির্বাচনের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন সমিতির এক সদস্য। বিষয়টি যা গড়িয়েছিল শ্রম আদালতেও। যদিও এরপরে অভিযোগটি বেশীদূর এগোয়নি।

ঘুরে ফিরে একই ব্যাক্তিরা জেলা আটা ময়দা মিল মালিক সমিতির নেতৃত্বে অধিষ্ঠিত হওয়ায় ওই সমিতির পদগুলোতে কি মধু রয়েছে এমন প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ ব্যবসায়ীর মধ্যে। তবে অনেক ব্যবসায়ীই বলছেন মূলত সিন্ডিকেটের কারসাজি ঠিক রাখার জন্যই ওই সকল ব্যবসায়ীরা গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো আকড়ে ধরে রাখছেন। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ওইসকল ব্যবসায়ীদের অনেকেই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে। কারণ তাদের ইশারাতেই নারায়ণগঞ্জে আটা ময়দা ও গমের কারবার নিয়ন্ত্রিত হয়। এছাড়া সমিতির আয় ব্যয় নিয়েও সাধারণ সদস্যদের মধ্যে নানা প্রশ্ন উদ্রেক হলেও বার্ষিক সাধারণ সভা হয় নামকাওয়াস্তে। জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের আটা ময়দা মিলগুলো থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে আটা ও ময়দা সরবরাহ করা হয়। যেকারণে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিতরা গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো ছাড়তে চাননা।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

অর্থনীতি -এর সর্বশেষ