১ শ্রাবণ ১৪২৫, মঙ্গলবার ১৭ জুলাই ২০১৮ , ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ

৫ হাজার ৬শ টাকার জন্য ১০ লাখ টাকার মামলা


সিদ্ধিরগঞ্জ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৭:১৮ পিএম, ১৬ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার | আপডেট: ০১:১৮ পিএম, ১৬ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার


৫ হাজার ৬শ টাকার জন্য ১০ লাখ টাকার মামলা

সিদ্ধিরগঞ্জর জনতা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড (রেজিঃ নং-৭৯) নামে এক মাল্টিপারপাসের বিরুদ্ধে অভিনব জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। পার্লারের জন্য মাত্র ১ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার পর ৯৪ হাজার ৪’শ টাকা পরিশোধ করার পর অবশিষ্ট টাকার জন্য নারীর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার পৃথক দু’টি মামলা করে। এতে অসহায় ঐ নারী কিংকর্তব্যবিমূর হয়ে পড়েছে। অসহায় ওই নারীর মা ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারী চাকুরীজীবি বাবাও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। অসহায় এ পরিবারটি মামলা ঐ মাল্টিপারপাস কর্তৃপক্ষের হয়রাণি থেকে বাঁচতে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাংরোড এলাকার হাজী ইব্রাহীম খলিল শপিং কমপ্লেক্সের একটি দোকান ভাড়া নিয়ে মাল্টিপারপাস ব্যবসা করে আসছে দি জনতা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ (গভঃ রেজিঃ নং-৭৯)। এ মাল্টিপারপাস প্রতিষ্ঠান থেকে সিদ্ধিরগঞ্জের কলাবাগ এলাকার জেসমিন আক্তার নামে এক নারী ১ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করে। ১ লাখ টাকায় ঐ নারীকে ৪৮ হাজার ৮’শ টাকা সুদ দেয়া স্বাপেক্ষে ১২ মাসের মধ্যে পরিশোধ করার শর্তারোপ করে চেয়ারম্যান ইউসুফ। ২০১৩ সালের ৪ এপ্রিল তারিখে তিনি এ ঋণ গ্রহণ করেন পার্লার ব্যবসা করে স্বাবলম্ভী হওয়ার জন্য। ঋণ গ্রহনের সময় ঐ নারীর কাছ থেকে ডাচ বাংলা ব্যাংকের চেকের ২টি পাতা নিয়েছিলেন ঐ মাল্টি পারপাসের চেয়ারম্যান ইউসুফ। চেকের ঐ পাতা দু’টিতে নারী থেকে স্বাক্ষর নিলেও চতুর ইউসুফ কোন টাকার অংক লিখতে দেয়নি ওই নারীকে।

এদিকে পার্লার ব্যবসা শুরু করার পর থেকে ঐ নারীর ব্যবসায় ধস নামতে থাকে। এতে তিনি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। অপরদিকে ঐ মাল্টিপারপাসের চেয়ারম্যান ইউসুফ এবং তার ব্যবসায়িক পার্টনার আরিফ প্রধান ঐ নারীকে চাপ সৃষ্টি করত থাকে তাদের ঋণ পরিশোধ করার জন্য। নিরুপায় হয়ে ঐ নারী স্বজনদের কাছ থেকে ধার করে ৫ কিস্তিতে ৯৪ হাজার ৪০০ টাকা পরিশোধ করে। অবশিষ্ট মূল মাত্র ৫ হাজার ৬শ এবং মাল্টিপারপাসের দাবিকৃত ১ লাখ ৭০ হাজার ৮’শ ৮০ টাকা ঐ নারী পরিশোধ করতে অপারগতা প্রকাশ করে।

পরবর্তীতে দফায় দফায় ঐ নারীর বাসায় গিয়ে চেয়ারম্যান ইউসুফ এবং পার্টনার আরিফ প্রধান ঐ নারী এবং তার বৃদ্ধা মা ও ডিএনডি পাম্প হাউজের অবসরপ্রাপ্ত গাড়ি চালক নূরুল করিমকে হুমকি দিতে থাকে। এক পর্যায়ে তাদের কাছে থাকা ২ টি চেকের বিপরীতে ৫ লাখ টাকা করে ১০ লাখ লিখে চেক ডিজঅনারের মামলা দায়েরের হুমকিও দেয় চেয়ারম্যান ইউসুফ এবং আরিফ প্রধান। কিন্তু ওই নারী ও তার মা বাবা অর্থ না দিতে পারার অপারগতা প্রকাশ করলে ওই দুই চেকে ৫ লাখ টাকা করে ১০ লাখ টাকা অংক লিখে চিফ জুডিশিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আমলী আদালত ‘ক’ অঞ্চল এ পৃথক দুটি মামলা (সিআর মোকদ্দমা নং- ২৪১/১৮ ও ২৪২/১৮) দায়ের করেন মাল্টিপারপাসের অন্যতম পার্টনার আরিফ প্রধান।

তবে সচতুর আরিফ প্রধান মামলায় মাল্টিপারপাসের কোন পরিচয় উল্লেখ করেননি। তার দায়ের করা মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, তার সাথে জেসমিন আক্তারের ব্যবসায়ীক সূত্রে দীর্ঘদিন যাবত পরিচিত। পরিচয়ের সূত্রে আরিফ প্রধানের নিকট থেকে জেসমিন আক্তার ৫ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে তিনি তার টাকা ফেরত চাইলে জেসমিন আক্তার গত ১৫/১০/২০১৫ তারিখে ৫ লাখ টাকার ডাচ বাংলা ব্যাংকের একাউন্টের চেক নং- ১৭০৩৪৩১ এবং  ১৭০৩৪৩২ প্রদান করেন। মামলার বাদী আরিফ প্রধান চেক দু’টি নগদায়নের জন্য ২৮/১২/২০১৭ ইং তারিখে ডাচ বাংলা ব্যাংকে গেলে ডিজঅনার হয়। এ ব্যপারটি তিনি বিবাদী জেসমিন আক্তার জানালে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে কালক্ষেপন করতে থাকে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে বাদী ৪/১/২০১৮ ইং তারিখে ৩০ দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধের জন্য একটি লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করলে জেসমিন আক্তার তা প্রত্যাখ্যান করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। উভয় মামলার বিবরণ প্রায় একই। শুধু মামলা দু’টিতে উল্লেখ করা চেক নাম্বার ভিন্ন।

জেসমিন আক্তারের মা রাবেয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের জানায়, আমার স্বামীর অবসরের টাকা দিয়ে দু’টি ঘর তুলে ভাড়া দিয়ে কোনমতে আমরা দিনযাপন করে আসছি। বড় মেয়ে মাল্টিপারপাস থেকে ঋণ নিয়ে পার্লার করার পর পার্লার ব্যবসায় লস খায়। এরপর তারা প্রতারণা করে আমার মেয়ে থেকে নেয়া ২ টি চেকের পাতায় ৫ লাখ টাকা করে ১০ টাকা লিখে ২টি মামলা দায়ের করে। তবে ঐ মাল্টিপারপাসের আরিফ ও ইউসুফ আমাদের বাসায় এসে ১ লাখ ৭০ হাজার ৮’শ ৮০ টাকা দিলে মামলা তুলে নিবে  বলে জানায়। কিন্তু আমি এ টাকাও পরিশোধ করতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা আমার মেয়েকে ও আমাকে নানা রকম হুমকি দিতে থাকে। এতে বর্তমানে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

দি জনতা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ইউসুফ জানায়, আমরা ঋণ দেয়ার সময় ২ টি ৩টি ব্লাঙ্ক চেক ঋণ গ্রহীতার কাছ থেকে নিয়ে থাকি। যদি ঋণ গ্রহিতা আমাদের টাকা পরিশোধ না করে তবে আমরা মামলা করি। এটা কোন প্রতারণা নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা আমাদের নিয়ম। জেসমিন আক্তারের বেলাতেও তা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা নাজমুল হুদা জানায়, অনেক মাল্টিপারপাস কর্তৃপক্ষ ঋণ দেয়ার সময় ব্লাঙ্ক চেক নেয়ার কথা আমরা শুনেছি। পরবর্তীতে তারা এ চেকগুলো দিয়ে মামলাও করে দেয়। কিন্তু এমন মামলার কোন নিয়ম নেই। আমরা এমন অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

অর্থনীতি -এর সর্বশেষ