ব্যস্ত হোসিয়ারী পল্লী

৪ ভাদ্র ১৪২৫, রবিবার ১৯ আগস্ট ২০১৮ , ১:১৮ অপরাহ্ণ

ব্যস্ত হোসিয়ারী পল্লী


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৫২ পিএম, ১২ জুন ২০১৮ মঙ্গলবার | আপডেট: ০২:৫২ পিএম, ১২ জুন ২০১৮ মঙ্গলবার


ফাইল

ফাইল

ঈদকে সামনে রেখে দিনরাত কাজ চলছে নারায়ণগঞ্জের হোসিয়ারী কারাখানাগুলোতে। সকাল ৯টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত চলে কারাখানগুলোর মেশিন। তবে বিগত কয়েক মাসের মন্দা মৌসুম ও বর্তমানের লোডশেডিংয়ে আশা অনুরূপ কাজ হচ্ছে না বলে দাবি শ্রমিক ও কারখানার মালিকদেরা। এছাড়া ব্যবসায়ীরাও বলছে রোজা ও ঈদের বেচাকেনা এখনও শুরু হয়নি।

হোসিয়ারী শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল ৯টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত শ্রমিকেরা কারাখানাগুলোতে কাজ করে। পরে সেখানেই ঘুমিয়ে থাকে শ্রমিকেরা। আবার সকাল হলে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শুরু করে। আর এখন নিয়মিত এভাবেই চলছে কারাখানাগুলো।

জানা গেছে, হোসিয়ারা ব্যবসা মূলত গেঞ্জি, ছোট শিশুদের পোশাক, টিÑশাট, শার্ট ইত্যাদি পণ্য তৈরি করা হয়। যার মধ্যে নয়মাটি এলাকায় শার্ট ও টি-শার্ট ও গেঞ্জি উভয় পোশাক তৈরি হলেও উকিলপাড়া এলাকায় গেঞ্জি বেশি তৈরি হয়। আর দেওভোগ এলাকায় তৈরি হয় মেয়ে শিশুদের পোশাক। বর্তমানে এ ব্যবসা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছটিয়ে আছে। ছোট ছোট ঘর ভাড়া নিয়ে কারাখানা গড়ে তোলা হয়েছে।

নয়মাটি এলাকার দর্জি কারিগর শুভ দে বলেন, ‘বিগত কয়েক মাস মন্দা মৌসুম ছিল। কোন কাজ ছিল না জমানো টাকা ও মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে সংসার চালাতে হয়েছে। এখন মৌসুম। আগামী এক মাস বেচাকেনা ভালো থাকবে আর কাজও বেশি হবে। তাই আমরা শ্রমিকেরা নিজ থেকেই মালিকদের বলে থাকি রাতে কাজ করার জন্য। তা না হলে মন্দার খরচের টাকা উপার্জন করা সম্ভব হবে না।’

উকিলপাড়া এলাকার রাজু বলেন, ‘শুধু এ একমাস শ্রমিকেরা মালিকদের কাছ থেকে ইচ্ছা মতো কাজ করার সুযোগ পায়। কারণ অন্য সময় মন্দা মৌসুম থাকায় মালিকেরাও ঠিক ভাবে কাজ দিতে পারে না। তবে টাকা দিয়ে চালিয়ে রাখে। যার জন্যই এ মৌসুমে রাত জেগে শ্রমিকেরা কাজ করে।’

রাজু আরো বলেন, ‘এখন কাজ করে সপ্তাহে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত কাজ করা যায়। কিন্তু মন্দা মৌসুমে ১হাজার টাকার কাজ করতে পারি না। ব্যবসা ভালো হয় বলেই মালিকেরা এখন শ্রমিকদের কাজ বেশি দেয়।’

নয়মাটি এলাকার ব্যবসায়ী রাজীব দাস বলেন, ‘১২ মাস ব্যবসা থাকে না। মৌসুমী ব্যবসা হয় রমজানের শুরু থেকে এক মাস আর কোরবানী ঈদের আগে এক মাস। এ কয়েক মাস ব্যবসা ভালো হয়। আর অন্য সময় দোকানে বেচাকেনাও হয় না। আর এ মৌসুমে শ্রমিকেরাই কাজ করতে চায় আমরা মালিকেরাও শ্রমিকদের কাজ দেই।’

ব্যবসায়ী নিতাই দেবনাথ বলেন, ‘এখন প্রতিদিন কম করে হলেও ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বেচাকেনা হয়। কিন্তু মন্দা মৌসুমে সপ্তাহে ৫০০ টাকাও বিক্রি হয় না। আর তাই আগে থেকে পণ্য স্টক করে রাখা সম্ভব হয় না।’

উকিলপাড়া ব্যবসায়ী সোহেল হোসেন বলেন, ‘মন্দা মৌসুম থাকায় শ্রমিকদের ঠিক ভাবে কাজ দেওয়া সম্ভব হয়নি। আর এখন বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে ঠিকভাবে কাজ করতে পারেনা শ্রমিকেরা। তাই দিনের ও রাতে কাজ করে। এমনিতে শুক্রবার বন্ধ থাকে কিন্তু মৌসুম হওয়ায় শ্রমিকেরাই কাজ করতে চায় আমরাও বাধা দেই না। তাদের যতক্ষন খুশি তারা কাজ করে।’

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

অর্থনীতি -এর সর্বশেষ