২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮ , ৮:৪৭ অপরাহ্ণ

rabbhaban

থমথমে কালিরবাজার স্বর্ণপট্টি, স্তব্ধ ব্যবসায়ীরা


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:১৭ পিএম, ১০ জুলাই ২০১৮ মঙ্গলবার


থমথমে কালিরবাজার স্বর্ণপট্টি, স্তব্ধ ব্যবসায়ীরা

এ কেমন বন্ধুত্ব? কিভাবে সম্ভব খুব কাছের একজন ঘনিষ্ট বন্ধুকে টুকরো টুকরো করে হত্যা করা? যা কখনো কল্পনাও করা যায় না। নিজের কানে শুনেও বিশ্বাস করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন সহকর্মীকে হারিয়ে। স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। বলা হচ্ছিল কালীরবাজারের নিখোঁজ স্বর্ণ ব্যাবসায়ী প্রবীর ঘোষের বন্ধুর কথা। দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দেবনাথের বন্ধুত্ব চলে আসছিল। সারাদিনই একসাথে চলাফেরা করতেন তারা। একে অপরের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল তাদের। প্রবীরের পরিবারের একজন সদস্যের মতই হয়ে গিয়েছিলেন পিন্টু দেবনাথ। কিন্তু সেই প্রিয় বন্ধুর হাতেই খুন হতে হলো প্রবীর ঘোষকে।

স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষের লাশ উদ্ধার হওয়ার খবরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে কালিরবাজারের স্বর্ণপট্টি এলাকায়। ১০ জুলাই মঙ্গলবার সকাল থেকে ব্যাবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে বাইরে বসে বিক্ষোভ দেখান। দোকানের সামনে সাটানো হয়েছে শোকের প্রতিক কালো পতাকা ও ব্যাবসায়ীরা বুকে ধারণ করেছেন কালো ব্যাজ। আমলাপাড়া সহ পুরো স্বর্ণপট্টি এলাকায় নেমে এসেছে নিরবতা।

১০ জুলাই মঙ্গলবার দুপুরে কালিরবাজারের স্বর্ণপট্টি এলাকায় গিয়ে এই চিত্র দেখা যায়। এর আগে গত ১৮ জুন থেকে নিখোঁজ হন তাদেরই সহকর্মী স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ। নিখোঁজের ২১ দিন গত ৯ জুলাই রাত ১১টায় শহরের আমলপাড়া এলাকার একটি ভবনের সেপটিক ট্যাংক থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষের টুকরো টুকরো লাশ উদ্ধার করা হয়।

স্বর্ণ শিল্পী শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুকুল মজুমদার বলেন, আমরা এখন কাকে বিশ্বাস করবো। যার সাথে এতদিন ধরে বন্ধুত্ব চলে আসছে, সেই পিন্টু দেবনাথ এরকম একটি ঘটনা ঘটাবে, কল্পনাও করা যায় না। সারাদিনই বন্ধু পিন্টুর সাথে প্রবীরের উঠাবসা ছিল। আমরা এখন আতঙ্কে রয়েছি কে কখন কোথায় কোনদিক দিয়ে খুন হয়ে যায়, তা বলা মুশকিল হয়ে পড়েছে।

তিনি আরো বলেন, মানুষ কতটা ভয়ঙ্কর হলে এরকম নৃশংসভাবে টুকরো টুরো করে খুন করতে পারে। খুন করে পিন্টু আবার আমাদের সাথেই মিছিল মিটিং করেছে। আমরা এর সর্বোচ্চ বিচার চাই। এই খুনের সাথে যারা জড়িত রয়েছে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদেরকে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক এটাই আমাদের দাবি।

এদিকে দুপুরে দিকে ময়নাতদন্তের পর লাশ স্বর্ণপট্টিতে নিয়ে আসলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ব্যবসায়ীরা। তারা তাদের সহকর্মীর খন্ডিত লাশ নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এসময় তারা দোষীদের ফাঁসির দাবী জানান।

ব্যাবসায়ীরা বলছেন, আমরা এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না, প্রবীরের হত্যাকান্ডে তারই প্রিয় বন্ধু পিন্টু দেবনাথ জড়িত। যার সাথে কিনা প্রবীর ঘোষ সবসময় একইসাথে কাজ করতেন পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসায়ীক কর্মকান্ড পরিচালনাও করতেন। সেই পিন্টু দেবনাথই প্রবীরকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। একজন বন্ধু কিভাবে নরপশুর মতো তারই বন্ধুকে হত্যা করবে। মানুষ কিভাবে মানুষ বিশ্বাস করবে।

নিখোঁজের ২১ দিন পর সোমবার ৯ জুলাই রাত ১১টায় শহরের আমলপাড়া এলাকার রাশেদুল ইসলাম ঠান্ডু মিয়ার ৪ তলা ভবনের নিচে সেপটিক ট্যাংক থেকে প্রবীরের লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় বসবাস করেন প্রবীরের বন্ধু পিন্টু দেবনাথ। তার ফ্লাটেই প্রবীরকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। টুকরো টুকরো করে লাশ ফেলে দেওয়া হয় ভবনের সেপটিক ট্যাংকে। পঁচন ধরে যায় লাশের মধ্যে। প্রবীরকে হত্যা করা হয়েছে মাথ, পা, হাত ও শরীরকে বিচ্ছিন্ন করে। হত্যার পর অংশগুলো সিমেন্টের ব্যাগে ভরে ফেলে দেওয়া হয়।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

অর্থনীতি -এর সর্বশেষ