৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, সোমবার ১৯ নভেম্বর ২০১৮ , ১০:৩১ অপরাহ্ণ

rabbhaban

ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল, গ্রাহকদের ক্ষোভ


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৪৭ পিএম, ১৮ আগস্ট ২০১৮ শনিবার


ছবি প্রতিকী

ছবি প্রতিকী

হঠাৎ করেই নারায়ণগঞ্জ শহর ও আশেপাশের গ্রাহকের জুলাই মাসের বিদ্যুৎ বিল বেড়ে গেছে। কোন কোন গ্রাহকের বিল দেড় থেকে দুইগুণ বিল বেশী এসেছে। বিদ্যুৎ বিলের কাগজ হাতে পেয়ে গ্রাহকের চোখ চড়কগাছ অবস্থা। হঠাৎ করে অত্যাধিক বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাবার কারণ অনুসন্ধানের জন্য ডিপিডিসির দ্বারস্থ হচ্ছেন গ্রাহকেরা। অভিযোগ করছেন ভুল মিটার রিডিংয়ে কারণে অতিরিক্ত বিল গুণতে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয় মিটার রিডার কর্মচারীর মাধ্যমে জানা যায়, গত ১ জুলাই হতে মিটার রিডিং এর জন্য সিস্টেম রিসোর্স নামে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হয়। সেক্ষেত্রে তারা আগের মাসগুলোর এরিয়ার জুলাই মাসের ইউনিট যোগ করে থাকতে পারে যার কারণে বেশী বিদ্যুৎ বিল আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডিপিডিসি নারায়ণগঞ্জ পশ্চিম জোনের বেশ কয়েকটি গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল অনুসন্ধান করে দেখা যায় অধিকাংশ বিল গত মাসের তুলনায় প্রায় দেড় গুণ বেশী এসেছে। কোন কোন গ্রাহকের তা দ্বিগুণে গিয়ে ঠেকেছে। বছরের পর বছর নির্দিষ্ট একটি লেভেলের মাঝে বিল পরিশোধ করে আসা গ্রাহকরা হঠাৎ বিদ্যুৎ অতিরিক্ত বিল আসার মাঝে যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছেন না। আর শুধুমাত্র কয়েকজন গ্রাহকের মাঝেই অতিরিক্ত বিলের বোঝা সীমাবদ্ধ নয়। পুরো পশ্চিম জোনের ৭০ শতাংশ গ্রাহকেরই বিল বৃদ্ধি পেয়েছে এবার।

ফতুল্লার শেহাচরের বাসিন্দা নূরুল আমিন (৫৫) তার দুই মাসের বিদ্যুৎ বিলের কাগজ এনে প্রতিবেদকে বিলের অসামাঞ্জ্যসতা দেখান। সেখানে জুন মাসের বিল ১৬৮০ টাকা সেখানে জুলাই মাসের বিল ২৪০৩ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার বাসায় নতুন কোন ইলেক্ট্রনিক্স পন্য আনা হয়নি যা এতটা বিদ্যুৎ টানবে। তার উপর জুন মাসের তুলনায় জুলাই মাসে লোডশেডিং বেশী হয়েছে। তার পরেও এত বিদ্যুৎ বিল আসার কোন মানে হয় না।

ফতুল্লা ও নারায়ণগঞ্জ শহরের বেশ কিছু বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ বিল অনুসন্ধান করে প্রায় একই চিত্র পাওয়া যায়। আগের মাসের তুলনায় ৪শ থেকে ৮ থেকে ৯শ বেশী বিল লক্ষ্য করা যায়।

বেশ কয়েকজন গ্রাহকের জুন ও জুলাই দুই মাসের বিদ্যুৎ বিলের তফাৎ এ দেখা যায়, ৯৫০টাকা থেকে ১৬০০টাকা, ১৫৫৬টাকা থেকে ২২০০টাকা, ২৬০০ টাকা থেকে ৩৩০০টাকায় ঠেকেছে। এক সাথে এত মানুষের অত্যাধিক বিল আসা কোন স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না।

ভুক্তভোগী বেশ কয়েকজন গ্রাহক এসকল অভিযোগ নিয়ে ডিপিডিসি অফিসে গেলেও কাংখিত সমাধান পাচ্ছেন না তারা। আর বেশীরভাগ গ্রাহক ঝামেলায় না জড়িয়ে নীরবে বিল পরিশোধ করে দায় সাড়ছেন। তবে পরবর্তী মাসগুলোতে মিটার রিডিং হোক কিংবা হিসাব ত্রুটিজনিত ভুতুড়ে বিলে ভোগান্তি পোহাতে চান না গ্রাহকরা।

ডিপিডিসি পশ্চিম জোনের ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আনিসুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

অর্থনীতি -এর সর্বশেষ