নারায়ণগঞ্জে কমতে পারে চামড়ার মূল্য, বিপাকে ব্যবসায়ীরা

সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৭:০৮ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০১৮ রবিবার



ছবিটি অনলাইন থেকে সংগৃহিত।
ছবিটি অনলাইন থেকে সংগৃহিত।

সরকারিভাবে চামড়ার দাম কম নির্ধারণ করায় বিপাকে পড়েছেন নারায়ণগঞ্জের চামড়া ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, যৌক্তিক পর্যায়ে চামড়ার দাম নির্ধারণ না করা হলে ফের লোকসান গুণতে হবে। আর লোকসান এড়াতে বিপুল পরিমাণ চামড়া পাশের দেশে পাচার হয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে দেশের চামড়া শিল্প হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

প্রতিবছর কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও পাশের জেলা থেকে চামড়া ব্যবসায়ীরা এসে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ করে থাকেন। এবার চামড়ার দাম কম হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী নারায়ণগঞ্জে আসতে চাচ্ছে না। ফলে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা এবার মাঠ পর্যায় থেকে চামড়া কিনবেন কি না তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে।

সরকারী তথ্য মতে, এবার রাজধানীতে প্রতি বর্গফুট লবনযুক্ত গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫-৫০ টাকা এবং রাজধানীর বাইরে ৩৫-৪০ টাকা। এছাড়া সারাদেশে লবণযুক্ত খাসির চামড়া ১৮-২০ টাকা ও বকরির চামড়া ১৩-১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে যা গতবছর ছিল যথাক্রমে ২০-২২ টাকা ও ১৫-১৭ টাকা।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে জানান, সরকারী নির্ধারিত মূল্যের চাইতে কম টাকায় চামড়া সংগ্রহ করেন ট্যানারি মালিকরা। এতে বিপাকে পড়তে হয় তাদের। এছাড়া নতুন করে লবনের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায়ীদের লোকসানের সম্ভাবনা রয়েছে যার পরিমাণ আগের তুলনায় কয়েকগুণ বেশী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আব্দুল মালেক নামে এক ব্যবসায়ী জানান, আগে ট্যানারি মালিকরা ব্যবসায়ীদের অগ্রিম টাকা দিতেন। কিন্তু এখন ঢাকা হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি গাজীপুরে স্থানান্তর করায় বিপুল খরচ ও লোনের মুখে পড়েছেন তারা। অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন আবার কেউ পূর্বের ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেই হিমশিম খাচ্ছেন। এতে করে বাইরের দেশ থেকে বিভিন্ন অর্ডার ফেরত যাচ্ছে। এতে করে দীর্ঘদিনের ক্রেতা হারাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। সব মিলিয়ে চামড়া খাতে হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে।

তিনি আরো বলেন বাংলাদেশের চামড়া খাতে সবচেয়ে বড় বায়ার দেশ হচ্ছে চীন। সম্প্রতি আমেরিকা চীনা পণ্যের উপর ভ্যাট বৃদ্ধি করায় তার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারে। এতে বেশ কিছু চায়না প্রতিষ্ঠান অর্ডার বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। ফলে বিপুল পরিমাণ চামড়া এখনো বিভিন্ন ট্যানারিতে অলস পড়ে আছে। ফলে নতুন করে চামড়া কিনবেন কি না তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন ট্যানারি মালিকরা।

দীর্ঘদিন মাঠ পর্যায় থেকে কোরবানির পশুর চামড়া ক্রয় করে আসা ব্যবসায়ী খোরশেদ জানায়, এবার ব্যাপকহারে ছাগল ও বকরির চামড়া নষ্ট হবার সম্ভাবনা রয়েছে। লোকসানের আশঙ্কায় অনেকেই চামড়া কিনতে আগ্রহ হারাবে। গতবছর অনেকে ব্যবসা করতে এসে লোকসানে পড়েছে যা এবারও হবার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। যদি বড় চোরাকারবারি গ্রুপ নামে তাহলে পুরোটাই পাচার হবে। অন্যথায় অনেক চামড়া নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও