৭ কার্তিক ১৪২৫, মঙ্গলবার ২৩ অক্টোবর ২০১৮ , ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ

UMo

পাগলায় ভুয়া সমিতিতে গিয়ে অবরুদ্ধ জেলা সমবায়ের পরিদর্শক


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১১:২০ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার


পাগলায় ভুয়া সমিতিতে গিয়ে অবরুদ্ধ জেলা সমবায়ের পরিদর্শক

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের পাগলা চিতাশাল এলাকায় মঙ্গলবার বিকেলে তিনশ’ গ্রাহকের প্রায় ১৫ লাখ নিয়ে পালানোর চেষ্টাকালে একটি ভুয়া সমবায় সমিতির কর্মকর্তাদের পক্ষ নেয়ায় অবরুদ্ধ হয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা সমবায় কার্যালয়ের পরিদর্শক আলমগীর হোসেন। খবর পেয়ে জেলা সমবায় কার্যালয়ের অন্যান্য পরিদর্শকরাও ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরকেও অবরুদ্ধ করে রাখার চেষ্টা করে। এরপর স্থানীয় মেম্বার আলাউদ্দিন হাওলাদার এসে পরিদর্শক আলমগীরকে উদ্ধার করেন। এরপর স্থানীয় মেম্বার আলাউদ্দিন হাওলাদারের তত্বাবধায়নে রাত ১০টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আটককৃত ভুয়া সমিতির চেয়ারম্যান ও ম্যানেজারের কাছ থেকে গ্রাহকদের অর্থ ফেরত নেয়ার প্রক্রিয়া চলছিল।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের পাগলা চিতাশাল এলাকায় গণজাগরন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড নিবন্ধন নং-৩৬৭ নামে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে ঋণ দেয়ার নাম করে সদস্যদের নিকট বিপুল পরিমান আমানত গ্রহন করে ওই ভুয়া সমিতির চেয়ারম্যান আশরাফুল ও ম্যানেজার নজরুলসহ একটি প্রতারক চক্র। তাদের সাইনবোর্ডে যে নিবন্ধন নম্বরটি ছিল সেটি ছিল ভুয়া। প্রায় তিনশ গ্রাহককে কম সুদে ঋণ দেয়ার কথা বলে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আমানত হাতিয়ে নেয় ওই প্রতারক চক্রটি। প্রতারক চক্রের হোতা আশরাফুল সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় মৌচাক এলাকার বাসিন্দা।

সমিতির বিক্ষুব্দ গ্রাহকরা জানান, তিনি ৫২ হাজার টাকা জমা রেখেছিলেন ঋণ নেয়ার জন্য। সকল গ্রাহককে একই তারিখে ঋণ দেয়ার কথা ছিল। সবার তারিখ এক হওয়ার কারনে জনমনে সন্দেহ তৈরী হয়। সমিতিটি ভুয়া মনে হওয়ায় সবাই মিলে সমিতির কর্মকর্তাদের ধরার জন্য লোকজন আসতে থাকে। লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে সমিতির চারজন কর্মকর্তা পালিয়ে যান। তখন ওই ভুয়া সমিতির চেয়ারম্যান আশারফুল, ম্যানেজার নজরুলকে আটক করেন প্রতারণার শিকার বিক্ষুব্দ গ্রাহকরা। তখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত নারায়ণগঞ্জ জেলা সমবায় কার্যালয়ের পরিদর্শক আলমগীর হোসেন গ্রাহকদের সঙ্গে র্দুব্যবহার করেন এবং বলেন আপনার আটককৃতদের পুলিশে দিয়ে দেন। তখন উত্তেজিত গ্রাহকরা তাকেও অবরুদ্ধ করে রাখে এবং মারমুখী আচরণ করতে থাকে। এরপর জেলা সমবায় কার্যালয়ের পরিদর্শক আলমগীর হোসেন মুঠোফোনে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার বিষয়টি জেলা সমবায় অফিসারকে জানালে তার নির্দেশে জেলা সমবায় কার্যালয়ের ৮-১০ জন পরিদর্শক তাকে উদ্ধারের জন্য আসেন। তারা ঘটনাস্থলে এসে সমিতির সদস্যদের তোপের মুখে পড়েন। এরপর স্থানীয় মেম্বার আলাউদ্দিন হাওলাদার ঘটনাস্থলে এসে পরিদর্শক আলমগীর হোসেনকে ছেড়ে দিয়ে সমিতির চেয়ারম্যান আশারফুল ও ম্যানেজার নজরুলকে নিয়ে বসে প্রতারণার শিকার সমিতির সদস্যদের অর্থ আদায় করতে বসেছেন।

প্রতারণার শিকার সদস্যরা জানান, পরিদর্শক আলমগীর হোসেনকে এর আগেও ওই সমিতিতে একাধিকবার দেখা গিয়েছিল। পরিদর্শক আলমগীর ওই এলাকার আরো অনেক সমিতিতে নিয়মিতই যান। বিভিন্ন সমিতি থেকে তিনি মোটা অংকের মাসোহারাও নিয়ে থাকেন। যে কারণে গ্রাহকরা মনে করেছিলেন সমিতিটির সমবায় অধিদপ্তরের রেজিষ্ট্রেশন রয়েছে। কিন্তু মঙ্গলবার যখন বিক্ষুব্দ গ্রাহকরা ভুয়া সমিতির চেয়ারম্যান ও ম্যানেজারকে আটক করেন তখন পরিদর্শক আলমগীর বিক্ষুব্দ গ্রাহকদের ভয়ভীতি দেখান এবং আটককৃতদেরকে পুলিশে দেয়ার জন্য এতে তারা আরো বিক্ষুব্দ হয়ে উঠে এবং পরিদর্শক আলমগীরকেও অবরুদ্ধ করে রাখে। কারণ পরিদর্শক আলমগীর যদি এর আগে ওই সমিতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিত তাহলে সমিতির সদস্যদের এহেন প্রতারণার শিকার হতে হতোনা।

এ বিষয়ে জানতে পরিদর্শক আলমগীর হোসেনের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি জানান, সমিতিটি সমবায়ের থেকে রেজিষ্ট্রেশন নেয়নি। তিনি খবর পেয়ে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। তাকে কেউ অবরুদ্ধ করে রাখেনি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়। তিনি এর আগে ওই সমিতিতে কখনো যাননি বলেও দাবি করেন।

জেলা সমবায় অফিসার অখিরুল আলম জানান, তাকে পরিদর্শক আলমগীর হোসেন মুঠোফোনে জানান একটি ভুয়া সমিতির সদস্যরা ঝামেলা করছে। পরে তিনি সেখানে আরো কয়েকজনকে পাঠিয়েছিলেন। তবে অবরুদ্ধ করে রাখার কোন ঘটনা ঘটেনি। ওই প্রতিষ্ঠানটি ভুয়া নম্বর ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা করছিল। ২জনকে বিক্ষুব্দ গ্রাহকরা আটকের পরে স্থানীয় মেম্বারের তত্বাবধায়নে টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে আমি নতুন এসেছি আমাদের পরিদর্শক আলমগীর হোসেন অন্যান্য কোন সমিতি থেকে পরিদর্শনের নামে অর্থ আদায় করেন কিনা বিষয়টি আমার জানা নেই।

স্থানীয় মেম্বার আলাউদ্দিন হাওলাদার জানান, ওই ভুয়া সমিতিটি প্রায় ৩শ গ্রাহককে প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে ঋণ দেয়ার নাম করে প্রায় ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল। বিকেলে ওই ভুয়া সমিতিটির চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে আটকের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আটককৃত ও গ্রাহকদের নিয়ে বসেছি। প্রতারণার শিকার গ্রাহকদের অর্থ আদায়ের চেষ্টা চলছে।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

অর্থনীতি -এর সর্বশেষ