নারায়ণগঞ্জে বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির খড়গ

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:২৩ পিএম, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ সোমবার

ছবিটি অনলাইন থেকে সংগৃহিত।
ছবিটি অনলাইন থেকে সংগৃহিত।

ক্যালেন্ডারের পাতায় বছর ঘুরতেই যুক্ত হতে যাচ্ছে লাখো মানুষের শহর নারায়ণগঞ্জে বাড়িভাড়া। বছর পেরুতেই বাড়িভাড়া বৃদ্ধি পাওয়া যেন নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্যাস, কারেন্ট বিল আর নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্দ্ধগতির অজুহাত দেখিয়ে বাড়ি ভাড়া এবার বৃদ্ধি পাবে ৫০০ থেকে ২০০০ পর্যন্ত। অথচ বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রনের জন্য আইন তৈরী করা হলেও তা মানছেন না কেউ। চুক্তি ভিত্তিতে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার সাথে দুই বছরের ভেতর বাড়িভাড়া বৃদ্ধি না করার নিয়ম থাকলেও সেই চুক্তি ৮০ শতাংশ বাড়িওয়ালাই মানছেন না।

নতুন বছরকে শুভ কামনা জানিয়ে স্বাগত জানাতে চাইলেও ভাড়াটিয়াদের কাছে চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় বাসা ভাড়া। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ জুড়ে থাকেন দুঃশ্চিন্তায়। এই বুঝি বাড়িওয়ালার নোটিশ এলো। হোল্ডিং ট্যাক্স ও গ্যাস কারেন্ট বিলের অজুহাতে বছর ঘুরতে না ঘুরতেই বাড়তি ভাড়া দিতে বাধ্য করা হচ্ছে ভাড়াটিয়াদের। অপারগতা প্রকাশ করলেই বাড়ি ছাড়ার নোটিশ। অথচ ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষার জন্য বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন আছে, কিন্তু প্রয়োগ নেই। তাই লাখো নগরবাসী বছর বছর ভাড়া নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

একদিকে বাড়ি ভাড়া অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্দ্ধগতি। সাথে পরিবহন, চিকিৎসা, বাচ্চাদের শিক্ষা উপকরণ সহ বিভিন্ন খরচ পরিশোধ করে নাভিশ্বাস ওঠার অবস্থা নগরবাসীর। দিনে দিনে যে হারে বাসা ভাড়া বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে আয়ের প্রায় ৬৫ শতাংশ চলে যাচ্ছে বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করতেই। তবে বাড়িওয়ালারাও দাবী করছেন বাড়ি সংস্কার প্রক্রিয়া, গ্যাস, বিদ্যুৎ এর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রবের উর্দ্ধগতি কারণে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

ফলে বছর ঘুরতেই দেখা যায় বাড়ির আসবাবপত্র পরিবর্তন করার দৃশ্য। অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদে দীর্ঘদিনের আবাসস্থল ছেড়ে নতুন বাসায় মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা। বাসা পরিবর্তনের ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও যাযাবরের মত এক স্থান ছেড়ে আরেকস্থানে যেতে হয় অস্থায়ীদের। ভাড়াটিয়াদের অভিযোগ ৫/৬ বছর একটানা স্থায়ী হবার পরেও বাড়িভাড়া স্থিতিশীল করার কোন লক্ষণ দেখা যায়না বাড়িওয়ালার। অথচ নতুন ভাড়াটিয়াকে পূর্বের ভাড়াতেই চুক্তি করে ভাড়া দিয়ে থাকে। এমন স্বেচ্ছাচারিতা মূলক আচরণ থেকে নিস্তার পাবার যেন কোন উপায়ই নেই।

নারায়ণগঞ্জ শহরের অধিকাংশ বাসিন্দা বিভিন্ন শিল্প কারখানার শ্রমিক। সে কারণে শ্রমিকদের বেতন ভাতার তুলনায় খরচ অনেকাংশে বেশী। স্বামী স্ত্রী উভয়ে মিলে আয় রোজগার করে খেয়ে পরে বেঁচে থাকে। বেতনের তুলনায় বাড়িভাড়া বৃদ্ধি করলে মরার উপর খড়ার ঘা হিসেবে আবির্ভূত হবে।

এ প্রসঙ্গে জেলা শ্রমিক সংহতির আহ্বায়ক অঞ্জন দাস নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, প্রতিবছর বাড়ি ভাড়া বাড়ানো একটি স্বাভাবিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে বাড়িওয়ালাদের কাছে। সে হিসেবে যেখানে শ্রমিকরা পর্যাপ্ত বেতন পাচ্ছে না সেখানে নতুন করে বাসা ভাড়া বৃদ্ধি সকলের জন্য কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র বাসাভাড়া কেন্দ্রিক কোন আন্দোলন গড়ে না উঠলেও আগামী দিনে ভাড়াটিয়াদের ন্যায্যতার দাবীতে আন্দোলন সংগঠিত করা হবে।

অচিরেই সরকার ভাড়াটিয়াদের কথা চিন্তা করে বাড়িভাড়া আইন সময়োপযোগী করে বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়া সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে সঠিক উদ্যোগ গ্রহণ করবে এবং দেশের আবাসন সমস্যা সমাধানে অধিক সক্রিয় হবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন নগরবাসী।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও