ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না রূপগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রি অফিসে!

রূপগঞ্জ করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৪:২৭ পিএম, ৮ জানুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার

ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না রূপগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রি অফিসে!

ঘুষ ছাড়া কোন কাজই হয়না রূপগঞ্জ পশ্চিম সাবরেজিস্ট্রি অফিসে। ঘুষ আর দালাল ছাড়া এখানে কিছুই মেলেনা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাবকবলা দলিল করতে শতকরা ১১ টাকা হিসাবে ব্যাংকে জমা দেয়ার বিধান রয়েছে। এক্ষেত্রে দলিলপ্রতি লাখে ৩০০ টাকা দিতে হয় সাবরেজিষ্ট্রারকে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলে কোন ফি না নেয়ার নিয়ম থাকলেও এক্ষেত্রে ভোগান্তিতে পড়তে হয় দলিল করতে আসা লোকজনদের। এ দলিলে ঘুষ দিতে হয় ১৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকা। হেবা ঘোষণা দলিল ফি-বিহীন করার বিধান থাকলেও নেওয়া হয় ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। বন্টননামা দলিলে নেওয়া হয় পাঁচ থেকে ৫০ হাজার টাকা। কোন দলিলের মূল পর্চা না থাকলে ফটোকপি পর্চায় নেওয়া হয় পাঁচ হাজার টাকা। এছাড়া দলিলের নকল তুলতে দলিলপ্রতি নেওয়া হয় দুই হাজার টাকা।

সাবরেজিস্ট্রি অফিসের জনৈক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পশ্চিম অফিসে গড়ে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ টি দলিল হয়। সে হিসাবে মাসে দলিল হয় ১৩০০ থেকে ১৫০০। এসব খাত থেকে প্রতিমাসে শুধু পশ্চিম সাবরেজিস্ট্রি অফিসে আয় হয় ৪৫ লাখ টাকা।

সাবরেজিষ্ট্রি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে জাঙ্গীর মৌজার আর এস ১০২২ দাগের সরকারের ‘ক’ তফসিলভুক্ত ৩২ শতক জমি ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে রেজিস্ট্রি সম্পাদন করে দিয়েছেন। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আসাদুজ্জামানের নির্দেশকে অমান্য করেই এ জমি রেজিস্ট্রি দেওয়া হয়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮০ লাখ টাকা।

কথা হয় উপজেলার কেয়ারিয়া এলাকার ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, তার ১৮০ শতক জমি টাকার বিনিময়ে ভুয়া দলিলে একজনকে রেজিস্ট্রি করে দেয়। এনিয়ে তার দরবারে বেশ কয়েকবার ধর্নাও দেওয়া হয়। কোন কাজে না আসায় পরে নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। নগরপাড়া এলাকার আনোয়ার হোসেন। তিনি তার বোনের নিকট থেকে হেবানামা করে দুই শতক জায়গা রেজিস্ট্রি করাবেন। সাবরেজিস্ট্রি শহিদুল ইসলাম দিতে নারাজ। পরে তিনি ১০ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে রেজিস্ট্রি করান।

মঙ্গলবার সকালে সাবরেজিস্ট্রি অফিসে আসা কয়েকজন জমির মালিকের সঙ্গে কথা হয়। তারা বলেন, দুপুর ২ টা বাজলেই সাবরেজিস্ট্রার ইচ্ছাকৃত সময়ক্ষেপন করেন। বিকেল ৩ টার পর থেকে বিলম্ব ফি নেওয়া হয়। জমির পরিমাণ, ক্রেতাদের ধরণ অনুযায়ী আট হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়।

সাবরেজিস্ট্রার শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, আমার এখানে কোন অনিয়ম-দুর্নীতি হয় না।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও