নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্ট শিল্পে বাড়ছে অস্থিরতা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:২১ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার

ফাইল ফটো
ফাইল ফটো

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই সরকার ঘোষিত নতুন মজুরী কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস শিল্পে বাড়ছে অস্থিরতা। গত কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন শিল্প কারখানার শ্রমিকরা মজুরী কাঠামো বাস্তবায়ন এবং শ্রমিক ছাটাইয়ের প্রতিবাদে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। তবে ডিসেম্বরে বিসিক শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করলেও জানুয়ারীতে গার্মেন্ট শিল্পের শ্রমিকরা আন্দোলন করলেও অদ্যাবধি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। গার্মেন্ট শিল্পে আন্দোলনের নামে যাতে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না হয় সেজন্য শুরু থেকেই কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বিষয়ে কঠোর হুশিয়ারীও দিয়েছেন।

জানা গেছে, গত বছরের ২৯ নভেম্বর থেকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত রফতানিমুখী গার্মেন্ট ফকির অ্যাপারেলসের অন্তত ১০ হাজার শ্রমিক উৎপাদন মজুরী বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে আন্দোলনে নামে। ৩ ডিসেম্বর ফকির অ্যাপারেলসের শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ওই সময়ে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে এএসপি, ওসিসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়। কতিপয় শ্রমিক নেতার ইন্ধনে বহিরাগতদের উস্কানীতে ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠে বিসিকের অন্তত ২০ থেকে ২৫টি কারখানা। পরদিনও ফকির গার্মেন্টের শ্রমিকরা বিক্ষোভ দেখায়। ওইদিন বিকেএমইএ’র সভাপতি এমপি সেলিম ওসমান ফকির অ্যাপারেলসে গিয়ে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন করেন।

এরপর ৫ ডিসেম্বর বিসিক সংলগ্ন ভোলাইল এলাকায় অবস্থিত এন আর গ্রুপের গার্মেন্টের শ্রমিকরা আন্দোলনে নামে। ৬ ডিসেম্বর এন আর গ্রুপের শ্রমিকরা সকাল দশটায় কর্মবিরতি দিয়ে নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ সড়কে অবস্থান নেয়। এসময় শ্রমিকরা রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন ধরিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে বিক্ষোভ শুরু করে। খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে শ্রমিকরা পুলিশের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এক পর্যায়ে শ্রমিক-পুলিশের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এসময় শিল্প পুলিশের সহকারি পুলিশ সুপার মেহেদী ও ২০ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত অর্ধশত সাধারণ শ্রমিক আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার সেল ও সর্টগানের গুলি ছোঁড়ে। সংঘর্ষের কারনে সকাল ১০টা থেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত একঘন্টা নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। সংঘর্ষের সময় পুলিশের আঘাতে এক নারী শ্রমিক নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পোশাক শ্রমিকরা এ অভিযোগ তুলে তারা এ ঘটনার বিচার দাবী করেছেন। তবে পুলিশ বলছে, ভয়ে ও আতঙ্কে হুড়োহুড়ির সময় পদদলিত হয়ে অথবা হার্ট এ্যাটাকে ওই নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শহরের খানপুর তিনশ’ শয্যা হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক তাহমিনা নাজনীনের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের আওয়ামীলীগ দলীয়  সংসদ সদস্য শামীম ওসমান কারখানা মালিকদের সঙ্গে কথা বলে শ্রমিকদের দাবী পূরণের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা শান্ত হয়। ওইসময় শামীম ওসমান শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সামনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর ঠিক এর আগ মুহুর্তেই বহিরাগত শ্রমিক নামধারী নেতারা পরিবেশ অস্থিতিশীল করে তুলতে উস্কানী দিয়ে শ্রমিকদের রাস্তায় নামিয়ে অর্থনীতিকে ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে। শামীম ওসমান আরও বলেন, শ্রমিকদের দাবী থাকতে পারে। এটি পূরণের জন্য মালিকপক্ষ, বিকেএমইএ, প্রশাসন রয়েছে। কিন্তু কারো সাথে কোনরূপ আলোচনায় না বসে এভাবে শ্রমিকদের রাস্তায় নেমে এসে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, গাড়ীতে হামলা, ভাঙচুর চালানোটা আমার কাছে ষড়যন্ত্রেরই অংশ মনে হচ্ছে। কিন্তু এই ষড়যন্ত্রের ফাঁদে যেন শ্রমিকরা পা না দেয় সেজন্য আন্দোলনরত শ্রমিকদের কারো উস্কানীতে কান না দেয়ার অনুরোধ জানান শামীম ওসমান।

৭ ডিসেম্বর আলীগঞ্জে এনআর গার্মেন্টের শ্রমিকদের নিয়ে সমাবেশ করেন জাতীয় শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক এবং ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্ট ওয়ার্কার্স এর কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি কাউসার আহাম্মেদ পলাশ। শ্রমিক পুলিশ সংঘর্ষের সময় নারী শ্রমিক মারা যাওয়াকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর আন্দোলনের হুশিয়ারী দিয়েছেন জাতীয় শ্রমিকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহমেদ পলাশ। তার দাবি, মালিক ও পুলিশের হামলায় ওই নারী মারা যায়।

এদিকে ৮ ডিসেম্বর বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় কোন ধরনের শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা না ঘটলেও কর্মস্থলে যোগ দেননি আন্দোলনরত এনআর গার্মেন্টের শ্রমিকরা। শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শ্রমিকরা কারখানার সামনে অবস্থান করলেও কাজে যোগ দেননি। তাদের মতো ক্রোনি গ্রুপের অবন্তী কালার টেক্স ও অ্যাসরোটেক্স গার্মেন্টেও শ্রমিকরা কাজে যোগ দেয়নি। এর মধ্যে কিছু কারখানায় শ্রমিককরা সকালে কাজে যোগ দিলেও দুপুর ১২ টায় এক শ্রমিক নেতার ফোন পেয়ে সবাই কাজ ছেড়ে চলে যায়।

এদিকে নির্বাচনের পূর্বে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার হিসেবে বদলী হয়ে আসা হারুন অর রশিদ গার্মেন্ট শিল্পে অরাজকতার বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারী দেন। গত ডিসেম্বর মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে আর কোন ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে গত ৩ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় বিসিক শিল্পনগরী সংলগ্ন ক্রোনি গ্রুপের প্রতিষ্ঠান অবন্তী কালার টেক্সে মজুরী দাবীতে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধ করে। এতে প্রায় ২ ঘণ্টা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। প্রতিষ্ঠানটির মালিক বিকেএমইএ’র সাবেক প্রথম সহসভাপতি আসলাম সানি। শিল্প পুলিশ ও ফতুল্লা থানা পুলিশ শ্রমিকদের শান্ত করে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়।

৫ জানুয়ারী ক্রোনি গ্রুপের অবন্তী কালার টেক্স লিমিটেডের শ্রমিকেরা নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে মূল মজুরি বৃদ্ধির দাবি ও ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের দাবিতে সমাবেশ করেছে। সমাবেশে শ্রমিকেরা অভিযোগ করেন, সরকারের গেজেট মোতাবেক তদের মজুরি দেয়া হচ্ছে না। মজুরি বৃদ্ধির জন্য বার বার মালিক পক্ষের কছে গিয়েও তারা কোনো ফল পায়নি। উল্টো মালিক পক্ষ শ্রমিকদের শাসিয়ে তাদের ছাঁটাই করার হুমকি দেয়। এরপর ৬ জানুয়ারী বিকেএমইএ এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ মহাপরিদর্শকের কার্যালয় এবং ৭ জানুয়ারী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেয় শ্রমিকরা। এসময় জেলা প্রশাসক শ্রমিকদের শান্ত থাকার আহবান জানান।

এদিকে ৮ জানুয়ারী রাতে নতুন মজুরিকাঠামো নিয়ে পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ১২ সদস্যের একটি ত্রিপক্ষীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি নতুন মজুরিকাঠামোতে কোনো সমস্যা থাকলে তা খুঁজে বের করে সমাধান করবে। এক মাসের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন হবে। ওই কমিটিতে নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক নেতাদের মধ্যে স্থান পেয়েছেন অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল।

৯ জানুয়ারী বেলা ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ৬নং ওয়ার্ডের আদমজী সুমিলপাড়া মুনলাইট সিনেমা হল এলাকায় ওয়েষ্ট নিট এ্যাপারেলস এবং নাসিক ৮নং ওয়ার্ডের চৌধুরীবাড়ী এলাকায় পিএম গার্মেন্ট নামক দুটি কারখানার শ্রমিকরা সরকার ঘোষিত নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের দাবীতে নারায়ণগঞ্জ-সিদ্ধিরগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। অপরদিকে সাভারে মজুরি বৃদ্ধির দাবীতে আন্দোলনে নিহত শ্রমিক সুমন মিয়া হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিচার ও শাস্তির দাবীতে বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট। পরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ থেকে নিহত শ্রমিকের পরিবারকে সহায়তা ও ঘটনার তদন্ত করে বিচারের দাবী এবং শ্রমিকদের বেতন স্কেল পুন:নির্ধারনের দাবী জানান তারা।

১০ জানুয়ারী দুপুরে আরটি ফ্যাশন নামের একটি গার্মেন্টের শ্রমিকরা ১৫০ জন শ্রমিককে ছাটাইয়ের (চাকুরীচ্যুত) প্রতিবাদে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেণ আরটি ফ্যাশনের মালিক নজরুল ইসলাম এর আগে আমানা গার্মেন্টের অংশীদার ছিলেন। বর্তমানে তিনি আরটি ফ্যাশন নামের কারখানা দিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার বিসিক শিল্প নগরী ও এর আশেপাশের এলাকায় ৪ শতাধিক কারখানা থেকে প্রতি মাসে রপ্তানী হয়ে থাকে ৫ হাজার কোটি টাকার পণ্য। এছাড়া ফতুল্লার সস্তাপুর কাঠেরপুল শিল্পাঞ্চল ও আদমজী ইপিজেডসহ নারায়ণগঞ্জ জেলায় সহস্রাধিক রপ্তানীমুখী গার্মেন্ট কারখানা রয়েছে। বিভিন্ন গার্মেন্টের শ্রমিকরা মজুরী বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন শুরু করায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পূর্বের ন্যায় যাতে রপ্তানীমুখী গার্মেন্ট শিল্পে ফের শ্রমিক অসন্তোষ বৃহদাকার ধারন করতে না পারে সেজন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে গার্মেন্টের মালিকপক্ষ রয়েছেন আতঙ্কে।

বিকেএমইএর সাবেক সহ-সভাপতি ও বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, আমরা কোন শ্রমিককে ঠকাতে চাইনা। শ্রম আইন অনুযায়ী প্রতি বছর শ্রমিকদের ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট দিতে হয়। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিকেএমইএ’র সভাপতি সেলিম ওসমান এমপি শ্রম বান্ধব। শ্রমিকদের আগের মজুরী ৫ হাজার ৩০০ টাকা থেকে নতুন ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী ৮ হাজার টাকা করেছেন। এখন দেখা গেছে যেসকল কারখানায় একজন শ্রমিক ৫ বছর ধরেই কাজ করছে তার ইনক্রিমেন্ট অনুযায়ী সে ৮ হাজার ৭০০ টাকা পাওয়ার কথা কিন্তু মালিকপক্ষ তাকে দিচ্ছে ৯ হাজার ২০০ টাকার উপরে। অনেকেই মনে করছেন সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী তার মূল বেতন বাড়েনি কিন্তু সেটা সঠিক নয়। কারণ শ্রম আইন অনুযায়ী ওই শ্রমিকের বেতন প্রতি বছরই ইনক্রিমেন্ট হারে বেড়েছে। কিন্তু কিছু সংখ্যক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী যার বিদেশীদের অর্থের মদদে শ্রমিকদের উল্টাপাল্টা বুঝিয়ে বিপথগামী করছে। আমরা আশঙ্কা করছি শ্রমিকদেরকে ভুল বুঝিয়ে ওই স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী উস্কানীর মাধ্যমে শান্ত পরিস্থিতি অশান্ত করে তুলতে পারে। তাই এ বিষয়ে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন, গত নভেম্বরে রপ্তানীর গ্রোথ যেখানে ২০ শতাংশের উপরে ছিল ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশেই উস্কানীদাতাদের কারণে গার্মেন্ট শিল্পে অস্থীতিশীল পরিবেশের কারণে রপ্তানীর গ্রোথ ১৮ ভাগ কমে গেছে। তিনি আরো বলেন, সকল শ্রমিক খারাপ নয়। ৯৫ ভাগ শ্রমিকই কাজ করতে চায়। কিন্তু ৫ ভাগ শ্রমিক রয়েছে যারা বিপথগামী হয়ে থাকে।

শিল্প পুলিশ-৪ নারায়ণগঞ্জ জোনের পুলিশ সুপার মো: জাহিদুল ইসলাম জানান, নিয়মতান্ত্রিকভাবে যে কারোরই আন্দোলন করার অধিকার রয়েছে। তবে রাস্তা অবরোধ করে বিশৃঙ্খলা করলে কাউকেই ছাড় দেয়া হবেনা। আমরা এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া শ্রমিক আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলার বিষয়ে সরকারও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যেকোন অপ্রীতিকার পরিস্থিতি মোকাবেলায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, গার্মেন্টস সেক্টেরে কেউ অরাজকতা কিংবা নৈরাজ্য করে কোন ছাড় দেয়া হবে না। আমরা আমাদের অবস্থানে এখনও রয়েছি। ফলে অন্য জেলায় হলেও নারায়ণগঞ্জে শান্ত।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও

আরো খবর