ব্যবসায়ী ইসমাইল গুমের ৫ বছরে স্ত্রীর আর্তি : কংকালটা অন্তত দেন

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৪:১৫ পিএম, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বুধবার

ব্যবসায়ী ইসমাইল গুমের ৫ বছরে স্ত্রীর আর্তি : কংকালটা অন্তত দেন

নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেনকে অপহরণ ও গুমের ৫ বছর ৭ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার। আর এ ৫ বছর পূর্তিতে স্ত্রী জোসনা বেগম আক্ষেপ করে একথা বলেন, ‘‘আমার স্বামীকে জীবিত অথবা মৃতদেহটাই আমাদের কাছে ফিরিয়ে দাও আর যদি মৃতদেহ দিতে না পারো তার কঙ্কালটা আমাকে দাও আমি তাই নিয়ে অনেক দূরে চলে যাবো। একজন মানুষকে যখন অপহরণ করা হয়েছে আইনশৃংখলা বাহিনী প্রমাণ পেয়েছে তাহলে তার সন্ধান কেনো পাচ্ছেনা। আমি আমার স্বামীকে চাই।’’

জোসনা বেগম বলেন , অপহরণ ও গুমের ৫ বছর কিভাবে যে পার করেছি তা আল্লাহ জানে। যাদের সন্দেহ করেছি তারা অপহরণের পর থেকে আমাকে ও আমার ছেলেকে বিভিন্নভাবে হয়রানী করছে। আমার ছেলেকে হত্যায় ব্যর্থ হয়ে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করেছে।

জানাযায়, ২০১৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারী বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী এলাকা থেকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের মুখে ইসমাইলকে অপহরণ করে। আজও ইসমাইলের অপেক্ষায় স্ত্রী সন্তান সহ তার পরিবারের লোকজন দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। একের পর এক আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তেও ইসমাইলের কোন সন্ধান পায়নি তার পরিবার। বর্তমানে মামলাটি পুলিশের অপরাধ বিভাগকে (সিআইডি) তদন্ত করছে।

ইসমাইল অপহরণের পর ওই সময়কার র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক ইতোমধ্যে সাত খুনের ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত তারেক সাঈদের বিরুদ্ধে মুক্তিপণ বাবদ ২ কোটি টাকা দাবীর অভিযোগ তুলেছিলেন পরিবারের সদস্যরা।

বাদী পক্ষের আইনজীবী শাহ মাজহারুল জানান, কাঁচপুর কুতুবপুর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন ২০১৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারী বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী এলাকা থেকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের অস্ত্রের মুখে অপহরণ হয়। এঘটনায় কুতুবপুর এলাকার মোশারফ হোসেন, নাছির উদ্দিন, কাইয়ুম, মামুন, সেলিম ও কাউছারের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তারা অপহরণ করতে পারে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। ইসমাইল হোসেন অপহরণ মামলাটি প্রথমে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ তদন্ত করেছিল। পরে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে গত বছরের ৩০ আগস্ট প্রতিবেদন দাখিল করেছে। প্রতিবেদনে অপহণ হয়েছে দাবী করা হলেও আসামীদের জড়িত থাকার প্রমাণ পায়নি। এ চার্জশীটের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি প্রদান করেন বাদী অপহৃতের ছোট ভাই আব্দুল মান্নান। নারাজী আবেদন শুনানী শেষে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

মামলার বাদী অপহৃতের ছোট ভাই আব্দুল মান্নান জানান, মামলা দায়েরের কয়েকদিন পর সিদ্ধিরগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার প্রধান আসামী ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত নূর হোসেনের মাধ্যমে তৎকালীন সময় আদমজীনগর র‌্যাব-১১ এর সিও তারেক মোহাম্মদ সাঈদ মুক্তিপন হিসেবে দুই কোটি টাকা দাবী করেন। তাদের কাছে আমার ভাই ইসমাইল রয়েছে তার প্রমাণ হিসেবে এক সোর্সকে দিয়ে একটি চিরকুট পাঠায় তারেক সাঈদ। এরপর এক কোটি টাকা নিয়ে যাওয়ায় তারা ক্ষুদ্ধ হয়ে আজও ইসমাইলকে ফেরত দেয়নি।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও