নারায়ণগঞ্জে লবনের পর এবার মোম বাতিতে ক্ষতিকারক

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৮ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার

নারায়ণগঞ্জে লবনের পর এবার মোম বাতিতে ক্ষতিকারক

নারায়ণগঞ্জে একের পর এক মানবদেহের ক্ষতিকারক উপাদান ব্যবহারের খবর বেরিয়ে আসছে। কিছুদিন আগে লবনের বদলে কেমিক্যাল ব্যবহারের তথ্য বেরিয়েছে। সেই খবরের রেশ কাটতে না কাটতে মোম শিখায় এমন কেমিক্যাল ব্যবহারের তথ্য বেরিয়েছে যা মানুষের দেহের জন্য ক্ষতিকর। এমনকি মানবদেহের সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাধি ক্যান্সার পর্যন্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এসবই তৈরী হচ্ছে নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের ছোট ছোট কারখানায়।

শুল্ক ফাঁকি এবং সরকারের সব নিয়মনীতি উপেক্ষা করে অসাধু ব্যবসায়ীরা ক্ষতিকারক স্টিয়ারিক এসিড দিয়ে এসব কারখানায় দেদারছে মোমবাতি তৈরি করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। চিকিৎসকরা বলেছেন, এসব মোমবাতি ব্যবহার করে ক্যান্সারসহ নানা ধরনের জীবনবিনাশী রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুসহ এলাকাবাসী। পাশাপাশি সরকার হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব।

দেশে বিদ্যমান বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই মোমবাতির আলো নির্ভর হয়ে ওঠে দরিদ্রসহ সাধারণ মানুষ। এক সময় শুধু শহরের মানুষ মোমবাতি জ্বালিয়ে আলোর চাহিদা পূরণ করলেও এখন কেরোসিনে ভেজাল ও দাম বেশি হওয়ায় গ্রামের মানুষও মোমবাতির উপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের জন্য মোমবাতি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। ক্রমবর্ধমান মোমবাতির এই চাহিদার কারণেই ঢাকার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর মোমবাতি ছাড়াও স্থানীয় বৈধ ও অবৈধভাবে মোমবাতির কারখানা গড়ে উঠেছে।

এসব কারখানায় মোমবাতি তৈরির অন্যতম উপকরণ প্যারাফিন ওয়াক্স ব্যবহার করা হচ্ছে না। প্যরাফিন ওয়াক্সের শুল্ক কর ২৫ ভাগ হওয়ায় কারখানার মালিকরা তা ব্যবহার করছেন না। প্যারাফিন ওয়াক্সের বদলে এসব কারখানায় রাবার মসৃণ করার রাসায়নিক কেমিক্যাল স্টিয়ারিক এসিড ব্যবহার করা হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ করে। মোমবাতির প্যাকেটের গায়ে এই এসিডের পরিমাণ উল্লেখ করা হচ্ছে না। লেখালেখির ঝামেলা থেকে বাঁচতে সাদা প্যাকট ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এসব মোমবাতির প্যাকেটে কোনো ট্রেড নম্বর নেই। মাননিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত বিএসটিআইয়ের কোনো তথ্যও নেই। উৎপাদন উপকরণের ব্যাপারেও কোনো তথ্য নেই প্যাকেটের গায়ে।

কেমিস্টরা জানিয়েছেন, স্টিয়ারিক এসিড ব্যবহারের ফলে মোমবাতি কম গলে, ধোয়া দেখা যায় না এবং আলো বেশি হয়। ফলে এই তিনটিকে চুম্বক গ্যারান্টি হিসেবে জাহির করে এসব কারখানার উৎপাদিত মোমবাতি বাজারজাত করা হচ্ছে অনায়াসেই। সচেতনতার অভাবে সাধারণ মানুষ তা ক্রয় করছেন দেদারছে। কিন্তু এসব মোমবাতির আলোর কারণে মানুষ ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ধরণের জীবনবিনাশী রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। পরিবেশের উপর পড়ছে মারাত্মক বিরূপ প্রভাব।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা: মো: আজিজুর রহমান সিদ্দিকী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন স্টিয়ারিক এসিড দিয়ে তৈরি উৎপাদিত মোমবাতি মূলত এক ধরনের এসিড মোমবাতি। ১০ ভাগের বেশি স্টিয়ারিক এসিড দিয়ে তৈরি মোমবাতির আলোতে প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে কাজ করলে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এ ছাড়াও আ্যজমা বা হাপানি, ব্রংকাইটিস, অন্ত্রের প্রদাহ, চোখের ক্ষত, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস, নাকের ক্ষত, ত্বকের প্রদাহ ও দেহের বিভিন্ন অংশে ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায় বলে তিনি দাবি করেন।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও