জরিমানা হলেও সেবার মান বাড়ছে না রেস্টুরেন্ট ক্লিনিকে

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৪ পিএম, ৬ মার্চ ২০১৯ বুধবার

জরিমানা হলেও সেবার মান বাড়ছে না রেস্টুরেন্ট ক্লিনিকে

নারায়ণগঞ্জে কয়েকদিন পর পরেই অভিযান পরিচালিত হয়। এসব অভিযানে হাজার থেকে লাখ ছাড়িয়ে যায় জরিমানার অঙ্ক। কোথাও কোথাও জরিমানার টাকা না পেলে আটক করা হয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের। তবে যারা দোষী তারা খালাস পেয়ে যায় যেন তেন ভাবে। কাজের কাজ কিছু হয় না বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা।

তাদের দাবি, যে সব প্রতিষ্ঠান এসব জরিমানা গুনে তারা জরিমানা সুদে আসলে আবার ভোক্তাদের কাছ থেকে তুলে নেয়। যার কারণে এরা কোন কিছুই পরোয়া করে না। যতই তাদের জরিমানা করা হউক না কেন তারা তা পরিশোধ করতে দ্বিধা করে না। কারণ তার পুরোটাই তারা কয়েক দিনের মাথায় উঠিয়ে নিতে পাড়ে।

বিশেষ করে যে সব প্রতিষ্ঠান এমন জরিমানায় পড়েছে তারা একবার দুইবার নয় কয়েকবার এমন জরিমানা দিয়ে রেহাই পেয়েছে। তার পরও তাদের প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালালেই মিলে ত্রুটি। এসব ত্রুটি কোন ভাবেই শেষ হয় না। তারা কোন ভাবেই সংশোধন হন না।

তার পরও অভিযান চলছে এবং জরিমানা আদায় হচ্ছে। যার যেই কাজ সে সেই কাজ করছেন। অথচ কাজের কাজ কোন কিছুই হচ্ছে না। পরিবর্তন বা সংশোধন কোন কিছুই হচ্ছে না।

খাবার হোটেলে অভিযান চলছে। চলছে হাসপাতালগুলোতে অভিযান। বিভিন্ন দোকানে এমনকি নামকরা শো-রুমগুলোতেও অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সুগন্ধা বেকারী এবং রেস্টুরেন্ট, মেগা সপ স্বপ্ন, মিষ্টির দোকান প্রাণ বল্লভ, সোনারগাঁ মিষ্টান্ন ভান্ডার, সিদ্ধিরগঞ্জের মা হাসপাতাল, সুগন্ধা হাসপাতালসহ অনেক মুদি দোকান, কারখানা, গোস্তের দোকান গুলোতে এর বাইরে যায়নি বিভিন্ন পরিবহন। এক কথায় অভিযান যেমন চলছে ঠিক তেমনি চলছে জরিমানার বিধানও। আর একই তালে চলছে দোষীদের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার পথ।

মেহের বানু বলেন, জেল-জরিমানা করা হয় দোষীদের ভয় এবং আতঙ্কে রাখার জন্য। কিন্তু তারা এর কোন তোয়াক্কা করেন না। তাই তাদের একে একে কয়েকবার জরিমানা করা হলে পরের বার লাইসেন্স প্রত্যাহার করা দরকার। তাহলে তারা এক সময় সংশোধন হবে না হয় তারা শেষ হয়ে যাবে। এমন করলে সুফল পাওয়া যাবে বলে মনে করেন তিনি।

উল্লেখ্য ফায়ার লাইসেন্স ও অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র না থাকায় নারায়ণগঞ্জে বেসরকারি দুটি চিকিৎসা সেবার প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ সিএনজি গ্যাসের সিলিন্ডার রান্নার কাজে ব্যবহার করায় একটি খাবার হোটেলকে আরো ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

৫ মার্চ মঙ্গলবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু সড়কের নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এমডি শামসুল আরেফিন এবং কামরুল ইসলাম মারুফের নেতৃত্বে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা আছে কিনা, অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রের মেয়াদ আছে কিনা এবং ফায়ার লাইসেন্স আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হয়।

সুগন্ধা প্লাস হোটেলে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার না করে গাড়িতে ব্যবহৃত ঝুঁকিপূর্ণ সিএনজি গ্যাসের সিলিন্ডার রান্নার কাজে ব্যবহার করায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এর আগেও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং তাদের মোটা অঙ্কের টাকা জরিমান করা হয়েছে। তার পরও তারা কোন রকম সংশোধন হচ্ছে না।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও